প্রস্থেটিক্স অ্যান্ড অর্থোটিক্স চিকিৎসাবিজ্ঞানের এমন একটি শাখা, যেখানে কৃত্রিম অঙ্গ তৈরি, নকশা ও ব্যবহার শেখানো হয়। পাশাপাশি, শরীরের কোনও অঙ্গ বা অস্থিসন্ধির নড়াচড়া ও কার্যক্ষমতা ঠিক রাখতে বিশেষ সহায়ক যন্ত্র বা অর্থোসিস তৈরি ও ব্যবহার সম্পর্কেও পড়াশোনা করা হয়। প্রতিবন্ধকতা, দুর্ঘটনা বা বিভিন্ন রোগের কারণে যাঁদের অঙ্গের কার্যক্ষমতা কমে যায়, তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে সাহায্য করেন এই ক্ষেত্রের পেশাদারেরা। ফলে চিকিৎসা ও প্রযুক্তির সংযোগস্থলে কাজ করতে আগ্রহী পড়ুয়াদের কাছে এটি একটি ভাল পেশার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
কী পড়তে হয়?
এই ক্ষেত্রে পেশা গড়তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোর্স হল ব্যাচেলর অফ প্রস্থেটিক্স অ্যান্ড অর্থোটিক্স (বিপিও)। এটি সাধারণত চার বছরের স্নাতক স্তরের কোর্স, যার সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের ক্লিনিক্যাল ইন্টার্নশিপ থাকে। কোর্সে মানবদেহের গঠন ও কার্যপ্রণালী, অ্যানাটমি, ফিজ়িয়োলজি, বায়োমেকানিক্স, প্রস্থেটিক্স, অর্থোটিক্স, মেটেরিয়াল সায়েন্স এবং পুনর্বাসন চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয় পড়ানো হয়।
প্রস্থেটিক্সে কৃত্রিম হাত, পা বা শরীরের অন্য কোনও অঙ্গ তৈরির নকশা, মাপ নেওয়া এবং ব্যবহার সম্পর্কে শেখানো হয়। অন্য দিকে, অর্থোটিক্সে শরীরের কোনও অঙ্গকে সঠিক অবস্থানে রাখা বা তার নড়াচড়ায় সহায়তা করার জন্য ব্রেস, সাপোর্ট বা বিশেষ যন্ত্র তৈরি ও ব্যবহার শেখানো হয়। প্রযুক্তির ব্যবহারও এই পেশায় গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক সময়ে থ্রিডি স্ক্যানিং, কম্পিউটার-ভিত্তিক ডিজ়াইন, থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের মতো প্রযুক্তিও এই ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে।
কী যোগ্যতা প্রয়োজন?
বিপিও কোর্সে ভর্তির জন্য সাধারণত দ্বাদশ শ্রেণিতে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন এবং জীববিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করতে হয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভর্তির নিয়ম আলাদা হতে পারে। কোথাও প্রবেশিকা পরীক্ষা, কোথাও মেধার ভিত্তিতে ভর্তি নেওয়া হয়। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট যোগ্যতা এবং ভর্তি প্রক্রিয়া দেখে নেওয়া প্রয়োজন।
স্নাতক হওয়ার পরে আরও স্পেশ্যালাইজ়েশনের জ্ঞান অর্জনের জন্য মাস্টার অফ প্রস্থেটিক্স অ্যান্ড অর্থোটিক্স-এর (এমপিও) মতো উচ্চশিক্ষার সুযোগও রয়েছে। গবেষণার ক্ষেত্রেও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
কোথায় পড়ার সুযোগ?
দেশের বেশ কিছু সরকারি ও সরকার-নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানে এই বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে কলকাতার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর লোকোমোটর ডিজ়অ্যাবিলিটিজ় (এনআইএলডি), মুম্বইয়ের অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ ফিজ়িক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন, দিল্লির সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অফ অর্থোটিক্স অ্যান্ড প্রস্থেটিক্স-র মতো প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও পুনর্বাসন-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে এই বিষয়ের কোর্স চালু রয়েছে। কোন শিক্ষাবর্ষে কোথায় ভর্তি চলছে, আসন সংখ্যা ও ভর্তি পদ্ধতি জানতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞপ্তি থেকেই জানা যায়।
আরও পড়ুন:
-
বিদ্যুৎ ছাড়াই প্রতিষেধক সংরক্ষণ! নবম শ্রেণির বিজ্ঞানের পাঠ থেকে রেফ্রিজারেটর তৈরি করল তিন কিশোর
-
টেট থেকে অব্যাহতি, বকেয়া ডিএ মেটানো-সহ ১৫ দফা দাবিতে সমাবেশ, স্মারকলিপি জমা দিলেন শিক্ষকদের একাংশ
-
আর্কটিক অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব বা প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়ে গবেষণা! মিলতে পারে টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ বৃত্তি
চাকরির সুযোগ কেমন?
বিপিও পড়ার পরে প্রস্থেটিস্ট অ্যান্ড অর্থোটিস্ট হিসেবে কাজ করা যায়। সরকারি হাসপাতাল, পুনর্বাসন কেন্দ্র, বিশেষভাবে সক্ষম পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান, মেডিক্যাল কলেজ, কৃত্রিম অঙ্গ তৈরির কেন্দ্র এবং বেসরকারি হাসপাতালেও কাজের সুযোগ রয়েছে। অনেকে স্পোর্টস রিহ্যাবিলিটেশন, নিউরো-রিহ্যাবিলিটেশন বা পেডিয়াট্রিক রিহ্যাবিলিটেশনের মতো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রেও কাজ করেন।
এই পেশায় রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী কৃত্রিম অঙ্গ বা সহায়ক যন্ত্রের নকশা তৈরি, মাপ নেওয়া, ফিটিং এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করার কাজ করতে হয়। চিকিৎসক, ফিজ়িয়োথেরাপিস্ট, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করেও কাজ করতে হয়।
ভবিষ্যতে সম্ভাবনা
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বা অঙ্গহানির পরে মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আরও স্বাভাবিক করে তুলতে পুনর্বাসন পরিষেবার গুরুত্ব বাড়ছে। একই সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে কৃত্রিম অঙ্গ ও সহায়ক যন্ত্রও আরও আধুনিক হচ্ছে। ফলে চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং মানুষের পুনর্বাসন—এই তিন ক্ষেত্রেই আগ্রহ রয়েছে এমন পড়ুয়াদের জন্য প্রস্থেটিক্স অ্যান্ড অর্থোটিক্স একটি বিশেষায়িত কেরিয়ার পথ হতে পারে।