নতুন প্রজন্মের ব্যস্ত অভিনেত্রীদের মধ্যে তিনি অন্যতম। ব্যস্ততাও যেমন বেড়েছে, তেমনই জীবনে জুড়েছে বিতর্কও। এই সবের ভিড়ে দুর্গাপুজোর আমেজ কি আগের মতো উপভোগ করতে পারেন শ্যামৌপ্তি মুডলী? এই বছরের পুজোই বা কী ভাবে কাটাবেন তিনি?
শিশুশিল্পী হিসাবে অভিনয়ে হাতেখড়ি তাঁর। কিন্তু ধারাবাহিকের নায়িকার হওয়ার পরেই যেন দুর্গাপুজোগুলো একটু অন্যরকম হয়ে গিয়েছে। শ্যামৌপ্তি বললেন, “তখন আমি পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। সেই সময় তো সে ভাবে পর্দায় কাজ শুরু করিনি। তখনকার পুজোগুলো অন্যরকম ছিল। মামারবাড়ির সঙ্গে খুবই ঘনিষ্ঠ আমি। ছোটবেলায় মনে হত স্কুলের ছুটি। আঁকার ক্লাসের ছুটি। মনে হত খালি ঘুরে বেড়াব আর ঠাকুর দেখব।”
শ্যামৌপ্তির ছোটবেলার দুর্গাপুজো কেমন ছিল? ছবি: সংগৃহীত।
শ্যামৌপ্তির এখনও মামাবাড়ির সকলের সঙ্গে পুজোয় ঘুরতে বেড়ানোর কথা খুব মনে পড়ে। তিনি জানান, প্রায় ৫০-৬০ জন একসঙ্গে ঘুরতে বেরোতেন। তবে এখন পুজোর উদ্যাপন অন্য রকমের হয়ে গিয়েছে। শ্যামৌপ্তি যোগ করেন, “ধারাবাহিক যখন করছিলাম, সেই সময়ে তো পুজোর সময় ছুটি পাওয়া মানে, স্কুলের ছুটি পাওয়ার কথাই মনে হত। ইদানীং অবশ্য একটু সময় আছে হাতে।”
তা হলে কি ২০২৬-এর দুর্গাপুজোটা একটু অন্যরকম শ্যামৌপ্তির কাছে? হিসাব বলছে, বিয়ের পরে প্রথম পুজো তাঁর। রণজয়ের সঙ্গে দুর্গাপুজোর কোনও আলাদা পরিকল্পনা করেননি? প্রশ্ন শুনে মৃদু হাসি নায়িকার। বললেন, “সত্যি বলছি এই বছরের পুজোয় নিজেকে সময় দিতে চাই।” খড়্গপুরে শ্যামৌপ্তিদের আদি বাড়ি। সেখানে প্রতি বছর জাঁকজমক ভাবে পুজো হয়। যৌথ পরিবারের, প্রতি বছর কারও কারও পালা পড়ে। এই বছর শ্যামৌপ্তির বাবার পালা। ফলে আসন্ন দুর্গাপুজোর যাবতীয় সব দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। তাই একটা দিন খড়্গপুরে নিজের ওই বাড়িতেই সময় দেবেন তিনি। বাকি তিন দিনের কি কিছু পরিকল্পনা করলেন?
