Advertisement
E-Paper

হিমালয়ের গ্রামে পানীয় জলের জোগান বাড়াল আইআইটি রুরকি, তৈরি হল নতুন প্রাকৃতিক জলধারা

আইআইটি রুরকির ভূবিজ্ঞান বিভাগের নেতৃত্বে ‘রিজুভিনেশন অফ ড্রাইং স্প্রিংস ইন তাকোলি গাড ক্যাচমেন্ট অফ তেহরি ডিস্ট্রিক্ট’ প্রকল্পের অধীনে এই জলাধার তৈরি করা হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ০৯:০১
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে পানীয় জলের সঙ্কট মেটাতে উদ্যোগী হল ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি) রুরকি। উত্তরাখণ্ডের তেহরি গাড়োয়াল জেলার উনছৌন গ্রামে গবেষণার মাধ্যমে একটি নতুন প্রাকৃতিক জলধারা বা স্প্রিং তৈরি করেছেন এই প্রতিষ্ঠানের গবেষকেরা। তাঁদের দাবি, এর ফলে খরার মরসুমে গ্রামটির দৈনিক পানীয় জলের জোগান প্রায় ৫০০ লিটার থেকে বেড়ে ১,০০০ লিটার বা তারও বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের ‘নমামি গঙ্গে’ এবং ‘ন্যাশনাল মিশন ফর ক্লিন গঙ্গা’ প্রকল্পের অর্থসাহায্যে এই কাজ হয়েছে।

আইআইটি রুরকির ভূবিজ্ঞান বিভাগের নেতৃত্বে ‘রিজুভিনেশন অফ ড্রাইং স্প্রিংস ইন তাকোলি গাড ক্যাচমেন্ট অফ তেহরি ডিস্ট্রিক্ট’ প্রকল্পের অধীনে এই জলাধার তৈরি করা হয়েছে। হিমালয়ের পার্বত্য এলাকায় প্রাকৃতিক জলের উৎসগুলি শুকিয়ে যাওয়া বা সেগুলির জলপ্রবাহ কমে আসার সমস্যা মোকাবিলাই ছিল গবেষণার মূল লক্ষ্য।

কী ভাবে তৈরি হল নতুন জলধারা?

গবেষকেরা তেহরি জেলার প্রায় ১৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে তাকোলি গাড জলবিভাজিকা অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, বৃষ্টিপাত এবং শিলার গঠন নিয়ে গবেষণা করেন। তাঁদের কাজের ভিত্তি ছিল দু’টি গবেষণাপত্র। একটি গবেষণায় দেখা যায়, হিমালয়ের এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক জলধারাগুলির ভূগর্ভস্থ জল মূলত বর্ষার বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল। গবেষণা অনুযায়ী, মোট জল পুনর্ভরণের প্রায় ৮২ শতাংশ আসে বর্ষাকালের বৃষ্টি থেকে। শীতকালীন বৃষ্টি থেকে আসে ১০ শতাংশ এবং প্রাক্‌বর্ষার বৃষ্টি থেকে ৮ শতাংশ।

অন্য দিকে, ‘অ্যাপ্লায়েড জিয়োকেমিস্ট্রি’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে এলাকার ভূগর্ভস্থ শিলা ও খনিজের গঠন সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। এই দুই গবেষণার ফলাফল কাজে লাগিয়েই নতুন জলধারা তৈরির পরিকল্পনা করেন বিজ্ঞানীরা।

প্রথমে পাহাড়ের ঢালে একাধিক খাত বা ট্রেঞ্চ তৈরি করা হয়। এর ফলে বৃষ্টির জল দ্রুত নীচে নেমে না গিয়ে ধীরে ধীরে মাটির ভিতরে প্রবেশ করতে পারে। পরে জলবাহী শিলাস্তর চিহ্নিত করে সেখানে নিয়ন্ত্রিত প্রবেশপথ তৈরি করা হয়। এর মাধ্যমে ভূগর্ভে সঞ্চিত জলকে একটি নির্দিষ্ট পথে বাইরে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। এ ভাবেই উনছৌন গ্রামে নতুন প্রাকৃতিক জলধারাটি তৈরি করা হয়েছে।

তেহরি গাড়োয়াল জেলার কীর্তিনগর ব্লকের উনছৌন গ্রামে চন্দ্রবদিনী মন্দিরের দিকে যাওয়া নতুন রাস্তার পাশে এই জলধারাটি তৈরি করা হয়েছে। গবেষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর ফলে খরার মরসুমে গ্রামটির দৈনিক পানীয় জলের জোগান বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। আগে যেখানে দিনে প্রায় ৫০০ লিটার জল পাওয়া যেত, এখন তা ১,০০০ লিটার বা তার বেশি।

হিমালয়ের বহু এলাকায় প্রাকৃতিক জলধারা শুকিয়ে যাওয়া বা জলপ্রবাহ কমে আসা স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে ভূবৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে জলধারা পুনরুজ্জীবিত করার আইআইটি রুরকির এই পদ্ধতি অন্য পার্বত্য এলাকাতেও কাজে লাগানো যেতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

আইআইটি রুরকির অধিকর্তা অধ্যাপক কেকে পন্থ জানিয়েছেন, গবেষণার সার্থকতা তখনই, যখন তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছোয়। তাঁর মতে, হিমালয়ের গ্রামীণ এলাকায় পানীয় জলের সঙ্কট মোকাবিলায় এই উদ্যোগ গ্রামবাসীর বিপুল সাহায্য করবে।

IIT Roorkee

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy