যিনি নায়ক বলেই পরিচিত, এ বার পুজোয় তিনিই খলনায়ক। সেই ছবিতে আবার একেবারে অন্য রকম এক নায়কও রয়েছেন। আর তিনি বলছেন, “আমি তো খলনায়ক হব ভেবেই সিনেমায় কাজ করতে এসেছি। কোনও চরিত্র করতেই অসুবিধা নেই আমার।”
অল্প সময়ের ব্যবধান। তার মধ্যেই ঋত্বিক চক্রবর্তীর দু’টি ছবি। একটিতে কেন্দ্রীয় চরিত্র। যাকে নায়ক বলা চলে। আর অন্যটিতে খলনায়ক। প্রথমটি ‘উইঙ্কল টুইঙ্কল’। পরেরটি ‘দ্য একেন: কেরালায় কুরুক্ষেত্র’। একেনের দুনিয়ায় ঋত্বিক প্রবেশ করেছেন খলচরিত্রে। তাতে তাঁর অসুবিধা নেই, স্পষ্ট জানাচ্ছেন অভিনেতা। ঋত্বিক বলেন, ‘‘আমাকে তো আসলে নায়কের মতো দেখতে না। যখন সিনেমা করতে আসি, তখন তো ভেবেই এসেছিলাম যে ভিলেন হব। নায়কের বন্ধু হব নাকি?’’
একেনের দুনিয়ায় ঋত্বিক প্রবেশ করেছেন খলচরিত্রে। ছবি: সংগৃহীত।
আসলে তিনি কতটা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে কাজ করছেন, শুধু তা নিয়ে মাথাব্যথা নেই এই অভিনেতার। হাসিমুখে, নম্র স্বভাবে তা বুঝিয়ে দিতে পারেন তিনি। কত জনে তাঁকে দেখে হাততালি দিলেন, তা নিয়ে যে ভাবেন না, এমন নয়। কিন্তু শুধু সেটি নিয়েই পড়ে থাকেন না। আরও পাঁচটা জিনিস তাঁকে ভাবায়। স্বভাবে নরম, ব্যবহারে ঘরোয়া এই অভিনেতার প্রতিটা কথায় তা বেরিয়ে আসে। যদিও বলতে ভোলেন না যে, ‘‘আমাকে অনেক লোকে দেখবে, ভাল বলবে— সেগুলো সবই চাই!’’
কত জনে তাঁকে দেখে হাততালি দিলেন, তা নিয়ে যে ভাবেন না, এমন নয়। ছবি: সংগৃহীত।
তবে লোকের মনে তিনি অভিনেতা হিসাবে জায়গা করে নিতে চেয়েছেন, তারকা হিসাবে ঠিক নয়। ফলে নানা রকম কাজ করেছেন। শুধু খলচরিত্রে তো আর আবদ্ধ রাখতে হয়নি নিজেকে। মূলত মুখ্য চরিত্রেই কাজ করেছেন ঋত্বিক। সেই শুরু থেকেই। এখনও কি তাঁর অস্বস্তি হয় না ছবিতে অন্য কোনও নায়ক থাকলে? অভিনেতার কিন্তু দাবি, সে সব অস্বস্তি তাঁর জন্য নয়। তিনি হলেন এমন এক মানুষ যিনি কিনা আসলে অভিনয়টাই করতে চান। তাঁকে যে চরিত্রই দেওয়া হবে, সেটিই মন দিয়ে করবেন। এবং এত রকম চরিত্র যে এখনও আসে তাঁর কাছে, তাতেই খুশি ঋত্বিক। মনে করেন তিনি ভাগ্যবান যে, এখনও এত রকম চরিত্রের জন্য পরিচালকেরা তাঁকে ভরসা করেন।
তবে তিনি কি শুধুই অভিনেতা? তা তো নয়। ঋত্বিক নিজেকে সচেতন নাগরিক হিসাবে গড়েছেন। মনে করেন সেই সচেতনতা প্রদর্শনের প্রয়োজন আছে। ঋত্বিক বলেন, ‘‘সকল নাগরিকের দায়িত্ব আছে কিছু। সকলেরই সে দায়িত্ব সক্রিয় ভাবে পালন করা জরুরি।’’ সকলে উদ্যোগী হলে তবেই তো একটা সচেতন সমাজ গড়া যাবে। তাই নানা বিষয়ে মতামত দেন, নিজের মতো করে চারপাশ নিয়ে ভাবেন। সমাজটাকে মন দিয়ে দেখেন। তবে সবের উপরে তিনি অভিনেতা। তাই সমাজের যে সকল চরিত্রকে তিনি পছন্দ করেন না, তেমন চরিত্রেও অভিনয় করতে অসুবিধা নেই ঋত্বিকের। তবে যে মত বা পথে বিশ্বাস রাখেন না তিনি, তার প্রচারমূলক কোনও ধরেন ছবি করেন না ঋত্বিক। সাফ কথা অভিনেতার।
