প্যালেস্টাইনি বন্দিদের পালানোর প্রবণতা ঠেকাতে এ বার পরিখা দিয়ে ঘেরা জেলখানা নির্মাণ করবে ইজ়রায়েল। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ওই পরিখায় ছাড়া হবে কুমির!
ইজ়রায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির কয়েক দিন আগে এই পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছিলেন। শুক্রবার ইজ়রায়েলের পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ক মন্ত্রী ইদিত সিলমান জানিয়েছেন, কারাগারের পরিখায় নীলনদের কুমির (নাইল ক্রোকোডাইল) রাখার প্রস্তাব বাস্তবায়িত করতে উদ্যোগী হয়েছে নেতানিয়াহু সরকার। এই উদ্দেশ্যে সে দেশের ‘সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী’র তালিকা থেকে নীলনদের কুমিরকে সরিয়ে নতুন একটি আইনি শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন এই আইনি মর্যাদার ফলে নির্দিষ্ট শর্তে নিরাপত্তা সংস্থা বা জেলখানা কর্তৃপক্ষ নীলনদের কুমির পুষতে পারবেন।
আরও পড়ুন:
তেল আভিভের এই পদক্ষেপ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। নেতানিয়াহুর সরকারের অন্দরে ‘কট্টর দক্ষিণপন্থী’ হিসাবে পরিচিত গাভির এবং ইদিত। অতীতেও তাঁদের বিরুদ্ধে প্যালেস্টাইনি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নানা অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। প্রসঙ্গত, পৃথিবীতে কুমিরের মোট ২৬টি প্রজাতি রয়েছে। এর মধ্যে ‘মানুষখেকো’ হিসেবে কুখ্যাতি রয়েছে দু’টি প্রজাতির— সুন্দরবন-সহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নোনাজলের কুমির (সল্ট ওয়াটার ক্রোকোডাইল বা এসচুরাইন ক্রোকোডাইল) এবং আফ্রিকার নীলনদ এবং তার শাখা ও উপনদীগুলির বাসিন্দা নাইল ক্রোকোডাইল। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-র তরফে জানানো হয়েছিল, বাংলাদেশ সীমান্তে যে সব নদী তীরবর্তী এলাকায় বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়, অনুপ্রবেশ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের জন্য সে সব জায়গায় সাপ এবং কুমির ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে সমীক্ষা করা হবে।