ভুল পার্সেলের জন্য প্রায় ১ লক্ষ টাকার ইউপিআই প্রতারণা! উপভোক্তা কমিশনের নির্দেশে ভারতীয় স্টেট ব্যাঙ্ক (এসবিআই)-এর কাছ থেকে ১.৫ লক্ষ টাকারও বেশি ক্ষতিপূরণ পেলেন চণ্ডীগঢ়ের এক ব্যক্তি। ২০২১ সালের জুলাই মাসে একটি ভুল পার্সেল আসার পর, চণ্ডীগড়ের ওই গ্রাহকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে পাঁচটি অননুমোদিত ইউপিআই লেনদেনের মাধ্যমে মোট ৯৯,৯৪০ টাকা গায়েব হয়। তিনি তাঁর পিন নম্বর কাউকে দেননি এবং ঘটনার দু’ঘণ্টার মধ্যেই এসবিআই-কে বিষয়টি জানিয়েওছিলেন। তা সত্ত্বেও, নিজের টাকা ফিরে পেতে তাঁকে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে লড়াই করতে হয়েছে।
গ্রাহকের দাবি, ২০২১ সালের ২০ জুলাই একজন ডেলিভারি কর্মী ভুলবশত পৌঁছে দেওয়া একটি পার্সেল ফেরত নিতে আসেন এবং রিফান্ড বা টাকা ফেরতের প্রক্রিয়ার জন্য তাঁর কাছে ব্যাঙ্কের বিবরণ জানতে চান। গ্রাহক তাঁর পিন নম্বর দিতে অস্বীকার করেন। এর পরের দিন বিকেলে, পাঁচটি লেনদেনের মাধ্যমে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ৯৯,৯৪০ টাকা কেটে নেওয়া হয়। পাঁচটি লেনদেনের মাধ্যমে যথাক্রমে ২৫,০৬০ টাকা, ২৫,০৬০ টাকা, ২৫,০৬০ টাকা, ২৪,৫৬০ টাকা এবং ২০০ টাকা তুলে নেওয়ার বিষয়ে মেসেজ পান তিনি। গ্রাহক দাবি করেছেন, ওই লেনদেনগুলির কোনওটির জন্যই তিনি অনুমতি দেননি। এমনকি, নিজের ইউপিআই পিন বা ওটিপি-ও কারও সঙ্গে শেয়ার করেননি। তিনি জানান, ঘটনার পর পরই নিজের অ্যাকাউন্ট ও মোবাইল নম্বর ব্লক করে দেন। দু’ঘণ্টার মধ্যে এসবিআই-কে বিষয়টি জানান এবং চণ্ডীগড় সাইবার সেলে অভিযোগ দায়ের করেন।
পর দিন এসবিআই-এর কাছে তিনি লিখিত অভিযোগ জানান বলেও জানিয়েছেন গ্রাহক। তবে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ জানান, প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনের ১৫ দিনের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু, বারবার যোগাযোগ করা সত্ত্বেও এবং ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি পুনরায় তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও কোনও সুরাহা হয়নি। এর পরেই ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনের দ্বারস্থ হন ওই গ্রাহক।
ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনের কাছে এসবিআই স্বীকার করেছে, পাঁচটি ইউপিআই লেনদেনের মাধ্যমে ৯৯,৯৪০ টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে। তবে তাদের যুক্তি, এই ধরনের লেনদেনের জন্য ওটিপি নয় বরং গ্রাহকের নিজের তৈরি ছয় অঙ্কের পিন প্রয়োজন হয়। ফলে ব্যাঙ্কের দাবি, হয় গ্রাহক নিজেই এই লেনদেনগুলি করেছেন অথবা তিনি তাঁর পিন কারও সঙ্গে শেয়ার করেছেন। তাদের পরিষেবায় কোনও ত্রুটি থাকার কথাও অস্বীকার করে এসবিআই। ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক আরবিআই-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে কোনও তৃতীয় পক্ষের দ্বারা জালিয়াতি হলে এবং তা তিন কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাঙ্ককে জানালে গ্রাহকের কোনও দায় থাকে না। এ ক্ষেত্রে গ্রাহক দায়ী কি না, তা প্রমাণের দায়ভারও ব্যাঙ্কের উপরেই বর্তায়।
মামলা চলাকালীন জেলা ক্রেতা সুরক্ষা কমিশন রায় দেয়, এসবিআই-কে পাঁচটি অননুমোদিত ইউপিআই লেনদেনের মাধ্যমে তুলে নেওয়া ৯৯,৯৪০ টাকা বার্ষিক নয় (৯) শতাংশ সুদ-সহ ফেরত দিতে হবে গ্রাহককে। ক্ষতিপূরণ ও আইনি খরচ বাবদ আরও ১০,০০০ টাকা দিতে হবে। সেই রায়ের বিরুদ্ধে চণ্ডীগড় রাজ্য ক্রেতা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল এসবিআই।
তবে গত ২১ অক্টোবর রাজ্য কমিশন এসবিআই-এর আর্জি খারিজ করে দেয়। জানানো হয়, ওই মামলায় হস্তক্ষেপ করার মতো কোনও ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি। কমিশন বলে, ‘‘অভিযোগকারীর দায়বদ্ধতা প্রমাণ করার মতো যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ না থাকলে, কেবল ইউপিআই পিন শেয়ার করা হয়েছে বা তা সুরক্ষিত রাখা হয়নি, এমন অভিযোগ তুলে ব্যাঙ্ক তার দায়িত্ব এড়াতে পারে না। অননুমোদিত বৈদ্যুতিন ব্যাঙ্কিং লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রাহকের দায়বদ্ধতা প্রমাণের ভার ব্যাঙ্কের উপরেই বর্তায়।”
মামলা চলাকালীন এসবিআই ১,৫৪,২০০ টাকা জমা দিয়েছিল। কমিশন নির্দেশ দেয়, ওই অর্থ জেলা কমিশনের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, যাতে মূল আদেশ অনুযায়ী তা গ্রাহককে প্রদান করা যায়। চূড়ান্ত সুদের পরিমাণ হিসাব করা হয়নি। তবে, সব মিলিয়ে মোট ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ১.৫ লক্ষ টাকার বেশি।