Advertisement
E-Paper

‘শুল্ককে ব্যবহার করে ভারতের সঙ্গে সমঝোতা’! মধ্যবর্তী ভোট শুরুর মুখে ট্রাম্পের ‘প্রতিশ্রুতি পূরণের’ ফর্দ দিল হোয়াইট হাউস

বাণিজ্যক্ষেত্রে শুল্ককে ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহারের যে নীতি ট্রাম্প চালু করেছেন, তা বার বার সমালোচিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ব্রিক্‌স-ও।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ১০:১৬
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বুধবার আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচন রয়েছে। তার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘প্রতিশ্রুতি পূরণের’ খতিয়ান প্রকাশ করল হোয়াইট হাউস। মোট ১২৭ দফা প্রতিশ্রুতি পূরণের তালিকা প্রকাশ্যে এনেছে মার্কিন প্রশাসন। তাতে উল্লেখ রয়েছে ভারত-আমেরিকা অন্তর্বর্তী বাণিজ্য সমঝোতার কথা। পাশাপাশি ভারত-পাকিস্তান সংঘাত থামানো নিয়ে ট্রাম্পের দাবির বিষয়েও উল্লেখ রয়েছে।

ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি এখনও সম্পন্ন হয়নি। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য সংক্রান্ত একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হয়। হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে ভারতকে আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যসঙ্গী বলে উল্লেখ করা হয়েছে ঠিকই, একই সঙ্গে এ-ও বলা হয়েছে— শুল্কের মাধ্যমে দর কষাকষি করেই সমঝোতা করেছে আমেরিকা।

ক্ষমতায় এলে যে তিনি শুল্ককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবেন, সে বার্তা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে থেকেই দিয়ে আসছিলেন ট্রাম্প। ২০২৪ সালের মার্চে আমেরিকাবাসীকে তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, মার্কিন শিল্পক্ষেত্রের উন্নয়নের জন্য, মার্কিন শ্রমিকদের জন্য কাজ করবে তাঁর প্রশাসন। তাঁর দাবি ছিল, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অসম বাণিজ্যচুক্তির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমেরিকা। তিনি ক্ষমতায় এলে এ সবের অবসান ঘটবে বলে জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে হোয়াইট হাউসের দাবি, ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সমঝোতা আসলে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণেরই প্রতিফলন।

এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস বলেছে, “শুল্ককে দর কষাকষির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে আমেরিকার প্রধান বাণিজ্যসঙ্গীদের সঙ্গে নতুন করে আরও ভাল বাণিজ্যচুক্তি সেরেছেন ট্রাম্প। তালিকায় রয়েছে ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, চিন, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, তাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ফিলিপিনস এবং কম্বোডিয়া।”

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয় বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরেই বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে কথা শুরু করেছিল নয়াদিল্লি এবং ওয়াশিংটন। তার পর অবশ্য দফায় দফায় আলোচনার পরেও নানা কারণে এই চুক্তির বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছোতে দেরি হয়। এরই মধ্যে আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপর ২৫ শুল্ক চাপিয়ে দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের উপর ২৫ শতাংশ ‘শাস্তিমূলক শুল্কও’ আরোপ করে। তবে অন্তর্বর্তী সমঝোতার পরে ওই ‘শাস্তিমূলক শুল্ক’ চাপানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে তারা। আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করার কথাও ঘোষণা করে আমেরিকা।

বাণিজ্যক্ষেত্রে শুল্ককে ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহারের যে নীতি ট্রাম্প চালু করেছেন, তা সাম্প্রতিক অতীতে বার বার সমালোচিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। ‘ব্রিক্‌স’ (এই আন্তর্জাতিক জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে অন্যতম ভারত, চিন এবং রাশিয়া) বিভিন্ন সময়ে ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছে। এ বার সেই শুল্ককে ব্যবহার করে বাণিজ্যিক সমঝোতাকে নিজেদের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরল আমেরিকার প্রশাসন।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শান্তি ফেরানোর ক্ষেত্রে নিজের যে সাফল্যের কথা বার বার দাবি করেন ট্রাম্প, সে কথাও তাঁর ‘প্রতিশ্রুতি পূরণের’ খতিয়ানে তুলে ধরেছে হোয়াইট হাউস। বিবৃতিতে তাদের দাবি, বিশ্বের আটটি সংঘাত থামিয়ে শান্তি ফিরিয়েছেন ট্রাম্প। তালিকায় ভারত-পাক সংঘাতের পাশাপাশি ইজ়রায়েল-ইরান পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের উপর ইজ়রায়েলের সঙ্গে যৌথ ভাবে হামলা চালিয়েছিল মার্কিন বাহিনীই। ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ থামানোর ক্ষেত্রেও তিনি মধ্যস্থতা করেছেন বলে বার বার দাবি করেন ট্রাম্প। যদিও নয়াদিল্লি এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে, যুদ্ধবিরতিতে কোনও তৃতীয় দেশের হস্তক্ষেপ ছিল না।

Donald Trump US India Trade

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy