উৎসবের মরসুমের ঠিক আগেই বাড়ল সোনার গয়নায় হলমার্কিংয়ের খরচ। ‘ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (বিআইএস)’ সোনার গয়না বা সামগ্রীর জন্য হলমার্কিংয়ের খরচ ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫ টাকা করেছে। অর্থাৎ, এক ধাক্কায় এই খরচ ৩০ টাকা বাড়িয়েছে কেন্দ্র। সরকারি গেজেটে প্রকাশিত ‘ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (হলমার্কিং) সংশোধনী প্রবিধান, ২০২৬’ অনুযায়ী, এই পরিবর্তনটি ২০২৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। তবে রুপোর গয়নার ক্ষেত্রে এই খরচ ৩৫ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
গয়না শিল্পের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ভারত এখন উৎসব এবং বিয়ের কেনাকাটার মরসুমে প্রবেশ করছে। তার মধ্যেই বাড়ল সোনার হলমার্কিংয়ের খরচ। সোনা-রুপোর গয়না-সহ বিভিন্ন সামগ্রীর শুদ্ধতা যাচাই করতে হলমার্কিং ব্যবহার করা হয়। এতে নির্দিষ্ট কেন্দ্রে গিয়ে গয়না-সহ সোনা-রুপো দিয়ে তৈরি নানা পণ্যে লোগো, ক্যারাট এবং ছয় সংখ্যার কোড (এইচইউআইডি) বসানো হয়। সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে স্বীকৃত ‘অ্যাসেয়িং অ্যান্ড হলমার্কিং সেন্টারে’ সোনার গয়না বা সামগ্রী জমা দেওয়ার সময় সোনা ব্যবসায়ীদের প্রতি সামগ্রী পিছু ৭৫ টাকা খরচ দিতে হবে। তবে প্রতি চালানের জন্য ন্যূনতম খরচ ২০০ টাকায় অপরিবর্তিত থাকবে। এর আগে প্রতি সোনার সামগ্রীর জন্য হলমার্কিংয়ের খরচ ছিল ৪৫ টাকা এবং চালানের ন্যূনতম খরচ ছিল ২০০ টাকা। অর্থাৎ, নতুন হারে প্রতি সামগ্রীর হলমার্কিংয়ের খরচ ৩০ টাকা বা প্রায় ৬৭ শতাংশ বেড়েছে। রুপোর সামগ্রীর ক্ষেত্রে হলমার্কিংয়ের খরচ অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি সামগ্রীতে ৩৫ টাকা এবং প্রতি চালানে ন্যূনতম ১৫০ টাকা।
আরও পড়ুন:
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে ‘অ্যাসেয়িং অ্যান্ড হলমার্কিং সেন্টার’গুলি বিআইএস-কে কত টাকা দেবে, তা-ও উল্লেখ করা হয়েছে। সোনার ক্ষেত্রে এই অর্থ প্রতি সামগ্রীতে ৭.৫০ টাকা (ন্যূনতম ২০ টাকা প্রতি চালান) এবং রুপোর ক্ষেত্রে প্রতি সামগ্রীতে ৩.৫০ টাকা (ন্যূনতম ১৫ টাকা প্রতি চালান) নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রযোজ্য কর বা ট্যাক্স এর সঙ্গে আলাদা ভাবে যুক্ত হবে।
তবে সোনার গয়নায় হলমার্কিংয়ের খরচ বৃদ্ধির অর্থ এই নয় যে ক্রেতাদের প্রতিটি সোনার গয়নার জন্য আবশ্যিক ভাবেই অতিরিক্ত ৩০ টাকার খরচ বহন করতে হবে। এই ৭৫ টাকা আসলে হলমার্কিংয়ের জন্য গয়না ব্যবসায়ীদের ‘অ্যাসেয়িং অ্যান্ড হলমার্কিং সেন্টার’-কে দিতে হয়। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতেও এমন কোনও আলাদা ৭৫ টাকার উল্লেখ করা হয়নি, যা ক্রেতাদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলক ভাবে আদায় করতে হবে। ক্রেতাদের উপর এর চূড়ান্ত প্রভাব নির্ভর করবে ব্যবসায়ীরা কী ভাবে এই বাড়তি খরচ সমন্বয় করছেন তার ওপর। কোনও ব্যবসায়ী এই অতিরিক্ত ৩০ টাকার খরচ নিজে বহন করতে পারেন অথবা গয়নার সামগ্রিক মূল্যের সঙ্গে যুক্ত করে তা গ্রাহকের উপর চাপাতে পারেন। খরচ বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন সোনা ব্যবসায়ীরা। অল ইন্ডিয়া জেম অ্যান্ড জুয়েলারি ডোমেস্টিক কাউন্সিলের দাবি, দেশে হলমার্কিং ব্যবস্থার যথেষ্ট প্রসার হয়েছে। তা হলে এই সিদ্ধান্তের যুক্তি কী? তাদের আশঙ্কা এতে ক্রেতারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
বিআইএস-এর পক্ষ থেকে সোনার গয়নায় হলমার্কিংয়ের দাম বাড়ানোর পর বুধবার গয়না প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির শেয়ারের দরে পতন ঘটে। কল্যাণ জুয়েলার্স ইন্ডিয়া এবং পিসি জুয়েলারের শেয়ারের দর প্রায় ৪-৫ শতাংশ কমে যায়। এ ছাড়া, সদ্য তালিকাভুক্ত ললিতা জুয়েলারি মার্টের শেয়ারের দর ৫ শতাংশ কমে ‘লোয়ার সার্কিট’-এ নেমে আসে।