বক্সার জঙ্গলে ছাড়া বাঘিনি সীমানা পেরিয়ে অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে চলে গিয়েছে। এ বার তাকে ফেরানোর তোড়জোড় শুরু করল পশ্চিমবঙ্গের বন দফতর। বিষয়টি নিয়ে অসমের বন আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলতে শনিবার সে রাজ্যে পৌঁছোন পশ্চিমবঙ্গের বন প্রতিমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ। সেখানে তিনি কথা বলেন রাইমোনা অভয়ারণ্যের দায়িত্বে থাকা বন দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে। পরে তিনি বলেন, ‘‘বাঘিনিটিকে উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং অসম সরকারও বিষয়টি নিয়ে ‘জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ’কে (এনটিসিএ) চিঠি দিয়েছে। অনুমোদন পেলেই আমরা উদ্ধার অভিযান শুরু করব। মুখ্যমন্ত্রীকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে, তিনিও উদ্বিগ্ন। রাজ্য ও কেন্দ্রের সমন্বয়ে আশা করছি দ্রুতই অনুমতি মিলবে।’’
বাঘিনির বর্তমান অবস্থান নিয়ে মনোজ বলেন, ‘‘যে এলাকায় বাঘিনিটি অবস্থান করছে, সেটি প্রায় ৩০-৩৫ হেক্টরের একটি বাঁশঝাড়। তার পাশেই রয়েছে জনবসতি, ফলে এলাকাটি বেশ সংবেদনশীল। তবে গত দু’দিন ধরে সে ওখানেই রয়েছে। কালকের মধ্যে সময় ও অনুমতি পেলে আশা করছি ওখান থেকেই তাকে উদ্ধার করে পুনরায় বক্সায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।’’ গত ২ অক্টোবর বক্সার জঙ্গলে বাঘিনিটিকে ছাড়া হয়েছিল। তারপর থেকেই তার গতিবিধির উপর নজর রাখছিলেন বনকর্মীরা। সম্প্রতি তার গতিবিধিতে বদল লক্ষ্য করা যায় এবং জানা যায় যে, সে সীমানা পেরিয়ে অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে পৌঁছে গিয়েছে। এর পরেই নজরদারি আরও জোরদার করা হয়। উত্তরবঙ্গ থেকে বাঘ সংক্রান্ত কাজে অভিজ্ঞ আধিকারিকদের একটি দলকে অসমে পাঠানো হয়। শনিবার কুমারগ্রাম হয়ে অসমে যান বনমন্ত্রী নিজেও।
আরও পড়ুন:
বাঘিনিকে উদ্ধারের প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘বাঘিনিকে ধরার সব রকম প্রস্তুতি সারা। ট্র্যাঙ্কুলাইজ (ঘুমপাড়ানি গুলি) করা হবে, না জাল ফেলা হবে— তা পরিস্থিতি অনুযায়ী স্থির হবে। বন দফতর সম্পূর্ণ প্রস্তুত। অনুমতি এলেই দু’-এক দিনের মধ্যে অভিযান সফল হবে বলে আমরা আশাবাদী।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘যেখান থেকে ছাড়া হয়েছিল সেখান থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার ঘুরেছে সে। তবে উদ্বেগের বিষয় হল, সে ধীরে ধীরে লোকালয়ের কাছাকাছি চলে এসেছে। সম্ভবত অন্য কোনও বাঘের গন্ধ পেয়ে সেদিকে এগিয়েছে। বিগত আট-দশ দিন ধরে সে লোকালয় বাঁচিয়েই চলছিল, তবে সামনেই দীপাবলি। শব্দবাজির কারণে লোকালয়ে সংঘাতের আশঙ্কা থাকছে। তাই পশ্চিমবঙ্গ ও অসম— দুই রাজ্যের শীর্ষ বনকর্তারা যৌথ ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বাঘিনিটিকে উদ্ধার করে দ্রুত বক্সায় পুনর্বাসন দেওয়া হবে।’’
বক্সা ছেড়ে বাঘিনির অসমে চলে যাওয়ার আচরণ প্রসঙ্গে বলিউডি গানের উল্লেখ করে বনমন্ত্রী জানান, পশুপাখির জন্য ভৌগোলিক সীমানার কোনও বাধা থাকে না।