ত্রিভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে তৃণমূল। বছরের বেস্ট সন্ধ্যা তিন পক্ষকেই বসাল কাছাকাছি, এবং পাশাপাশিও। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে রাজ্যের নতুন শাসকদল বিজেপির নেতানেত্রীরাও এক মঞ্চে রইলেন কংগ্রেস, সিপিএম এবং ভাগ হয়ে যাওয়া তৃণমূলের তিন শিবিরের সঙ্গে।
বছরের বেস্ট সন্ধ্যায় ধাপে ধাপে এলেন কুণাল ঘোষ-কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এলেন শতাব্দী রায়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য-মদন মিত্র-ফিরহাদ হাকিমেরাও এলেন একে একে। এক দল কালীঘাটপন্থী, এক দল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে এখন এনসিপিআই (ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া)। এক দল মমতার দিকে আঙুল তুলে বিধায়ক ঋতব্রতের সঙ্গী হয়েছেন।
মঞ্চে তখন চলছে বছরের বেস্ট অনুষ্ঠান। দর্শকাসনে রাজনীতিকেরা। — নিজস্ব চিত্র।
রাজনীতির ময়দানে যাঁদের আকচাআকচি চলছে, তাঁদের সকলকে দেখা গেল এক ছাদের তলায়। অতটা মুখোমুখি না হলেও সকলেই ছিলেন স্বতঃস্ফূর্ত। কারও মধ্যে কোনও আড়ষ্টতা ছিল না। এক টেবিলে না হলেও সকলে এক প্রেক্ষাগৃহে বসে দেখলেন অনুষ্ঠান। ফাঁকে ফাঁকে চলল সৌজন্য বিনিময়।
আরও দুই রাজনীতিক উপস্থিত ছিলেন বছরের বেস্ট সন্ধ্যায়। অভিনেতা তথা ঘাটালের সাংসদ দেব এবং রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ব্রাত্য বসু। কিন্তু তাঁদের কথা এখানে বলা যাবে না। কারণ, দেব অনুষ্ঠানে পুরষ্কৃত হয়েছেন। ব্রাত্য অনুষ্ঠানের উপস্থাপক। তাই তাঁদের ওই বন্ধনীতে না ফেলাই বোধ হয় ভাল।
আরও পড়ুন:
বছরের বেস্ট সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফিরহাদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করলেন কুণাল। এই অনুষ্ঠানের বাইরে তাঁরা পরস্পরকে কটাক্ষ করছেন, করে যাবেন হয়তো। কিন্তু এই মঞ্চে শুধুই সৌজন্য। দেবের পিঠে হাতে দিয়ে সৌজন্য বিনিময় করতে দেখা গেল মমতাপন্থী কল্যাণকে।
কেউ কেউ বলছেন, বছরের বেস্টের পরিবেশ এমন, যেমনটা ছিল অতীতে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবেশ। রাজনীতি ছিল রাজনীতির জায়গায়, সৌজন্য সৌজন্যের। সেখানে সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের সঙ্গে দেখা হলে হেসে সৌজন্য বিনিময় করতে দেখা যেত জ্যোতি বসুকে। বলা হয়, বঙ্গ রাজনীতির সেটাই ছিল মধুর দিক। গত কয়েক বছর রাজ্যের রাজনীতিতে সেই ছবি তেমন একটা দেখা যেত না বলেই মত অনেকের।
এমনিতে দুই মেরু! তবে বছরের বেস্ট-এ পাশাপাশি সজল ঘোষ আর মদন মিত্র। — নিজস্ব চিত্র।
বিজেপির শমীক ভট্টাচার্য, স্বপন দাশগুপ্ত, অগ্নিমিত্রা পাল, লকেট চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতির্ময় মাহাতো, শশী অগ্নিহোত্রী, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে সৌজন্য বিনিময় করতে দেখা গেল তৃণমূলের নেতা, সিপিএমের মহম্মদ সেলিম, কংগ্রেসের শুভঙ্কর সরকারের সঙ্গে। সেখানে তিক্ততার কোনও আভাস নেই। পরস্পরকে দেখে তাঁদের মধ্যে কোনও অস্বস্তিও ধরা পড়েনি। রাজনৈতিক তিক্ততা, মতাদর্শগত ফারাক থাকলেও সৌজন্য ভুলে যাওয়া যে উচিত নয়, তা দেখাল বছরের বেস্ট।
কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাজ্যের বর্তমান মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। — নিজস্ব চিত্র।
আরএসএসের পূর্ব ভারত ক্ষেত্রের সহ-প্রচারপ্রমুখ জিষ্ণু বসুও ছিলেন অনুষ্ঠানে। তাঁর সঙ্গে শুধু বিজেপি নেতাদের নয়, কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিএমের নেতাদেরও অবাধ সৌজন্য বিনিময় করতে দেখা গিয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই অভীক সরকার বলেন, ‘‘এই অনুষ্ঠানকে সযত্নে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রেখেছি। এক মঞ্চ সব পক্ষ।’’ অনুষ্ঠান জুড়ে তা-ই প্রমাণিত হল বারংবার।