Advertisement
E-Paper

লকার থেকে ৪৭ লক্ষের গয়না উধাও, গ্রাহককে ৫০.৫ লক্ষ ক্ষতিপূরণ দিতে ব্যাঙ্ককে নির্দেশ উপভোক্তা কমিশনের

মণিকা মারওয়ার নামে এক গ্রাহক ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ, ব্যাঙ্ক তাঁর শ্বশুরমশাইয়ের সঙ্গে থাকা যৌথ লকারটিকে ‘সারেন্ডারড লকার’ বলে গণ্য করেছে। তাঁর দাবি, ওই লকারে রাখা প্রায় ৪৭ লক্ষ টাকা মূল্যের সোনার গয়নার কোনও হিসাব দিতে পারেননি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ১৯:০৩

ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।

একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের লকারে প্রায় ৪৭ লক্ষ টাকার অলঙ্কার রেখেছিলেন এক মহিলা। সেই লকারটি তাঁর প্রয়াত শ্বশুরমশাইয়ের সঙ্গে যৌথ ভাবে ছিল। সেই লকার থেকেই হারিয়ে যায় গয়নাগুলি। গয়না খোয়া যেতেই ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে উপভোক্তা কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেন দিল্লির বাসিন্দা। প্রায় আট বছর পর সেই মামলায় জয় পেয়েছেন তিনি। ব্যাঙ্ককে ৫০.৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। পাশাপাশি, ওই অর্থের উপর বার্ষিক ৬ শতাংশ হারে সরল সুদও দিতে হবে। কারণ, সংশ্লিষ্ট লকারটি যথাযথ ভাবে হস্তান্তর করা হয়েছিল কিংবা তার ভিতরে থাকা মূল্যবান গয়না সুরক্ষিত ভাবে গ্রাহককে ফেরত দেওয়া হয়েছিল কি না, তা ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ প্রমাণ করতে পারেননি।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, মণিকা মারওয়ার নামে এক গ্রাহক ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মণিকা অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া তাঁর প্রয়াত শ্বশুরমশাইয়ের সঙ্গে থাকা যৌথ লকারটিকে ‘সারেন্ডারড লকার’ বলে গণ্য করেছে। তাঁর দাবি, ওই লকারে রাখা প্রায় ৪৭ লক্ষ টাকা মূল্যের সোনার গয়নার কোনও হিসাব দিতে পারেননি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার কাছে গয়নার পুরো টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানান মণিকা। পাশাপাশি, বার্ষিক ১৮ শতাংশ সুদ, মানসিক কষ্টের জন্য ১ লক্ষ টাকা, মামলা চালানোর খরচ বাবদ ৫০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য ক্ষতির জন্যও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। মণিকা অভিযোগ করেন যে, ব্যাঙ্ক তাঁর সম্মতি ছাড়াই যৌথ লকারটিকে সারেন্ডার লকার হিসেবে গণ্য করেছে। তাঁর গয়নারও হদিস মিলছে না।

২৭ অক্টোবর কমিশন একটি আদেশে উল্লেখ করেছে যে, ব্যাঙ্ক কোনও সমর্পণ রসিদ বা এমন কোনও নথি দাখিল করেনি যা থেকে প্রমাণ মেলে এবং বোঝা যায় যে লকারের জিনিসপত্র অভিযোগকারীকে ফেরত দেওয়া হয়েছে। ফলে কমিশন মনে করছে গ্রাহক মণিকার গয়নাগুলি আত্মসাৎ করেছে। ১৯৯৮ সাল থেকে তাঁর শ্বশুরমশাইয়ের সঙ্গে ব্যাঙ্কে একটি যৌথ লকার ব্যবহার করতেন মণিকা। ২০১০ সালের ২৯ অগস্ট তাঁর শ্বশুরমশাইয়ের মৃত্যুর পরেও অ্যাকাউন্ট থেকে লকারের ভাড়া কেটে নেওয়া হত।

২০১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ব্যাঙ্কের শাখায় গিয়ে মনিকা জানতে পারেন, যৌথ লকারটি ২০১৫ সালের ২২ জানুয়ারি থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমনটাই দাবি করে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক। কিন্তু তিনি এই দাবি মানতে চাননি। তিনি জানান, লকার বন্ধ করার জন্য তিনি কখনও ব্যাঙ্ককে অনুরোধ করেননি। পাশাপাশি, লকারে রাখা ৪৭ লক্ষ টাকা মূল্যের সোনার গয়নাও তাঁকে ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ছিল মণিকার।

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy