মায়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী আউং সান সুচির সঙ্গে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ করার অনুমতি দিল মায়ানমার সরকার। প্রশাসনিক রাজধানী নেপিদ-তে নোবেলজয়ী সু চির সঙ্গে রেড ক্রসের প্রতিনিধিরা বৈঠক করেছেন বলে মায়ানমারের সামরিক জুন্টা সমর্থিত নির্বাচিত সরকার জানিয়েছে। রেড ক্রসের প্রকাশিত একটি ছবিতে গৃহবন্দি সু চিকে কেক কাটতেও দেখা গিয়েছে। ৮১তম জন্মদিন উপলক্ষেই ওই কেক কাটার অনুষ্ঠান বলে মনে করা হচ্ছে।
মায়ানমার সরকারের মুখপাত্র খাইন সোয়ে সংবাদসংস্থা জানিয়েছে, আরনো দ্য বেকের নেতৃত্বাধীন আইসিআরসি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সম্প্রতি সাক্ষাৎ করেছেন সু চি। কয়েক বছর ধরে জেলবন্দি সু চির সঙ্গে কাউকে সাক্ষাৎ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা সংশয় তৈরি হয়েছিল দেশে-বিদেশে। প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে সু চির রাজনৈতিক দল ‘ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি’ বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে মায়ানমারে ক্ষমতা দখল করে। কিন্তু ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির গোড়ায় সে দেশের সেনাবাহিনী অভ্যুত্থান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। সু চি ও তাঁর সহযোগী নেতাদের গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় একের পর এক মামলা। মায়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকারী এবং আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত ছিল, গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত সু চিকে অসাংবিধানিক ভাবে ক্ষমতাচ্যুত করার বিষয়টিকে বৈধতা দিতেই এই পদক্ষেপ করেছিল দেশের সামরিক জুন্টা সরকার।
গত ছ’বছরে সু চির ঘনিষ্ঠতম সহযোগী গণতন্ত্রকামী নেতা হিয়ো জ়ায়ার থায়ো-সহ ‘ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি’-র একাধিক সদস্যের মৃত্যুদণ্ডের সাজাও কার্যকর করে জুন্টা সরকার। সু চি-কে ২০২১ সাল থেকে সন্ত্রাসবাদে মদত, ভোটে কারচুপি, রাষ্ট্রের গোপন কথা ফাঁস, হিংসায় উস্কানি-সহ বিভিন্ন মামলায় মোট ২৭ বছরের জেলের সাজা দেওয়া হয়। চলতি বছরের গোড়ায় সামরিক জুন্টার প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বে নতুন নির্বাচিত সরকারের শপথের পরেই বড় পদক্ষেপ করা হয়। সু চি-র কারাদণ্ডের মেয়াদ কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচিত সরকার। এ ছাড়া ৪৩৩৫ বন্দির জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা এবং মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অপরাধীদের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ারও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। নতুন সরকারের সিদ্ধান্ত— সাজার মেয়াদ কমিয়ে এক-ষষ্ঠাংশ (সাড়ে চার বছর) করা হবে। তার পরেই জল্পনা ছিল, দ্রুত সু চিকে মুক্তি দেওয়া হতে পারে। কারণ, ইতিমধ্যেই ‘নবনির্ধারিত’ সাজার মেয়াদ পার করে ফেলেছেন তিনি। নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী সু চিকে আপাতত গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে বলে তাঁর অনুগামীরা জানিয়েছেন।