Advertisement
E-Paper

পাতার ভাঁজে স্কেল রেখে হঠাৎ বন্ধ করা খাতা, না-খাওয়া টিফিন! নেপালে কাদার স্তূপে গেঁথে ব্যাগ, ছাত্রের খোঁজ নেই

কাদামাখা স্কুলব্যাগটির ভিতরে যে সমস্ত খাতা রয়েছে, তাতে ছাত্রের নাম রোশন মিজর। সে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র, রোল নম্বর ৩১। নেপালের বিপর্যয়ের পর সে আদৌ বেঁচে আছে কি না, জানা যায়নি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:২২
নেপালে কাদামাটির স্তূপের উপর পড়ে স্কুলপড়ুয়ার ব্যাগ, খাতা, পেন।

নেপালে কাদামাটির স্তূপের উপর পড়ে স্কুলপড়ুয়ার ব্যাগ, খাতা, পেন। ছবি: সংগৃহীত।

কিছু দিন আগেও যেখানে ছিল রাস্তা, এখন সেখানে কাদামাটির পুরু স্তর। কাদার নীচে চাপা পড়ে গিয়েছে আস্ত লোকালয়। নেপালের সেই বিপর্যয়স্থল থেকে মিলল স্কুলপড়ুয়াদের খাতা, কাদামাখা স্কুলব্যাগ আর টিফিনবাক্স। ২৬ অগস্ট সকালে স্কুল তখন সবে শুরু হয়েছিল। হয়তো প্রথম পিরিয়ড চলছিল। আচমকা হড়পা বান আসে ভোটেকোশী নদীতে। ভাসিয়ে নিয়ে যায় সব কিছু। সেই সময়েই কোনও ছাত্র ব্যাগ, টিফিনবাক্স ফেলে পালিয়ে গিয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। বান আসছে শুনে পালানোর সময় হয়তো ব্যাগপত্র নেওয়ার সুযোগ পায়নি।

কাদামাখা স্কুলব্যাগটির ভিতরে যে সমস্ত খাতা রয়েছে, তাতে ছাত্রের নাম রোশন মিজর। সে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র, রোল নম্বর ৩১। বাগেশ্বরী উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে সে। একটি খাতার ভিতর দুই পাতার ভাঁজে রাখা ছিল প্লাস্টিকের স্কেল। ব্যাগে ছিল খাবার ভর্তি টিফিনবাক্স। মনে করা হচ্ছে, বান আসার কথা শুনে মাঝপথে ক্লাস থামিয়ে দিয়েছিলেন কোনও শিক্ষক বা শিক্ষিকা। সেই সময় দু’টি পাতার মাঝে স্কেল দিয়ে চিহ্নিত করে রেখেছিল পড়ুয়া। সে বা তার সহপাঠীরা আদৌ পালাতে পেরেছে কি না, কাদামাটির প্রবল স্রোতের সঙ্গে তারা সকলে ভেসে গিয়েছে কি না, স্পষ্ট নয়। রোশনের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। কাদার স্তূপে রয়ে গিয়েছে কেবল তার খাতা, ব্যাগ আর স্কুলের অন্যান্য সামগ্রী।

নেপালের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর এখনও পর্যন্ত ১২৫২টি দেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে। খোঁজ পাওয়া যায়নি অন্তত ৪২১৬ জনের। তাঁদের মধ্যে অনেক ভারতীয়ও রয়েছেন। কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনে গিয়েছিলেন অনেক পর্যটক। নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের কারণে ভোটেকোশী এবং ত্রিশূলী নদীতে বান এসেছিল। ভারত-সহ একাধিক দেশ উদ্ধারকাজে নেপালকে সাহায্য করছে। ভারত থেকে পাঠানো হচ্ছে ত্রাণসামগ্রীও। উদ্ধারকৃত মৃতদেহগুলি শনাক্ত করার আগেই গণসৎকারের বন্দোবস্ত করেছে নেপাল সরকার। এত দেহ সংরক্ষণ করে রাখার পরিকাঠামো সেখানে নেই। দেহের ডিএনএ নমুনা এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

সংক্ষেপে
  • ত্রাণ যেমন পাঠানো হচ্ছে, তেমনই আর্থিক সাহায্যও পাঠানো হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে।
  • বিপর্যস্ত নেপালকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসছে অনেকেই। বিভিন্ন সংস্থা তো বটেই, ব্যক্তিবিশেষও সাহায্য পাঠাচ্ছেন নেপালে।
  • হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপালে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ল। এখনও নিখোঁজ দেড় হাজারের বেশি মানুষ।
Flash flood Nepal school student School Bag

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy