হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে ওয়াল্ট ডিজ়নি। সংস্থার ম্যানেজারদের ২০ শতাংশ খরচ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণেরও নির্দেশ দিয়েছে বিনোদন জগতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠানটি। বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তেমনটাই। ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিনোদন জগতের এই বিশাল প্রতিষ্ঠানটি খরচ কমানোর লক্ষ্যে হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে এগোচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের কিছু ম্যানেজারদের বার্ষিক ব্যয়ের ২০ শতাংশ সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাশ্রয়ের জন্য ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য ব্যয়ও কমানো হতে পারে। এই ছাঁটাইয়ের প্রভাব ডিজ়নির বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় পড়তে পারে। এর মধ্যে রয়েছে সংস্থাটির থিম পার্ক, টেলিভিশন চ্যানেল এবং চলচ্চিত্র স্টুডিয়ো। সংস্থার সিইও জশ ডি’আমারো সাশ্রয় করা অর্থের একটি অংশ চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণ, প্রযুক্তি, থিম পার্ক এবং সংস্থার প্রমোদতরী ব্যবসায় পুনরায় বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করছেন বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। যদিও ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংস্থার একজন প্রতিনিধি প্রস্তাবিত এই ছাঁটাইয়ের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন।
উল্লেখ্য, ওয়াল্ট ডিজ়নি এমন এক সময়ে কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে এগোচ্ছে বলে খবর, যখন প্রতিষ্ঠানটি চলতি অর্থবর্ষে তাদের শেয়ারপ্রতি মোট আয়ের ১০ শতাংশ বা তার বেশি বৃদ্ধি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে খরচ কমানোর জন্য একাধিক বড় মাপের পদক্ষেপ করেছে ডিজ়নি। এর মধ্যেই সংস্থার হাজার হাজার পদে ছাঁটাই করা হয়েছে। বিভিন্ন ব্যবসায় শত কোটি ডলারের ব্যয় সঙ্কোচন করেছে। এই ব্যয় সঙ্কোচনের প্রভাব এবিসি, পিক্সার, ইএসপিএন, চলচ্চিত্র স্টুডিয়ো এবং ‘এক্সপেরিয়েন্সেস’ ইউনিট-সহ বেশ কয়েকটি বিভাগের উপর পড়েছে। ১ অক্টোবর সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল, তাদের টেলিভিশন বিভাগের পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করছে ডিজ়নি। এর পাশাপাশি বিনোদন সংস্থাটি তাদের আইনি এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিভাগেও কর্মী ছাঁটাইয়েও উদ্যোগী হয়েছে।
আরও পড়ুন:
গত মাসেই লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ‘ব্লুমবার্গ স্ক্রিনটাইম’ সম্মেলনে ডিজ়নির প্রেসিডেন্ট ডানা ওয়ালডেন জানিয়েছিলেন, সংস্থাগুলির নিয়মিত ভাবে তাদের সাংগঠনিক পরিকাঠামো এবং কার্যক্রম পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। ওয়ালডেন বলেছিলেন, “আপনার প্রতিষ্ঠানের কাঠামো কেমন এবং এর আকার কত বড়, তা প্রতিনিয়ত মূল্যায়ন করা জরুরি।” তিনি আরও যোগ করেন যে, প্রযুক্তি সংস্থাগুলিও এখন বিনোদন ব্যবসার দিকে নজর দিয়েছে। ফলে টিকে থাকতে হলে উন্নতি করতে হবে এবং এগিয়ে যেতে হবে। সংস্থার প্রেসিডেন্টের সেই মন্তব্যের মাসখানেক পরেই এ বার উঠে আসছে সংস্থায় আসন্ন ছাঁটাইয়ের খবর।
আরও পড়ুন:
তবে শুধু ডিজ়নিই নয়, আরও অনেক বিনোদন সংস্থায় ব্যয় সঙ্কোচনের পথে হাঁটছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথাগত টেলিভিশন থেকে আয়ের উপর চাপ এবং স্ট্রিমিং গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধির গতি ধীর হয়ে আসায় নেটফ্লিক্স, সনি পিকচার্স এন্টারটেইনমেন্ট, প্যারামাউন্ট এবং ওয়ার্নার ব্রোস-এর মতো সংস্থাগুলিও ছাঁটাই খড়্গ হাতে তুলে নিয়েছে। এ ছাড়া বিনোদন সংস্থাগুলিকে এখন সমাজমাধ্যম, অনলাইন ভিডিয়ো পরিষেবা এবং অ্যামাজ়ন ও অ্যাপলের মতো প্রযুক্তি সংস্থাগুলির পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলির তীব্র প্রতিযোগিতার মুখেও পড়তে হচ্ছে।