Advertisement
E-Paper

লে’জ়-এর প্যাকেট ১৫ গ্রামের বদলে ৪ গ্রাম চিপ্‌স! পেপসিকোকে সুদ-সহ গ্রাহককে টাকা ফেরানোর নির্দেশ কমিশনের

প্রতিবেদন অনুযায়ী, লে’জ়-এর একটি ৫ টাকা দামের প্যাকেটে ১৫ গ্রাম চিপ্‌স থাকার কথা উল্লেখ করা হলেও, এক জন গ্রাহক তাতে মাত্র ৪ গ্রাম চিপস পেয়েছিলেন। এর পরেই আইনের দ্বারস্থ হন তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৮:০৭
PepsiCo is ordered to pay compensation after Lay\\\\\\\'s packet had only 4 grams chips

ছবি: সংগৃহীত।

জনপ্রিয় চিপ্‌স সংস্থা লে’জ়-এর প্যাকেটে ১৫ গ্রামের পরিবর্তে মিলল মাত্র ৪ গ্রাম চিপ্‌স! এই ঘটনার জেরে এক গ্রাহককে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিল উপভোক্তা কমিশন। লে’জ়-এর মূল সংস্থা পেপসিকো-কে এই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফে। তেমনটাই উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যম ‘লাইভ ল ডট ইন’-এর প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, লে’জ়-এর ৫ টাকা দামের একটি প্যাকেটে ১৫ গ্রাম চিপ্‌স থাকার কথা উল্লেখ করা হলেও, এক জন গ্রাহক তাতে মাত্র ৪ গ্রাম চিপস পেয়েছিলেন। এর পরেই আইনের দ্বারস্থ হন ওই গ্রাহক। জয়পুরের সংশ্লিষ্ট উপভোক্তা কমিশন ‘পেপসিকো ইন্ডিয়া হোল্ডিংস প্রাইভেট লিমিটেড’-কে চিপসের ওজনে এই গরমিলের জন্য দায়ী করেছে। একই সঙ্গে, ‘ডিস্ট্রিক্ট কনজিউমার ডিসপিউটস রিড্রেসাল কমিশন-২’ বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘মেট্রো ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারি ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড’-এর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে।

‘লাইভ ল ডট ইন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চন্দ্রমান জালান নামে এক ব্যক্তি এই মামলাটি রুজু করেছিলেন। জালানের দাবি, ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর তিনি বাড়িতে অতিথি আপ্যায়নের জন্য মেট্রো ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারি থেকে বেশ কিছু খাদ্যদ্রব্য কিনেছিলেন। এর মধ্যে একটি লে’জ় চিপসের প্যাকেট ছিল। কেনাকাটার সময়েই এর একটি চালানপত্র (ইনভয়েস) দেওয়া হয়েছিল। তিনি জানান, প্যাকেটটি পরিবেশন করার সময় তাঁর সেটি অস্বাভাবিক হালকা মনে হয়। এর পর তিনি প্যাকেটের ভিতরের চিপস ওজন করে দেখেন, তাতে মাত্র ৪ গ্রাম চিপ্‌স রয়েছে।

বিষয়টি মেট্রো কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন চন্দ্রমান। কিন্তু, তাঁর অভিযোগ যথাযথ ভাবে সমাধান করা হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি। এর পর মেট্রোর বিরুদ্ধে পরিষেবায় ত্রুটি এবং অন্যায্য ব্যবসায়িক অনুশীলনের অভিযোগ এনে চন্দ্রমান ২০২২ সালের ৬ এপ্রিল একটি মামলা রুজু করেন। অবশ্য মেট্রোর যুক্তি ছিল, চিপসের পরিমাণে কোনও ঘাটতি থাকলে, তা উৎপাদন প্রক্রিয়ার সময় ঘটে থাকতে পারে। তাই, এর জন্য প্রস্তুতকারক সংস্থাই দায়ী। এর পর সেই মামলায় নোটিশ পাঠানো হয় পেপসিকোকে। কিন্তু, নোটিশ পেয়েও পেপসিকো কমিশনের সামনে হাজির হয়নি। ফলে, তাদের অনুপস্থিতিতেই মামলার কার্যক্রম এগোচ্ছিল। কমিশন চন্দ্রমানের পেশ করা প্রমাণ, যার মধ্যে ক্রয়ের রসিদ এবং প্যাকেটের ওজন সংক্রান্ত তাঁর দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল, তা খতিয়ে দেখা হয়। এর পর কমিশন মেট্রোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ খারিজ করে দেয় এবং পেপসিকোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি গ্রহণ করে। পরবর্তীতে সেই মামলারই রায় ঘোষণা করা হয়।

পেপসিকোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন প্যাকেটের মূল্য বাবদ ৫ টাকা ফেরত দেন ওই গ্রাহককে। এরই সঙ্গে ২০২২ সালের ৬ এপ্রিল থেকে অর্থ পরিশোধের দিন পর্যন্ত বার্ষিক ৬ শতাংশ হারে সুদও দিতে হবে। এ ছাড়া মানসিক হয়রানির জন্য ৫,০০০ টাকা এবং মামলার খরচ বাবদ ৩,০০০ টাকা— মোট ৮,০০০ টাকা তাদের এক মাসের মধ্যে তুলে দিতে হবে গ্রাহকের হাতে। পেপসিকো যদি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই টাকা না দেয়, তবে ওই ৮,০০০ টাকার উপর আদেশের তারিখ থেকে অর্থ পরিশোধের দিন পর্যন্ত, বার্ষিক ৬ শতাংশ হারে সুদ প্রযোজ্য হবে। সব মিলিয়ে রায়ে মোট ৮,০০৫ টাকা এবং তার উপর সুদ প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ৫ টাকার প্যাকেটের মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি।

Compensation Money Chips Jaipur

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy