ফ্লাইদুবাই-কাণ্ডে অবশেষে মুখ খুলল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরের উপর আক্রমণকে ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ বলে উল্লেখ করেছে তারাও। জানিয়েছে, জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাজনিত কারণে বিমানের ককপিটে যে কুঠার থাকে, তা নিয়েই স্মিতের উপর হামলা করেন তাঁর সহ-পাইলট।
দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ওই বিমানে যে যাত্রীরা ছিলেন, তাঁদের অধিকাংশই ইজ়রায়েলি। গত বুধবারই ইজ়রায়েল স্পষ্ট করে দিয়েছিল, এটিকে ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ হিসেবেই দেখছে তারা। এ বার সংযুক্ত আরব আমিরশাহিও সেই একই কথা বলল। একই সঙ্গে প্রকাশ্যে এল হামলাকারী পাইলটের নামও।
হামলাকারী পাইলট যে ওমানি নাগরিক, তা বুধবারই জানা যায়। তবে তাঁর নাম এত দিন প্রকাশ্যে আসেনি। এ বার তা প্রকাশ্যে এল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, অভিযুক্ত পাইলটের নাম হামাম আল-হাম্মামি। ওমানের নাগরিক হলেও তাঁর জন্ম সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে। নাগরিকত্ব ওমানের হলেও সে দেশে খুব বেশি থাকতেন না তিনি। তাঁর বাবা ওমানি হলেও মা সিরিয়ান। একাধিক রিপোর্টে দাবি, ওমানের বাইরে, বিশেষত সিরিয়ায় দীর্ঘ সময় কাটিয়েছিলেন হামাম। সেখানে থাকাকালীন তাঁর উপর উগ্রপন্থী মতাদর্শের প্রভাব পড়েছিল বলে সূত্রের দাবি।
বুধবার মাঝ-আকাশে ককপিটে রক্তারক্তি কাণ্ডের পর থেকে ওমান এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল অনুযায়ী, উগ্র ও কট্টরপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন ওই হামাম। তা টের পাওয়ার পরেই তাঁকে উড়ান থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ওমান। পরে তাঁকে প্রশাসনিক কাজ করার অনুমতি দেওয়া হলেও বিমান চালানোর ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। সূত্রের দাবি, তার পরেই তিনি দুবাইয়ের বিমান সংস্থায় যোগ দেন। ওমানে নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়া এক জন পাইলটকে কেন ফ্লাইদুবাই নিয়োগ করল, কেন-ই বা ইজ়রায়েলের মতো সংবেদনশীল রুটে তাঁকে পাঠানো হল— এমন বেশ কিছু প্রশ্নও উঠে আসতে শুরু করেছে। বিমানটি ইজ়রায়েলে নিয়ে গিয়ে ‘ক্র্যাশ’ করানোর পরিকল্পনা ছিল কি না, তা-ও বর্তমানে তদন্তের আওতায় রাখা হচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহি শনিবার জানিয়েছে, তদন্তে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনার কথা ভেবে এত দিন কোনও মন্তব্য করেনি তারা। ঘটনার তিন দিন পরে প্রথম বিবৃতিতেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহি স্পষ্ট করে দিল, ইজ়রায়েলের মতো তারাও এ ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ হিসেবেই দেখছে।
আরও পড়ুন:
ভারতীয় পাইলট স্মিতের উপরে কী ভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলেন সহ-পাইলট, তা নিয়ে প্রথম দিন থেকেই প্রশ্ন উঠছিল। কোনও অস্ত্র নিয়ে হামাম কী ভাবে ককপিটে প্রবেশ করলেন, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছিল বিভিন্ন মহলে। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছিল, ফল কাটার ছুরি দিয়ে তিনি আক্রমণ করেন। পরে বিমান সংস্থা জানায়, ককপিটে রাখা কুঠার দিয়ে আক্রমণ করা হয়ে থাকতে পারে। জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাজনিত কারণে বিমানের ককপিটে কুঠার থাকে। এ বার প্রাথমিক তদন্তের পর সেই তথ্যই নিশ্চিত করল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। জানাল, ককপিটের ভিতরে রাখা কুঠার দিয়েই ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিতের উপর হামলা চালান ফ্লাইদুবাইয়ের অভিযুক্ত সহ-পাইলট।
কুঠারের আঘাতে জখম স্মিতের প্রথমে চিকিৎসা চলছিল সৌদি আরবে। পরে সেখান থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে। আপাতত আবু ধাবির এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। শনিবার তাঁর সঙ্গে দেখা করতে ওই হাসপাতালে যান দুবাইয়ের যুবরাজ তথা সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উপপ্রধানমন্ত্রী শেখ হামদান বিন মহম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম। সহ-পাইলটের হাতে আক্রান্ত হয়েও মচ্ছর যে ভাবে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তার প্রশংসা করেন তিনি।