ফের উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। মঙ্গলবার ভোর থেকে সৌদি আরবে পর পর হামলা চালাল ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় অন্তত ৭৩ জন সাধারণ নাগরিক জখম বলে অভিযোগ সৌদি কর্তৃপক্ষের। হুথি নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি-ইয়েমেন সীমান্তের আল-ওয়াদিয়াহ ক্রসিংয়ের কাছে সৌদির সঙ্গে সংযোগ থাকা সামরিক সরঞ্জামবাহী একের পর এক ট্রাক লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। সংবাদসংস্থা ‘ইয়েমেন নিউজ় এজেন্সি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি ছিল ‘স্থানীয় ভাবে তৈরি’। হামলা সংক্রান্ত একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
খবর, সৌদি-ইয়েমেন সীমান্তে আল-ওয়াদিয়াহ ক্যাম্পে সৌদি ঘাঁটি এবং সেনার উপর অনেক দিন ধরেই নজরদারি চালাচ্ছিল হুথিরা। ওই সেনাঘাঁটির কাছে বিপুল পরিমাণে গোলাবারুদ এবং অস্ত্রবাহী যানবাহন শনাক্ত করেছিল গোষ্ঠীটি। প্রকাশ্যে আসা ভিডিয়োয় সামরিক সরঞ্জামবাহী ট্রাকে একটি ফ্র্যাগমেন্টেশন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার মুহূর্তটি ধরা পড়েছে। এর ফলে একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে এবং আকাশে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে। ভয়াবহ বিস্ফোরণের মধ্যে সেনাদের ঘাঁটি থেকে পালিয়ে যেতেও দেখা গিয়েছে সেই ভিডিয়োয়।
আরও পড়ুন:
ভিডিয়োটি শেয়ার করা হয়েছে ‘এক্স-কে’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। উল্লেখ্য, জুলাই মাসে চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর সৌদি আরব ও হুথির মধ্যে সংঘাত নতুন মোড় নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি ও পশ্চিম এশিয়া জুড়ে চলমান সংঘাতের কারণে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। ব্যর্থ হয়েছে কূটনৈতিক আলোচনাও।
আরও পড়ুন:
ইয়েমেনে সৌদির নেতৃত্বাধীন যে জোট হুথির বিরুদ্ধে লড়ছে, সেই সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকির অভিযোগ, সৌদির একাধিক শহরে হামলা করেছে হুথি। তিনি জানান, আবহা, খামিশ মুশাইত, জাজান এবং নাজরান প্রদেশে বিভিন্ন বেসামরিক এবং অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে। হুথিদের ছোড়া একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে একাধিক জ্বালানিকেন্দ্রেও। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ভোরের হামলার ফলে জ্বালানিকেন্দ্রগুলির কার্যক্রম সাময়িক ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। আহতও হয়েছেন অনেকে। এই ঘটনা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত হুথি গোষ্ঠীর আক্রমণের ঝুঁকির মুখে থাকার বিষয়টি আবারও প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে সৌদি আরবও।