এই বছরে পুজোর চারটে দিন কী ভাবে কাটাবেন? ছবি: ফেসবুক।
নায়িকা বলেন, “সিরিজ়ের কাজ চলছে। আরও নানা ধরনের কাজ আছে। এখন তাই মণ্ডপে ঘোরার সেই এনার্জি পাই না। আমি তো সুপারস্টার নই যে বেরোতে পারব না। কিন্তু ইচ্ছা করে না ভিড়ে বেরোতে। তাই বন্ধুদের সঙ্গে পরিকল্পনা করে ফেলব। কিন্তু একটা জায়গায় যেতেই হবে। সেখানে না গেলে দুর্গাপুজো অসমাপ্ত আমার কাছে।”
দুর্গাপুজোর সময়ে মেলায় ঘুরতে যেতে ভালবাসেন নায়িকা। তাই এই বছরেও তার অন্যথা হবে না। একটা দিন যাবেন মেলা ঘুরতে। কিন্তু পুজো মানে তো প্রেম। সেটা ছাড়াই কি কাটবে তাঁর পুজো। নায়িকার সটান জবাব, “আমি প্রেমিক মানুষ। আমার জীবনে সবসময় প্রেম আছে। আসলে প্রেম তো বিভিন্ন ধরনের হয়। একটা চেনা গণ্ডির মধ্যে আটকে না থাকলেই হল।” একই সঙ্গে নায়িকা ফিরে গেলেন ছোটবেলার প্রেমে। মাকে না জানিয়ে লুকিয়ে প্রেম করার সাহস তিনি কোনও দিনই পাননি।
পুজোয় রণজয়ের সঙ্গে সময় কাটাবেন না শ্যামৌপ্তি? ছবি: ফেসবুক।
শ্যামৌপ্তি বলেন, “সকলে বলে পুজোর সময় প্রেম শুরু হয় ষষ্ঠীতে আর শেষ হয়ে যায় দশমীতেই। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে অবশ্য উল্টো হয়েছিল। দশমীতে প্রেম হয়েছিল এক বার। সেই সম্পর্ক চলেছিল অনেক বছর।” তবে নানা ওঠা-পড়া পেরিয়ে নায়িকা খুব অল্প সময়েই অনেকটা পরিণত। তাই তাঁর কাছে এখন পুজোর আনন্দ মানে পরিবারের মানুষ আর একলাযাপন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- লক্ষ্মীপুজো যে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই হয় তা নয়, দেশের নানা প্রান্তে হয়, তবে পুজোর আচার ভিন্ন। মহারাষ্ট্রে তা লক্ষ্মী পূজন, গুজরাতে আবার চোপড়া পূজন। ওড়িশায় তা-ই গজলক্ষ্মীর আরাধনা। কোন রাজ্যে কেমন ভাবে লক্ষ্মী পুজো হয়?
- উত্তমকুমার নিষ্ঠাভরে বাড়ির লক্ষ্মীপুজো করতেন। তাই এই পুজোর নামই হয়ে গিয়েছিল ‘উত্তমকুমারের বাড়ির পুজো’। এখনও এই পুজো এ ভাবেই পরিচিত। পুজোর ঐতিহ্য এবং রীতি নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে আড্ডা দিলেন উত্তম কুমারের ভাইঝি ও নাতনি।
- সময় করে বসে পুজোর জন্য আলপনা দেওয়া এক প্রকার বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। শহরে তো বটেই, মফস্সলেও। ইদানীং সমাজমাধ্যমের রিলে হাতপাখা থেকে শুরু করে পুরনো শাড়ি, চায়ের টেবিল থেকে ডায়েরির মলাট কিংবা বসার ঘরের মেঝে, সর্বত্র আলপনা দিচ্ছেন হুজুগে মানুষজন।
-
শতবর্ষপ্রাচীন প্রতিমার পুজোর ভোগে ১০ রকমের খাবার! দেবাদৃতার ঘরোয়া লক্ষ্মীপুজো ঠিক কেমন হল
-
ঘরোয়া ভাবে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে এ বার লক্ষ্মীপুজো শ্রীলেখার! দেবীর কাছে কোন বিশেষ প্রার্থনা করবেন তিনি?
-
‘মায়ের পছন্দ না হলে আমার হাত দিয়ে অন্য কিছু করান,’ অপরাজিতার বাড়ির লক্ষ্মীপুজোয় এ বার কী কী আয়োজন?
-
কেন জোড়া ইলিশ দেওয়া হয় লক্ষ্মীপুজোয়? তেল-মশলা ছাড়াই বানানো হয় ভোগপ্রসাদ, রন্ধনের নিয়মও আলাদা
-
লক্ষ্মীলাভে কেন পিছিয়ে বাংলা ছবি, কোন পথে আসবে সমৃদ্ধি? কী বলছেন প্রযোজক-পরিচালক-অভিনেতারা