জর্ডনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর থেকেই উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছিল। পরিস্থিতি আরও তপ্ত হতে পারে পশ্চিম এশিয়ায়। শনি-রবিবারের মধ্যে ইরানে ফের ‘জোরালো’ হামলা চালাতে পারে আমেরিকা। পেন্টাগনকে সেইমতো নির্দেশও দিয়ে রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার উপরে আর ‘ভরসা’ রাখতে পারছেন না ট্রাম্প। শুক্রবার (স্থানীয় সময়) মার্কিন ক্যাবিনেট বৈঠকে তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘনের পরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এ অবস্থায় তেহরানকে যে কোনও উপায়ে আত্মসমর্পণের জন্য বাধ্য করতে চাইছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে সংঘর্ষবিরতির সব শর্তও যাতে ইরান মানতে বাধ্য হয়, তা-ও নিশ্চিত করতে চাইছে আমেরিকা।
মার্কিন আধিকারিক সূত্র উদ্ধৃত করে ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ জানাচ্ছে, এই সপ্তাহান্তেই ইরানে হামলা চালাতে পারে আমেরিকার বাহিনী। পেন্টাগন (মার্কিন যুদ্ধ দফতর)-কে তেমনটাই নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। ইরানে যে ফের হামলা হতে পারে, সেই আভাস মিলেছে ট্রাম্পের বক্তব্যেও। মেরিল্যান্ডে আয়োজিত ক্যাবিনেট বৈঠকে তিনি বলেন, “আমরা ওদের উপর জোরালো আঘাত হানব। এমন হাল করে দেব যাতে ওরা বলে, আর সহ্য করতে পারছে না।”
ট্রাম্প যে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার উপরে আর আস্থা রাখতে পারছেন না, তা-ও স্পষ্ট হয়েছে ওই বৈঠকে। তেহরান বার বার প্রতিশ্রুতিভঙ্গ করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথায়, “ওরা (ইরান) মিথ্যা কথা বলে। সব কিছু ভুল ভাবে ব্যাখ্যা করে। ওরা সব সময় আলোচনার কথা বলে, তার পরে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নিজেদের কথা রাখে না।”
আরও পড়ুন:
যদিও কবে, কখন সেই হামলা হবে, তা নিজ মুখে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করেননি তিনি। আমেরিকা একক ভাবে সেই হামলা চালাবে, না কি ইজ়রায়েলও তাদের সঙ্গী হবে— তা-ও স্পষ্ট নয়। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘সিবিএস নিউজ়’ জানাচ্ছে, ইজ়রায়েলের সঙ্গে যৌথ ভাবে বিমান হামলার কথা বিবেচনা করছে আমেরিকা। তেমন কিছু ঘটলে, গত কয়েক সপ্তাহে এই প্রথম বার ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সংঘর্ষে জড়াবে ইজ়রায়েল।
আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা কিছু দিন স্থগিত ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার জর্ডনে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। ছোড়ে ক্ষেপণাস্ত্র। তার পরেই কঠোর প্রত্যাঘাতের বার্তা দেন ট্রাম্প। তাঁর হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টা পরেই বৃহস্পতিবার মার্কিন বাহিনী ইরানের সেনাঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনঘাঁটি এবং উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্রগুলিতে হামলা চালায়। যার জেরে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ অবস্থায় আমেরিকা ফের ইরানে হামলা চালালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্য দিকে, কোনও রকম হামলা হলে প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে তেহরানও। ইরানি সংবাদসংস্থা তাসনিম জানাচ্ছে, হামলা হলে তার জবাব দেওয়ার পূর্ণ পরিকল্পনা করে রেখেছে ইরানি বাহিনী।