ছাঁটাইয়ের কোপে চাকরি হারিয়েছেন। চাকরি হারানোর পরেও রোজ সকাল ৯টায় ‘কাজের’ জন্য বাড়ি থেকে বার হন গুরুগ্রামের এক যুবক! কেন? কারণ জানালেন তিনি নিজেই। গুরুগ্রামের ওই যুবক জানিয়েছেন কী ভাবে চাকরি হারানোর পরেও তিনি প্রতিদিন সকাল ৯টায় অফিসের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বার হন। জানিয়েছেন, বাড়ি থেকে বেরিয়ে একটি ক্যাফেতে যান তিনি। সেখানে বসে চাকরির জন্য আবেদন করেন এবং পাইথন শেখেন। কারণ, চাকরি গিয়েছে, সে কথা বাবা-মাকে জানানোর মতো সাহস তখনও তিনি সঞ্চয় করতে পারেননি।
আরও পড়ুন:
সাবরেডিটে ‘চাকরি হারিয়েছি, তবুও সকাল ৯টায় কাজের জন্য বার হচ্ছি’ শিরোনামের একটি পোস্টে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরেছেন চাকরি হারানো ওই যুবক। ‘আর/গুরগাঁও’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে তিনি লিখেছেন, গুরুগ্রামের সাইবার সিটিতে অবস্থিত একটি বহুজাতিক সংস্থায় সাত বছর কাজ করার পর ১০ সেপ্টেম্বর তাঁকে ছাঁটাই করা হয়। তবে বাড়িতে বসে না থেকে তিনি তাঁর প্রাত্যহিক রুটিন মেনে চলছেন। মায়ের দেওয়া টিফিন নিয়ে সকাল ৯টায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ছেন। আর তেমনটা তিনি করছেন যাতে বাবা-মা বুঝতে না পারেন যে তাঁর চাকরি গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
যুবক জানিয়েছেন, প্রতি দিন সকালে তিনি তার ব্যক্তিগত ল্যাপটপটি ব্যাগে ভরে নিচ্ছেন। তার পর বেরিয়ে পড়ছেন। স্বস্তির বিষয় ছিল যে তাঁর মা খেয়াল করেননি যে অফিসের ল্যাপটপটি আর বাড়িতে নেই। তবে এই করতে গিয়ে তাঁর দিনযাপনের ধরন পুরোপুরি বদলে গিয়েছে বলে দাবি যুবকের। তিনি জানান, একটি ক্যাফেতে বসে সময় কাটান তিনি। চাকরির জন্য আবেদন করেন। পাইথনও শেখেন। এর পর তিনি বসন্ত কুঞ্জ ও হউজ় খাস এলাকায় গিয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়ান এবং বিকেল ৫টার দিকে বাড়ি ফেরেন।
আরও পড়ুন:
পরিস্থিতিটিকে ‘দ্বৈত’ জীবনযাপন হিসাবে বর্ণনা করে যুবক স্বীকার করেছেন, কত দিন তিনি এ ভাবে চালিয়ে যেতে পারবেন, তা তিনি জানেন না। ওই পোস্টের প্রেক্ষিতে রেডিট ব্যবহারকারীরা তাঁকে সমর্থন জুগিয়েছেন। অনেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শও দিয়েছেন। এক জন ব্যবহারকারী তাঁকে সুযোগের সন্ধান চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করেন এবং দিল্লিতে আয়োজিত কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অনেকে উল্লেখ করেছেন, সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে চাকরির সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। এক জন ব্যবহারকারী যুবককে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করে জানিয়েছেন যে চাকরি হারানো কোনও লজ্জার বিষয় নয়।