Advertisement
E-Paper

এসআইআরের আগের তালিকা মেনে করানো হোক পুরভোট! সর্বদল বৈঠকে কমিশনের কাছে দাবি বিরোধীদের

কালীঘাটপন্থী তৃণমূল, সিপিএম, কংগ্রেসের প্রশ্ন, ট্রাইব্যুনাল যাঁদের নাম উঠল না, তাঁদের ছাড়া কী ভাবে এই ভোট করানো হবে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৭:০৮

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

কলকাতা এবং হাওড়ায় পুরভোট আসন্ন। তার আগে মঙ্গলবার আলিপুরে সর্বদল বৈঠকে বসল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি বিরোধী দলগুলির বক্তব্য শুনেছে কমিশন। একটি সূত্র বলছে, কালীঘাটপন্থী তৃণমূল, সিপিএম, কংগ্রেস দাবি তুলেছে, এসআইআর (ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন)-এক আগে যে ভোটার তালিকা ছিল, তা দিয়েই আসন্ন ভোট করানো হোক। তাঁদের অভিযোগ, এসআইআরের কারণে অনেক বৈধ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। সেই কারণে সাম্প্রতিক তালিকা মেনে ভোট করানো উচিত নয়। তবে বৈঠকে উপস্থিত ছিল না ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-পন্থী তৃণমূল।

রীতি মেনে আসন্ন পুরভোটের আগে সর্বদল বৈঠকে বসেছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সেখানেই বিরোধীরা দাবি তুলেছে, এসআইআরের আগে যে ভোটার তালিকা ছিল, তা দিয়েই ভোট করানো হোক। এসআইআরের পরে ভোটার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। কালীঘাটপন্থী তৃণমূল, সিপিএম, কংগ্রেসের প্রশ্ন, ট্রাইবুনালে যাঁদের নাম উঠল না, তাঁদের ছাড়া কী ভাবে এই ভোট করানো হবে।

ভোটার তালিকার বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধনের প্রক্রিয়া চলছে। প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, খসড়া তালিকা ১২ নভেম্বর এবং চূড়ান্ত তালিকা ২০২৭ সালের ৪ জানুয়ারি প্রকাশের কথা। (রিভিশন) হয়। কমিশন জানিয়েছিল, জুলাই পর্যন্ত যাঁদের নাম তালিকায় উঠেছে, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। কমিশনের সূত্র বলছে, ভোটার তালিকা তৈরি করে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। সাম্প্রতিকতম তালিকা অনুসারেই ভোট পরিচালনা করানো হবে। ভোট যদি নভেম্বরে হয়, তা হলে সাম্প্রতিকতম তালিকা হিসাবে অক্টোবরেরটি গ্রহণযোগ্য হবে।

কিছু দিন আগেও পরিকল্পনা ছিল, নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট করিয়ে ডিসেম্বরের গোড়াতেই গণনা ও নতুন পুরবোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। কিন্তু ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের পরে ভোটার তালিকা তৈরির কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা নিয়ে সংশয় দেখা দেওয়ায় সেই পরিকল্পনা কার্যত ধাক্কা খেয়েছে। ডিসেম্বরের আগে ভোট হওয়া এখন প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করছেন প্রশাসনের অভিজ্ঞ কর্তারা।

রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরে কলকাতা পুরসভার একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রশাসকের কার্যকালের মেয়াদ শেষ করে নির্বাচিত পুরবোর্ডের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে।

কমিশন সূত্রের খবর, খসড়া ভোটার তালিকা তৈরির জন্য প্রথমে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে ভোটার-তথ্যের তথ্যভান্ডার নিতে হয়। ১ জুলাইকে ভিত্তি ধরে সেই তথ্য চেয়েছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। নির্দিষ্ট সময়ে তথ্য হাতে এলেও ওয়ার্ড ও বুথের পরিবর্তনের সঙ্গে তা মিলিয়ে তালিকা প্রস্তুত করা সহজ হচ্ছে না। কলকাতা পুরসভার মোট প্রায় ৪৫০০ বুথের মধ্যে মাত্র ১০০টি বুথ ভাঙতে হয়েছে। তা সত্ত্বেও নতুন ওয়ার্ডের সীমানা অনুযায়ী ভোটারদের সঠিক ভাবে চিহ্নিত করে তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ বেশ জটিল বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তারা। পুজোর মধ্যেও সেই কাজ চালিয়ে যেতে হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কর্মীর অভাব। বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) উপর বর্তমানে জনগণনার কাজের চাপ রয়েছে। পুরভোটের জন্য তাঁদের দায়িত্ব বণ্টনের প্রক্রিয়াও এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে সব রকম চেষ্টা চালিয়েও ৩ নভেম্বরের মধ্যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এর আগে দু’বার সময়সীমা পিছিয়েছে কমিশন। এ বারও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে ভোটার-তথ্য পেতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে ১ অক্টোবর পর্যন্ত তথ্যভান্ডার চেয়ে পাঠিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। তবে ওই তথ্য হাতে পেতে এবং তার ভিত্তিতে তালিকা প্রস্তুত করতে আরও সময় লাগবে। ফলে ভোটের প্রস্তুতিতে নতুন করে বিলম্বের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy