আবার ছাঁটাই! ভোরবেলার ইমেল পাঠিয়ে এক কোপে ২৫০ কর্মীর চাকরি কাড়ল ই-কমার্স সংস্থা অ্যামাজ়ন। উদ্দেশ্য, আরও কার্যকর ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা। ইমেলে অন্তত তেমনটাই জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। নতুন কিন্ডল ই-রিডার এবং ট্যাবলেট কম্পিউটার-সহ বেশ কিছু পণ্য বাজারে আনার কয়েক সপ্তাহ পরেই বুধবার ২৫০ জন কর্মীকে ছাঁটাই করল সংস্থাটি। ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের সকলেই অ্যামাজ়নের ‘ডিভাইস অ্যান্ড সার্ভিসেস’ বিভাগে কর্মরত ছিলেন বলে খবর।
অ্যামাজ়নের তরফেও এই ছাঁটাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সংস্থার এক জন মুখপাত্র বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে বলেন, “আমরা অল্প কিছু পদ সরিয়ে দেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল এক জন ব্যক্তি সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, এই ছাঁটাইয়ের আওতায় ২৫০ জন কর্মী পড়েছেন, যাঁদের বেশির ভাগই সফ্টওয়্যার ডেভেলপমেন্টের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।’’
সংস্থার স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী, বুধবার খুব ভোরে ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের কাছে টেক্সট মেসেজ ও ইমেল পাঠানো হয়। জানানো হয় চাকরি যাওয়ার কথা। সে রকমই একটি মেসেজ হাতে এসেছে সংবাদসংস্থা রয়টার্সের। সেই মেসেজে ‘ডিভাইস অ্যান্ড সার্ভিসেস’ বিভাগের মানবসম্পদ বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট শেরি রবিনসন জানিয়েছেন, সংস্থাটি তাদের সাংগঠনিক কাঠামোর পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করেছে। ফলে এই ছাঁটাইয়ের প্রয়োজন পড়েছে।
অন্য দিকে অ্যামাজ়নের ওই মুখপাত্র বলেছেন, ‘‘এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া সংস্থাটিকে আরও কার্যকর ভাবে কাজ করতে এবং আমাদের রোডম্যাপের সঙ্গে আরও ভাল ভাবে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে সহায়তা করবে।’’
এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে অ্যামাজ়ন তাদের মূল খুচরো বিক্রয় বিভাগ (রিটেল ডিভিশন) থেকে প্রায় ১,০০০ কর্মীকে ছাঁটাই করেছিল। এর পর মাসের শেষের দিকে আরও ২৫০ কর্মীকে ছাঁটাই করল ই-কমার্স সংস্থাটি। ছাঁটাইয়ের দিন অর্থাৎ বুধবারই অ্যামাজ়ন আলেক্সা-চালিত একটি নতুন অ্যালার্ম ঘড়ি এবং ফটো ফ্রেম বাজারে আনার কথা ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার বাজার বন্ধ হওয়ার পর সংস্থাটি তাদের তৃতীয় ত্রৈমাসিকের আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশ করবে বলেও খবর।
আরও পড়ুন:
দু’দিন আগে মোট কর্মীসংখ্যার প্রায় এক চতুর্থাংশকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে প্রযুক্তি সংস্থা মাইক্রোসফ্ট। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় অর্থ বিনিয়োগের পাশাপাশি খরচ কমানোর লক্ষ্যে প্রায় ৬০,০০০ কর্মীকে ছেঁটে ফেলতে চায় মার্কিন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা। মাইক্রোসফ্টের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ভারত এবং ব্রিটেনের নির্দিষ্ট কিছু টিমের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও তার নীচের স্তরের কর্মীদের স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। তবে তথ্যভান্ডার, বিক্রয় এবং বিপণনে কর্মরত কর্মী-সহ কিছু নির্দিষ্ট কর্মী এর আওতা থেকে বাদ পড়বেন বলে জানা গিয়েছে।