আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে কোন কোন ওষুধ শুক্রবার ছিল না, তার তালিকা প্রকাশ করল ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট (ডব্লিউবিজেডিএফ)। রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো, জরুরি সামগ্রীর অভাব-সহ একাধিক অভিযোগ তুলেছে তারা। পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ও।
ডব্লিউবিজেডিএফ তাদের বিবৃতিতে বলেছে, একটি সচল সরকারি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের ন্যূনতম প্রয়োজনীয় উপকরণ হল স্টেরাইল গ্লাভস, সূঁচ, সিরিঞ্জ, অ্যান্টিসেপটিক সলিউশন। তাদের অভিযোগ, হাসপাতালে যদি এই ধরনের প্রাথমিক সামগ্রীও পাওয়া না যায়, তা হলে অস্ত্রোপচার ও অ্যানেস্থেশিয়ার পরিষেবা কী ভাবে চলবে? জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় ওষুধ না থাকলে চিকিৎসকেরা কী নিয়ে রোগীর চিকিৎসা করবেন? তাদের প্রশ্ন, এটা কি নিছক প্রশাসনিক ব্যর্থতা, নাকি সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ক্রমশ দুর্বল করে বেসরকারি চিকিৎসার বাজার আরও প্রসারিত করার এক বিপজ্জনক প্রবণতা?
ডব্লিউজেডিএফ-এর দাবি, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের এই তালিকার মতো উদাহরণ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালগুলিতে।
অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, “যদি কোথাও কোনও প্রয়োজনীয় জিনিসের সরবরাহ না থাকে, তবে সে বিষয়ে আধিকারিকদের বলা হয়েছে”। তিনি জানান, প্রত্যেকটি হাসপাতালের অধ্যক্ষকে ৫০ লক্ষ এবং এমএসভিপিকে ৫০ লক্ষ টাকা করে দেওয়া আছে। আগে ১০ লক্ষ টাকা করে মোট ২০ লক্ষ টাকা দেওয়া হতো। এখন প্রয়োজন মেটাতে মোট ১ কোটি টাকা করে হাসপাতালগুলিতে বরাদ্দ করা আছে। সুতরাং সরবরাহ নেই এমন ওষুধ ও মেডিক্যাল পণ্যের তালিকা (এনএ লিস্ট) বার করে লাভ নেই।
রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে হাসপাতালের এনএ তালিকাগুলির দিকে নজর দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ডব্লিউজেডিএফ। কোন জিনিসগুলি নেই, কেন নেই, কবে সেগুলি পাওয়া যাবে— তার স্পষ্ট উত্তর চেয়েছে তারা।
সংবাদমাধ্যমে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর একটি বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে ওই সংগঠন উষ্মা প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে উল্লেখ, “চোরবাগান কাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে এবং সরকারি হাসপাতালগুলিতে ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রীর ঘাটতির তথ্যপ্রমাণ জনসমক্ষে তুলে ধরে যারা স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নতির দাবি জানাচ্ছে, তাদের কথায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দিতে চান না। বরং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথায়, তাঁরা নাকি মাওবাদী ডাক্তার! আর তাঁদের অভিযোগ নাকি সবই মিথ্যে।” এ প্রসঙ্গে পূর্বতন সরকারের স্বাস্থ্য তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকেও এ রকম কথা তাঁরা শুনেছেন বলে জানিয়েছেন ওই সংগঠনের সদস্যেরা।
আরও পড়ুন:
জুনিয়র ডাক্তারদের প্রেস কনফারেন্সের তিন দিন পরে, অর্থাৎ ৩০ অক্টোবর আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের নিজস্ব এনএ লিস্ট প্রকাশ করে ডব্লিউজেডিএফ। প্রকাশ করা তালিকা অনুযায়ী, অস্ত্রোপচার ও অ্যানেস্থেশিয়া করার জন্য স্টেরাইল গ্লাভস, সূঁচ, সিরিঞ্জ, অ্যান্টিসেপটিক সলিউশন-সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী নেই। তা ছাড়া নানা মাপের এন্ডোট্রেশিয়াল টিউব, অক্সিজেন মাস্ক, নেবুলাইজেশন মাস্ক, কোলোস্টোমি ব্যাগ-সহ জরুরি সামগ্রীও নেই।
শুধু সামগ্রী নয়, তালিকায় রয়েছে কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওষুধেরও নাম। মেফেনটারমিন (অ্যানেস্থেশিয়ার সময় রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে গেলে তা সামলাতে ব্যবহৃত হয়), ম্যাগনেসিয়াম সালফেট (প্রসূতি চিকিৎসায়, বিশেষত এক্লাম্পসিয়া -তে খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ)। এগুলি কোনও ঐচ্ছিক ওষুধ নয়, নির্দিষ্ট জরুরি পরিস্থিতিতে সময়মতো না পাওয়া গেলে রোগীর চিকিৎসা গুরুতরভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে দাবি ডব্লিউজেডিএফ-এর।
শারদ্বত অবশ্য জানিয়েছেন, কোনও ওষুধ বা প্রয়োজনীয় জিনিস ফুরিয়ে যাওয়ার আগে তা হাসপাতালের অধ্যক্ষ এবং এমএসভিপি-কে জানানো প্রয়োজন। কী কী দরকার তার একটি তালিকা তৈরি করে অন্তত একমাস আগে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তা হলে আধিকারিকদের এবং স্টোরের দায়িত্বে যাঁরা থাকেন, তাঁদের সঙ্গেও একটি স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।