এনটিএ-র পরীক্ষাব্যবস্থায় আসতে পারে বদল, খতিয়ে দেখা হচ্ছে একাধিক দিক। ২০২৪ সালের নিট বিতর্কের পর প্রাক্তন ইসরো প্রধানকে রাধাকৃষ্ণনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির তৈরি নকশাকে ভিত্তি করেই পরীক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স। পড়ুয়া, অভিভাবক, শিক্ষক, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থাগুলির কাছ থেকেও মতামত নেওয়া হচ্ছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাধাকৃষ্ণন কমিটি ১০১টি সুপারিশ এবং ৪৬টি অ্যাকশন পয়েন্ট জমা দিয়েছিল। সেই সুপারিশগুলির ভিত্তিতে আগামী দিনে এনটিএ-র পরীক্ষায় যে ৭টি পরিবর্তন দেখা যেতে পারে—
১। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো
প্রশ্নপত্র তৈরি, ছাপানো, সংরক্ষণ এবং পরিবহণের প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। এনক্রিপ্টেড ট্রান্সমিশন এবং পরীক্ষাকেন্দ্রের কাছাকাছি প্রশ্নপত্র ছাপানোর মতো ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছিল। ইতিমধ্যেই মাল্টি-লেয়ার ফ্রিস্কিং এবং সিসিটিভি নজরদারি চালু হয়েছে। নতুন টাস্ক ফোর্সের লক্ষ্য, নিরাপত্তার নিয়মগুলি যাতে মাঠপর্যায়ে ঠিক ভাবে কার্যকর হয় তা নিশ্চিত করা।
২। পরীক্ষাকেন্দ্র বাছাইয়ে পরিবর্তন
পরীক্ষাকেন্দ্র নির্বাচন এবং বরাদ্দের পদ্ধতিতেও বদল আসতে পারে। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে বেশি করে পরীক্ষাকেন্দ্র হিসাবে ব্যবহারের সুপারিশ করেছিল রাধাকৃষ্ণন কমিটি। নিট ইউজি ২০২৬-এর ক্ষেত্রে ৯৯.৫ শতাংশের বেশি পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল সরকারি প্রতিষ্ঠান। এই মডেলকে ভবিষ্যতে আরও পরীক্ষায় ব্যবহার করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
৩। ডিজিটাল পরিচয় ও বায়োমেট্রিক যাচাই
পরীক্ষার্থীর পরিচয় নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক এবং ফেস অথেন্টিকেশনের মতো প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়তে পারে। রাধাকৃষ্ণন কমিটির ‘ডিজি-এগজ়াম’ কাঠামোয় বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের প্রস্তাব ছিল। পরীক্ষার্থীর পরিচয়, উপস্থিতি এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত তথ্য নিরাপদ ভাবে একসঙ্গে রাখার ব্যবস্থার উপরেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
৪। এআই ও সাইবার সুরক্ষা ব্যবহার
পরীক্ষাব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এবং সাইবার সুরক্ষা ব্যবস্থার ব্যবহার আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। রাধাকৃষ্ণন কমিটি তথ্য সুরক্ষা জোরদার করার পাশাপাশি ধাপে ধাপে কম্পিউটার-ভিত্তিক এবং কম্পিউটার-অ্যাডাপ্টিভ পরীক্ষার দিকে যাওয়ার সুপারিশ করেছিল।
৫। এনটিএ-র পরিচালন কাঠামোয় সংস্কার
শুধু পরীক্ষা পরিচালনার পদ্ধতি নয়, এনটিএ-র অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ও পরিচালন কাঠামোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থার কাজের পদ্ধতি আরও কার্যকর এবং নির্ভরযোগ্য করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
৬। অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ জানানো এবং সেই অভিযোগের দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনার চেষ্টা হচ্ছে। পড়ুয়া ও অভিভাবকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের সমস্যাগুলি বোঝার চেষ্টা করছে টাস্ক ফোর্স। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ যাতে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছোয়, সেই ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
৭। সুপারিশ বাস্তবায়নের উপর নজরদারি
রাধাকৃষ্ণন কমিটির সুপারিশগুলির মধ্যে কোনগুলি ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে এবং কোনগুলি এখনও বাকি রয়েছে, তা চিহ্নিত করার কাজও চলছে। ভবিষ্যতে প্রতিটি সুপারিশের বাস্তবায়ন কতটা হয়েছে, তার উপর নিয়মিত নজরদারি রাখার ব্যবস্থাও তৈরি হতে পারে।