পর পর দু’দিন। সপ্তাহের প্রথম ও দ্বিতীয় কাজের দিনে রকেটগতিতে ছুটল শেয়ারবাজারের সূচক। উৎসবের মরসুমে হাসি ফুটল বিনিয়োগকারীদের মুখে। টানা দু’দিন উর্ধ্বমুখী সেনসেক্স ও নিফটি। সোমবার, ২ নভেম্বর, লেনদেন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই হাজার পয়েন্ট উঠে যায় সেনসেক্স। মঙ্গলবারও সেই ধারা বজায় রইল দালাল স্ট্রিটে। ১২২৫.০৭ পয়েন্ট বেড়ে থামল বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (বিএসই)-এর সূচক। ৭৬,৯১৮ পয়েন্টে থেমেছে সেনসেক্সের দৌড়। ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (এনএসই)-এর সূচকের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। লম্বা লাফ দিয়েছে নিফটিও। ৩৭০.৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে এনএসই। ২৩ হাজার ৮১০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে এনএসই-এর সূচক।
আরও পড়ুন:
গত দু’দিনে ২৪০০ পয়েন্টেরও বেশি বাড়ল সূচক। দীপাবলির আগে পকেট ভরল বিনিয়োগকারীগের। লক্ষ্মীলাভের অঙ্ক দু’দিনে অনেকটাই বেড়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। উৎসবের মরসুমে হঠাৎ করে বাজারের ঘুরে দাঁড়ানোর নেপথ্যে রয়েছে তেলের দর। বাজার সূত্রে খবর, অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়ায় ভারতীয় শেয়ারবাজার চাঙ্গা হয়েছে। ভারত জ্বালানির চাহিদার একটি বড় অংশই আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে দেশে তেল আমদানির খরচ কমার সম্ভাবনা থাকে। এর প্রভাব সরাসরি পড়ে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উপর। একই সঙ্গে জ্বালানি ও পরিবহণের খরচ কমার সম্ভাবনা বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রের সংস্থাগুলির মুনাফার ক্ষেত্রেও স্বস্তি আনতে পারে। এই কারণেই তেলের দামে পতনকে বাজারের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন বিনিয়োগকারীরা।
আরও পড়ুন:
দীর্ঘ সময় খাদে পড়ে থাকার পর সূচকের এহেন উত্থানে স্বাভাবিক ভাবেই লগ্নিকারীদের মধ্যে খুশির হাওয়া। সেনসেক্স ও নিফটি উভয়ই একদিনে দু’শতাংশ বেড়েছে। দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভ কর বা এলটিসিজি নিয়ে অনুকূল মনোভাবও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করেছে। মূলধনী লাভের উপর কর সংক্রান্ত বিষয়টি বিনিয়োগের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এই ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হওয়ায় বাজারে কেনাকাটার প্রবণতা বেড়েছে বলে মত বাজার বিশেষজ্ঞদের।
এ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারী ভারতীয় বাজারে আস্থা ফেরায় ষাঁড়ের গর্জন আবারও একবার শোনা গিয়েছে দালাল স্ট্রিটে। সোমবার, ২ নভেম্বর মোট ৩,১১৭.৯৯ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছেন বিদেশি বিনিয়োগকারী ও সংস্থাগুলি। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এই বিপুল অঙ্কের নিট কেনাকাটা বাজারে ইতিবাচক মনোভাব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। অন্য দিকে, দেশীয় প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকারীরা সম্পূর্ণ বিপরীত পথে হেঁটেছেন। এ দিন ৪০৬.৬১ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে বলে বাজার সূত্রে খবর।
আরও পড়ুন:
এফএমসিজি, ফিনান্সিয়ালস এবং রিয়েলটি খাতের শেয়ারের দর বৃদ্ধির ফলে লাভের মুখ দেখেছেন লগ্নিকারীরা। ৩০টি শেয়ারের বিএসই সেনসেক্সে এইচইউএল, ভারতী এয়ারটেল এবং এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের শেয়ারে সবচেয়ে বেশি লাভের মুখ দেখেছেন লগ্নিকারীরা। অন্য দিকে, পাওয়ার গ্রিড, এসবিআই, ইনফোসিসের শেয়ারে তেমন তেজি ভাব দেখা যায়নি। লোকসানের খাতেই রয়েছে এই সংস্থার স্টকগুলি।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: শেয়ার বাজারে লগ্নি বাজারগত ঝুঁকিসাপেক্ষ। আর তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই স্টকে বিনিয়োগ করুন। এতে আর্থিক ভাবে লোকসান হলে আনন্দবাজার ডট কম কর্তৃপক্ষ কোনও ভাবেই দায়ী নয়।)