মনোবাঞ্ছা পূরণের জন্য তার মন্ত্র পড়ার সময়েই শুধু গণেশকে ঈশ্বর বলে মনে করি। নয়তো গণেশকে কখনও আমার মনে হয় বড়দাদার মতো, কখনও সে আমার সন্তানতুল্য, কখনও আমার ছোটভাই, কখনও সে দুঃখনাশ করে, কখনও অভাব দূর করে। যেমন সব পুজোর শুরুতে গণেশের আরাধনা করা হয়। তেমনই আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, আমার জীবনের সবকিছুর শুরুর মূল মন্ত্র গণেশ।
আমি যখন ছোটবেলায় পরীক্ষা দিতে যেতাম, আমার মা সঙ্গে সঙ্গে যেতেন। আর বাড়িতে আমার ছোটমা, মানে জেঠিমা, সবসময়ে বলতেন, “সিদ্ধিদাতা গণেশ, তুমি ওকে আশীর্বাদ কোরো। ও যেন সিদ্ধিলাভ করে আসতে পারে”। সেই সিদ্ধিলাভ নিশ্চয়ই হয়েছে বলে মনে করি। আমার মনে হয়, গণেশ ভীষণ মাটির কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করে। গণেশ যে বিরাট কিছু কাণ্ড ঘটিয়েছে, কাউকে অভিশাপ দিয়েছে, এ রকম খুব একটা আমরা শুনতে পাই না। সে শুধু লিখে গিয়েছে। সে ‘মহাভারত’ লিখেছে। বম্বের মতো বিশাল শহরকে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ করে তুলেছে গণেশ। সিদ্ধিবিনায়কের কথা আমরা কে না জানি! পৃথিবীর বেশ অনেকগুলো শহরে গিয়েছি। মুম্বইয়ের মতো মাতোয়ারা, চলমান শহর আমি দেখিনি। না নিউ ইয়র্ক, না লন্ডন, না প্যারিস! মুম্বইয়ের যে উষ্ণতা আছে, যে একটা অনুরণন আছে— তা সিদ্ধিবিনায়কের জন্যই বলে মনে করি। গণেশ যাকে ধারণ করে আছে, সে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে।
আমাদের দুর্গাপুজোর বিসর্জনের সময় সব ঠাকুরকে নমস্কার করি, শুধু গণেশের গালে চুমু খেয়ে বলি, “আবার এসো”। প্রচণ্ড কষ্ট হয়। মনে হয় নিজের পরিবারের লোক ছেড়ে যাচ্ছে। গণেশকে আসলে অনেক কথা বলা যায়। নিদেনপক্ষে তার ইঁদুরের কাছে অনেক কথা বলে গণেশের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। গণেশ হচ্ছে সেই সন্তান, যে মায়ের সঙ্গে এঁটে থাকে। গণেশ খুব বাধ্য। সে বড়ভাই হলেও, তার মধ্যে একটা ছেলেমানুষি রয়েছে।
আরও পড়ুন:
ছোটবেলা থেকেই আমি নাদুসনুদুস। অনেকেই আমাকেও গোবর-গণেশ বলত বটে। কিন্তু গণেশের ওই চেহারার মধ্যেও একটা মিষ্টত্ব আছে। গণেশকে নানা রূপে কল্পনা করা যায়। আমাদের বাড়িতেই তার অনেক উদাহরণ, অজস্র রূপে গণেশ রয়েছে আমাদের বাড়িতেও। বিশাল কোনও দোকানে ঢুকলে দেখা যায়, যত জিনিসই থাকুক না কেন, সঙ্গে গণেশ-লক্ষ্মী। ছোট দোকানেও তাই। যেন তাঁর হাতেই সব ক্ষমতা। গণেশ কারও প্রতি বিরূপ হলে কী অবস্থা হয়, সে তো আমরা জানিই। কথাতেই তো বলে, ‘গণেশ উল্টে গিয়েছে’!
গণেশকে দেখলেই কোলে নিতে ইচ্ছা করে। এক বার এক পুজোমণ্ডপে দেখেছিলাম মা দুর্গাকে ইটভাটায় কাজ করে এমন এক মহিলার রূপে তৈরি করা হয়েছিল। তিন ভাইবোন দাঁড়িয়ে, গণেশ মায়ের কোলে। সেই গণেশকে আমি আজও ভুলতে পারিনি। গণেশ আমার সবচেয়ে প্রিয়।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- লক্ষ্মীপুজো যে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই হয় তা নয়, দেশের নানা প্রান্তে হয়, তবে পুজোর আচার ভিন্ন। মহারাষ্ট্রে তা লক্ষ্মী পূজন, গুজরাতে আবার চোপড়া পূজন। ওড়িশায় তা-ই গজলক্ষ্মীর আরাধনা। কোন রাজ্যে কেমন ভাবে লক্ষ্মী পুজো হয়?
- উত্তমকুমার নিষ্ঠাভরে বাড়ির লক্ষ্মীপুজো করতেন। তাই এই পুজোর নামই হয়ে গিয়েছিল ‘উত্তমকুমারের বাড়ির পুজো’। এখনও এই পুজো এ ভাবেই পরিচিত। পুজোর ঐতিহ্য এবং রীতি নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে আড্ডা দিলেন উত্তম কুমারের ভাইঝি ও নাতনি।
- সময় করে বসে পুজোর জন্য আলপনা দেওয়া এক প্রকার বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। শহরে তো বটেই, মফস্সলেও। ইদানীং সমাজমাধ্যমের রিলে হাতপাখা থেকে শুরু করে পুরনো শাড়ি, চায়ের টেবিল থেকে ডায়েরির মলাট কিংবা বসার ঘরের মেঝে, সর্বত্র আলপনা দিচ্ছেন হুজুগে মানুষজন।
-
শতবর্ষপ্রাচীন প্রতিমার পুজোর ভোগে ১০ রকমের খাবার! দেবাদৃতার ঘরোয়া লক্ষ্মীপুজো ঠিক কেমন হল
-
ঘরোয়া ভাবে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে এ বার লক্ষ্মীপুজো শ্রীলেখার! দেবীর কাছে কোন বিশেষ প্রার্থনা করবেন তিনি?
-
‘মায়ের পছন্দ না হলে আমার হাত দিয়ে অন্য কিছু করান,’ অপরাজিতার বাড়ির লক্ষ্মীপুজোয় এ বার কী কী আয়োজন?
-
কেন জোড়া ইলিশ দেওয়া হয় লক্ষ্মীপুজোয়? তেল-মশলা ছাড়াই বানানো হয় ভোগপ্রসাদ, রন্ধনের নিয়মও আলাদা
-
লক্ষ্মীলাভে কেন পিছিয়ে বাংলা ছবি, কোন পথে আসবে সমৃদ্ধি? কী বলছেন প্রযোজক-পরিচালক-অভিনেতারা