মুর্শিদাবাদের তিনটি পুজো বৃহস্পতিবার উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই গিয়েই তিনি সতর্ক করলেন পুলিশ-প্রশাসনকে। তাঁর কথায়, অনেকে পুজোর আনন্দ মাটি করতে চাইছে। তাই সজাগ থাকতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী এ-ও জানান যে, রাজ্যে পালাবদলের পরে ‘স্পর্শকাতর’ মুর্শিদাবাদে পুজোর সংখ্যা বেড়েছে। উৎসবের শুরুতে মু্র্শিদাবাদে গঙ্গা ভাঙন রোধ এবং বেকারদের কর্মসংস্থান নিয়ে পদক্ষেপ করারও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জানিয়েছেন, রাজ্যে পালাবদলের পরে সীমান্ত সংলগ্ন মুর্শিদাবাদে গরু, মাদক চক্রেও রাশ টানা গিয়েছে।
রেজিনগরে নির্বাচনী প্রচারে লজেন্স কুড়োতে গিয়ে মৃত শিশু জেসমিনার মাকে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দিয়েছেন শুভেন্দু। সেই সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন আগেই। মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণে রেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল তিন জনের। তাঁদের পরিবারগুলিকেও সরকারি চাকরি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মুর্শিদাবাদের তিনটি পুজোর উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। প্রথমে তিনি মুর্শিদাবাদের লালবাগ বুধাসপারা সর্বজনীন দুর্গোৎসবের উদ্বোধন করেন তিনি। ওই পুজো রাজ্যের মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষের বলে পরিচিত। সেখানে দাঁড়িয়েই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘পুজোর আনন্দ মাটি করার চক্রান্ত হতে পারে।’’ সেই নিয়ে পুলিশ এবং প্রশাসনকে কড়া বার্তা দেন তিনি। বুধাসপাড়া থেকে তিনি চলে যান বহরমপুরে। বহরমপুর স্টেডিয়ামে নেমে সড়কপথে গাড়িতে চেপে যান বাবুলবোনা দুর্গোৎসব কমিটির পুজোয়। সেখানে উদ্বোধন করে বহরমপুর বানজেটিয়া পূর্বাশা প্রগতি ওয়েলফেয়ার সোসাইটির পুজোয় যান। ওই পুজো রেজিনগরের বিধায়ক শাখারভ সরকারের পুজো বলে পরিচিত। সেই পুজোরও উদ্বোধন করেন তিনি।
লালবাগের পুজো মণ্ডপ থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পরিবর্তনের পরে রাজ্যে নতুন সরকার আসার পরে থেকে নতুন পুজোর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে যেখানে রাজ্যে ৪৫ হাজার পুজো হয়েছিল, এবার সেখানে ৫৮ হাজার পুজোকে অনুদান দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সমস্ত পুজো কমিটির বিদ্যুতের খরচ মকুব করা হয়েছে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দমকলের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। শুভেন্দু জানিয়েছেন, একসময় ‘স্পর্শকাতর’ মুর্শিদাবাদ জেলায় এবার ৮০০-র বেশি নতুন পুজো অনুমোদন পেয়েছে। সে জন্য তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।
জেলার আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘সম্প্রতি জেলার দু’টি পুজোমণ্ডপে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, যার তদন্ত চলছে। তাই পুজোয় যাতে কোনও ধরনের দুর্ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা না ঘটে, তার জন্য পুলিশ-প্রশাসন ও পুজো কমিটিগুলিকে আগে থেকেই অত্যন্ত সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’’
আরও পড়ুন:
শুভেন্দুর আশ্বাস, মুর্শিদাবাদ জেলার বেকার যুবকেরা আগামী দিনে চাকরি পাবেন। মুর্শিদাবাদের অন্যতম বড় ‘অভিশাপ’ গঙ্গাভাঙন রোখার কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে। আগামী ২৭ অক্টোবর এই বিষয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও রয়েছে। পাশাপাশি, লালবাগের একটি ঐতিহাসিক ঝিল সংস্কার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নতির কথাও ঘোষণা করেন তিনি।
সীমান্তবর্তী এই জেলায় অপরাধ দমন ও সামাজিক ব্যাধি দূর করার বিষয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছে তাঁর সরকার, জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘এখন গরু এবং নেশার সামগ্রী পাচার প্রায় বন্ধ হয়েছে।’’ তিনি ‘নেশামুক্ত পশ্চিমবঙ্গ’ ও ‘নেশামুক্ত মুর্শিদাবাদ’ গড়ার ডাকও দেন। মুর্শিদাবাদে নাবালিকার বিবাহের হার গোটা রাজ্যে সবচেয়ে বেশি। সেই নিয়েও কঠোর বার্তা দিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, বাল্যবিবাহ রুখতে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। এই নিয়ে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন হওয়ার বার্তা দেন তিনি।