Advertisement
E-Paper

প্রাপ্তবয়স্কদের সাক্ষরতায় বিশেষ উদ্যোগ কেন্দ্রের, ৫ থেকে ৮ জনকে পড়ানোর দায়িত্ব হবু শিক্ষকদের

নির্দেশিকা অনুযায়ী, ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশন (এনসিটিই) অনুমোদিত বিভিন্ন শিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সের পড়ুয়াদের স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক হিসেবে কাজ করতে হবে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১৫:২৬

ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।

দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি করতে এবং আজীবন শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে বিশেষ উদ্যোগী হল কেন্দ্রীয় সরকার। ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং অফ লাইফলং লার্নিং ফর অল ইন সোসাইটি’ (উল্লাস) বা নতুন ভারতের সাক্ষরতা কার্যক্রমের (এনআইএলপি) আওতায় শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জয়ন্ত চৌধুরী এই নির্দেশিকা প্রকাশ করেছেন। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পরিচালিত এই কর্মসূচিতে হবু শিক্ষকদের সক্রিয় ভাবে যুক্ত করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশন (এনসিটিই) অনুমোদিত বিভিন্ন শিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সের পড়ুয়াদের স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক হিসেবে কাজ করতে হবে। এর মাধ্যমে প্রথাগত শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত প্রাপ্তবয়স্কদের সাক্ষর করে তোলার পাশাপাশি তাঁদের নির্ধারিত মূল্যায়ন ও শংসাপত্র পাওয়ার প্রক্রিয়াতেও সাহায্য করা হবে।

হবু শিক্ষকদের কী দায়িত্ব থাকবে?

বিএড, বিপিএড, এমএড এবং এমপিএড-এর মতো শিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সে পাঠরত শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারবেন। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ৫ থেকে ৮ জন নিরক্ষর বা স্বল্পশিক্ষিত প্রাপ্তবয়স্ককে সাক্ষর করে তোলার দায়িত্ব দেওয়া হবে। তাঁদের সাক্ষরতার মূল্যায়ন এবং শংসাপত্র পাওয়ার প্রক্রিয়াতেও সাহায্য করতে হবে।

নির্দেশিকায় শিক্ষার্থীদের এই কাজের সঙ্গে অ্যাকাডেমিক ক্রেডিটের বিষয়টিও যুক্ত করা হয়েছে। যাঁরা দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সাক্ষরতার প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র পেতে সাহায্য করবেন, তাঁরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে অ্যাকাডেমিক ক্রেডিট পাবেন।

কোন সংস্থাগুলি দায়িত্বে থাকবে?

কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা বিভাগ এই নির্দেশিকা তৈরি করেছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশন, ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি), ডিস্ট্রিক্ট ইনস্টিটিউট অফ এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (ডিআইইটি) এবং রাজ্য সাক্ষরতা মিশন কর্তৃপক্ষের মতো সংস্থাগুলির দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

অনলাইন ও অফলাইন— দু’ভাবেই এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। হবু শিক্ষকদের পাশাপাশি জাতীয় সেবা প্রকল্পের (এনএসএস) স্বেচ্ছাসেবক, জাতীয় ক্যাডেট বাহিনীর (এনসিসি) সদস্য, আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, গৃহিণী এবং অন্যান্য সাক্ষর নাগরিকও স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক হিসেবে যুক্ত হতে পারেন বলেই জানানো হয়েছে নির্দেশিকায়।

উল্লেখ্য, উল্লাস প্রকল্প মূলত ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সি নাগরিকদের জন্য। যাঁরা কোনও কারণে প্রথাগত শিক্ষার সুযোগ পাননি, তাঁদের পড়া, লেখা ও গণনার মতো মৌলিক দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করার পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানোও এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য। রাজ্যে গত মে মাসে সমাজের সর্বত্র সাধারণ মানুষকে ‘শিক্ষিত’ কর তুলতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। স্কুলশিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছিল, রাজ্যেও চালু হতে চলেছে এই প্রকল্প। নতুন ভারতের সাক্ষরতা কার্যক্রমের (এনআইএলপি) অংশ হিসেবে রাজ্য সরকার এই প্রকল্পকে বাস্তবায়িত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

Teacher Literacy

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy