Advertisement
E-Paper

জিনোম সিকোয়েন্সিং ও ড্রাগ ডিজ়াইনিং নিয়ে দেশে-বিদেশে কোথায় পড়বেন? চাকরির সুযোগই বা কতটা?

জিনোম সিকোয়েন্সিং নিয়ে পড়তে চাইলে জেনেটিক্স, মলিকিউলার বায়োলজি, বায়োটেকনোলজি, মাইক্রোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি এবং বায়োইনফরমেটিক্সের মতো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২৬ ০৯:০৩
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

জিনোম সিকোয়েন্সিং ও ড্রাগ ডিজ়াইনিং—জীববিজ্ঞান, জেনেটিক্স, বায়োইনফরমেটিক্স, রসায়ন এবং কম্পিউটিংয়ের সংযোগস্থলে থাকা দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। জিনের গঠন ও পরিবর্তন বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে নতুন ওষুধের অণু খুঁজে বের করা—গবেষণা, চিকিৎসা ও ওষুধশিল্পে এই দুই ক্ষেত্রের ব্যবহার বাড়ছে। ফলে জীববিজ্ঞান বা কম্পিউটারভিত্তিক গবেষণায় আগ্রহী পড়ুয়াদের কাছে এই বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

কী পড়তে হয়?

জিনোম সিকোয়েন্সিং নিয়ে পড়তে চাইলে জেনেটিক্স, মলিকিউলার বায়োলজি, বায়োটেকনোলজি, মাইক্রোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি এবং বায়োইনফরমেটিক্সের মতো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। জিনোমের ডিএনএ-র ক্রম বিশ্লেষণ, জিনের পরিবর্তন শনাক্ত করা, ডেটা বিশ্লেষণ, সিকোয়েন্স অ্যালাইনমেন্ট এবং জৈবিক তথ্য থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য বের করার মতো বিষয় পড়ানো হয়।

ড্রাগ ডিজ়াইনিংয়ের ক্ষেত্রে রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের পাশাপাশি কম্পিউটারভিত্তিক পদ্ধতির গুরুত্ব রয়েছে। মলিকিউলার বায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, ফার্মাকোলজি, মেডিসিনাল কেমিস্ট্রি, স্ট্রাকচারাল বায়োলজি এবং বায়োইনফরমেটিক্সের সঙ্গে পরিচিত হতে হয়। কম্পিউটার-এডেড ড্রাগ ডিজ়াইন, মলিকিউলার ডকিং, ভার্চুয়াল স্ক্রিনিং এবং মলিকিউলার ডায়নামিক্সের মতো পদ্ধতিও এই ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

কী যোগ্যতা প্রয়োজন?

দ্বাদশে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করলে এই ক্ষেত্রে যাওয়ার পথ সহজ হয়। জীববিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত বা কম্পিউটার সায়েন্সের মধ্যে যে বিষয়গুলিতে আগ্রহ রয়েছে, তার ভিত্তিতে পরবর্তী কোর্স বেছে নেওয়া যায়। স্নাতক স্তরে বায়োটেকনোলজি, বায়োইনফরমেটিক্স, জেনেটিক্স, মাইক্রোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, ফার্মাসি বা কেমিস্ট্রির মতো বিষয়ে পড়া যায়।

স্নাতকোত্তর স্তরে জিনোমিক্স, জেনেটিক্স, বায়োইনফরমেটিক্স, মলিকিউলার বায়োলজি, ড্রাগ ডিজ়াইন বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোর্স করা যায়। গবেষণামূলক কেরিয়ার গড়তে চাইলে এমএসসি বা এমটেকের পর পিএইচডি করার সুযোগ রয়েছে। কোর্সভেদে ভর্তি পরীক্ষার পাশাপাশি নির্দিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি ও ন্যূনতম নম্বরের শর্ত থাকতে পারে।

দেশে কোথায় পড়ার সুযোগ?

ভারতে সরকারি বা সরকার-নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানে এই বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স, বেঙ্গালুরু, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, বিভিন্ন ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বায়োমেডিক্যাল জেনোমিক্স-এ জিনোমিক্স, বায়োইনফরমেটিক্স, মলিকিউলার বায়োলজি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া ন্যাশনাল সেন্টার ফর সেল সায়েন্স, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ইমিউনোলজি, সেন্টার ফর ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্টিং অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক্স এবং সেন্টার ফর সেলুলার অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজির মতো সরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানেও জিনোমিক্স ও মলিকিউলার বায়োলজি সংক্রান্ত গবেষণার সুযোগ রয়েছে।

ড্রাগ ডিজ়াইনিংয়ের দিকে যেতে চাইলে ফার্মাসি, কেমিস্ট্রি, বায়োকেমিস্ট্রি বা বায়োইনফরমেটিক্স পড়ে পরে গবেষণা করা যায়। আইআইটি, আইআইএসসি এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়েও এই ধরনের আন্তঃবিষয়ক গবেষণার সুযোগ রয়েছে।

বিদেশে পড়ার সুযোগ কেমন?

বিদেশে জিনোমিক্স ও ড্রাগ ডিজ়াইনিং নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ আরও বিস্তৃত। আমেরিকা, ব্রিটেন, কানাডা, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস এবং সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনোমিক্স, বায়োইনফরমেটিক্স, কম্পিউটেশনাল বায়োলজি, স্ট্রাকচারাল বায়োলজি এবং ড্রাগ ডিসকভারি নিয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি করা যায়।

তবে বিদেশে পড়ার খরচ দেশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স অনুযায়ী অনেকটাই আলাদা। মাস্টার্সের ক্ষেত্রে টিউশন ফি-র পাশাপাশি থাকা, খাওয়া, স্বাস্থ্যবিমা এবং অন্যান্য খরচ ধরতে হয়। আমেরিকা বা ব্রিটেনে মোট খরচ বছরে কয়েক দশক লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। জার্মানির মতো কিছু দেশে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি তুলনামূলক কম হলেও জীবনযাপনের খরচ বহন করতে হয়। স্কলারশিপ, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ এবং পিএইচডি-র ক্ষেত্রে ফান্ডিংয়ের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।

চাকরির সুযোগ কেমন?

এই বিষয়ে পড়াশোনা করে বায়োইনফরমেটিশিয়ান, জিনোমিক্স অ্যানালিস্ট, কম্পিউটেশনাল বায়োলজিস্ট, মলিকিউলার বায়োলজিস্ট, ড্রাগ ডিজ়াইনিং গবেষক, ড্রাগ ডিসকভারি সায়েন্টিস্ট, ক্লিনিক্যাল জেনোমিক্স বিশেষজ্ঞ বা গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করা যায়। সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সংস্থা, বায়োটেক সংস্থা এবং ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থাতে কাজের সুযোগ রয়েছে।

বিশেষ করে যাঁদের জীববিজ্ঞানের পাশাপাশি প্রোগ্রামিং, পরিসংখ্যান এবং ডেটা বিশ্লেষণে দক্ষতা রয়েছে, তাঁদের জন্য এই ক্ষেত্র আরও সম্ভাবনাময়। তাই শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, ল্যাবরেটরি কাজের পাশাপাশি পাইথন বা বায়োইনফরমেটিক্স সফটওয়্যারের মতো প্রযুক্তিগত দক্ষতা তৈরি করতে পারলে ভবিষ্যতে কাজের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হতে পারে।

Admission

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy