ফ্ল্যাটের মালিকানা হাতে পাওয়ার জন্য প্রায় এক দশকের অপেক্ষা! মহারাষ্ট্রের পানভেলে রিয়্যাল এস্টেট ডেভেলপার এবং তাদের অংশীদারদের এক জন ক্রেতাকে সুদ-সহ ৮৬.৩৭ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিল ক্রেতা সুরক্ষা কমিশন। ক্রেতা ২০১৫ সালে ৫০ লক্ষ টাকারও বেশি মূল্যে ফ্ল্যাটটি বুক করেছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফ্ল্যাটের মালিকানা হাতে পাননি তিনি। এর মধ্যেই উপভোক্তা কমিশনের দ্বারস্থ হন ওই ক্রেতা। বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা পর এ বার ওই আবাসনের রিয়্যাল এস্টেট ডেভেলপার এবং অংশীদারদের ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হল। এই নির্দেশ আবাসিক সম্পত্তি হস্তান্তরে বিলম্বের জন্য ডেভেলপারদের দায়বদ্ধতাকে তুলে ধরেছে এবং চুক্তিবদ্ধ প্রতিশ্রুতি পূরণ না হলে ক্রেতাদের প্রতিকার পাওয়ার অধিকারকেও সুনিশ্চিত করেছে।
আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, মামলাটি ‘সাউন্ডলাইনস ইকো হোমস’ এবং এর অংশীদারদের বিরুদ্ধে, যারা ওই আবাসন তৈরির দায়িত্বে ছিল। ২০১৫ সালে মহারাষ্ট্রের পানভেলের কাছে আশতে গ্রামে ‘সাউন্ড ডিলাইট’ নামে আবাসিক প্রকল্পটিতে ৫০.৫২ লক্ষ টাকায় একটি ফ্ল্যাট বুক করেন এক ক্রেতা। ২০১৫ সালের ৭ অগস্ট স্বাক্ষরিত চুক্তিতে উল্লেখ ছিল যে ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফ্ল্যাটের মালিকানা হস্তান্তর করা হবে ক্রেতার নামে।
কিন্তু বার বার বিলম্ব এবং প্রকল্পে বিভিন্ন ত্রুটি থাকার অভিযোগে শেষমেশ নির্ধারিত সময়ে ফ্ল্যাটের মালিকানা হাতে পাননি তিনি। পরবর্তী সময়ে মহারাষ্ট্র রিয়্যাল এস্টেট রেগুলেটরি অথরিটি-এর ওয়েবসাইটে কাজ সম্পন্ন করার সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে বলে দেখা যায়। নির্মাণ কাজের অগ্রগতি, প্রয়োজনীয় স্থপতির সনদপত্র ছাড়াই অর্থ প্রদানের দাবি এবং নির্মাণস্থল পরিদর্শনে অসুবিধার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ওই ক্রেতা। এর পরেই তিনি উপভোক্তা কমিশনের দ্বারস্থ হন। মামলার শেষে কমিশন এখন ওই ডেভেলপার এবং তাদের অংশীদারদের যৌথ ভাবে ৪৫.৪৫ লক্ষ টাকা ক্রেতাকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে অর্থ পরিশোধের তারিখ পর্যন্ত বার্ষিক ৯% হারে সুদও দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে সুদ-সহ মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৬.৩৭ লক্ষ টাকা। এ ছাড়া ফ্ল্যাটের মালিকানা পাওয়া নিয়ে ওই ক্রেতাকে যে মানসিক যন্ত্রণা ভোগ এবং আইনি খরচ করতে হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ হিসেবে কমিশন আরও ৭৫,০০০ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
কমিশনের পর্যবেক্ষণ, কোনও ক্রেতার পক্ষে সম্পত্তির মালিকানার জন্য অনির্দিষ্টকাল অপেক্ষা করা সম্ভব নয়। কমিশন এ-ও জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফ্ল্যাট হস্তান্তর করতে না পারাটা পরিষেবায় ত্রুটির শামিল। পাশাপাশি, নোটিশ পাওয়ার পরেও ডেভেলপার এবং তাদের অংশীদাররা কমিশনের সামনে হাজির হননি। ফলে বিষয়টি ‘এক্স পার্টি’ (একতরফা ভাবে) নিষ্পত্তি করা হয়েছে।