পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত থামছে না। কোনও এক দিকে যুযুধান দুই শিবির সাময়িক ভাবে শান্ত হলে অন্য দিকে মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে অশান্তি। শনিবার ফের নিশানা করা হয়েছে সৌদি আরবকে। দেশটির রাজধানী রিয়াধে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা হয়েছে। নেপথ্যে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত গোষ্ঠী হুথি। সৌদিতে আক্রমণের কথা তারা স্বীকার করে নিয়েছে। তাদের সঙ্গে সৌদির সাম্প্রতিক সংঘাতে এই প্রথম নিশানায় এল রাজধানী রিয়াধ।
সৌদির রাজধানী শহরের মূল বিমানবন্দরের কাছেই শনিবার হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ। ওই এলাকায় আগুন এবং বিরাট ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গিয়েছিল। তেলের ট্যাঙ্কারের কাছে ড্রোন আছড়ে পড়েছিল বলে অনেকে দাবি করেন। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হুথি জানায়, রিয়াধে হামলা চালানো হয়েছে। তবে তাদের নিশানায় কী ছিল, তেলের ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করেনি ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী। এর পর রাতে রিয়াধ জুড়ে সতর্কতা জারি করে দেয় সৌদি সরকার। বাসিন্দাদের জানিয়ে দেওয়া হয়, রাজধানীতে হামলার সম্ভাবনা রয়েছে। সকলে যেন বাড়তি সতর্ক থাকেন। রবিবার সকালে আবার সতর্কতা তুলে নেয় প্রশাসন। সৌদির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাহায্যে ইয়েমেন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিছু জানানো হয়নি। হুথিদের দাবি, ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হামলার জবাবে রিয়াধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে তারা।
আরও পড়ুন:
গত জুলাই মাস থেকেই হুথিদের নিশানায় রয়েছে সৌদি। পশ্চিম এশিয়ার দেশটি হুথিদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভিযানের জন্য আমেরিকার হস্তক্ষেপ চেয়েছিল। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাতে সাড়া দেননি। অন্য দিকে, হুথিরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ ঘোষণা করে। ওই অঞ্চলে সৌদির জাহাজ দেখলেই হামলা চালানো হচ্ছে। সৌদিতে অবস্থিত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করে দিয়েছে আমেরিকার সরকার। খুব প্রয়োজন না হলে এই মুহূর্তে সৌদি আরবে না-যাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।