“আমি খুবই পারিবারিক মানুষ।” ছবি: সংগৃহীত।
কিন্তু তিনি কি এতই গুরুগম্ভীর এক জন মানুষ, যিনি পুজোর সময়েও এত ভারী কথাই ভাবেন? দেশ-দশের কথা যেমন বলেন আর ভাবেন, তেমনই কিন্তু পরিবারের কথা বলেন অভিনেতা। নিজেকে অত্যন্ত পারিবারিক এক ব্যক্তিই মনে করেন তিনি। ঋত্বিক বলেন, ‘‘আমি খুবই পারিবারিক। এটা আমার পরিবারই বলবে। এবং আমি সব দিক থেকে বাঙালি।’’
আরও পড়ুন:
সাধারণ বাঙালি জীবনযাপন, খাওয়াদাওয়া, ভাবনাচিন্তা তাঁকে টানে। সে সব নিয়েই থাকেন। রোজ বাজারে যান, পুজোর সময়ে পরিবার নিয়ে বেড়াতে যান। এ বছর যেমন পুজোর ছুটিতে সপরিবার হিমাচলপ্রদেশ পাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন আগে থেকেই। অভিনেতা বলেন, ‘‘পুজোর সময়ে ছেলের স্কুল ছুটি থাকে। তাই এই সময়টায় একটু বেড়াতে যাওয়ার ব্যবস্থা করি। বছরের অন্য সময়ে তো এ রকম সুযোগ পাওয়া মুশকিল।’’ কথায়-গল্পে তিনি সে দিক থেকে একান্তই ঘরোয়া। পছন্দের খলনায়ক যতই গব্বর সিং হোক না কেন, একেনের ছবির এই খলনায়ক পর্দার ও পারে একেবারেই পারিবারিক বাঙালি ভদ্রলোক। রোজ সকালে বাজার যান। পরিবারের সকলকে নিয়ে বাঁচেন। ফারাক শুধু একটাই, চারপাশটা দেখে প্রয়োজন বুঝলে প্রতিবাদ করেন। কারণ, সেটাও কর্তব্য বলে মনে করেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- লক্ষ্মীপুজো যে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই হয় তা নয়, দেশের নানা প্রান্তে হয়, তবে পুজোর আচার ভিন্ন। মহারাষ্ট্রে তা লক্ষ্মী পূজন, গুজরাতে আবার চোপড়া পূজন। ওড়িশায় তা-ই গজলক্ষ্মীর আরাধনা। কোন রাজ্যে কেমন ভাবে লক্ষ্মী পুজো হয়?
- উত্তমকুমার নিষ্ঠাভরে বাড়ির লক্ষ্মীপুজো করতেন। তাই এই পুজোর নামই হয়ে গিয়েছিল ‘উত্তমকুমারের বাড়ির পুজো’। এখনও এই পুজো এ ভাবেই পরিচিত। পুজোর ঐতিহ্য এবং রীতি নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে আড্ডা দিলেন উত্তম কুমারের ভাইঝি ও নাতনি।
- সময় করে বসে পুজোর জন্য আলপনা দেওয়া এক প্রকার বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। শহরে তো বটেই, মফস্সলেও। ইদানীং সমাজমাধ্যমের রিলে হাতপাখা থেকে শুরু করে পুরনো শাড়ি, চায়ের টেবিল থেকে ডায়েরির মলাট কিংবা বসার ঘরের মেঝে, সর্বত্র আলপনা দিচ্ছেন হুজুগে মানুষজন।
-
শতবর্ষপ্রাচীন প্রতিমার পুজোর ভোগে ১০ রকমের খাবার! দেবাদৃতার ঘরোয়া লক্ষ্মীপুজো ঠিক কেমন হল
-
ঘরোয়া ভাবে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে এ বার লক্ষ্মীপুজো শ্রীলেখার! দেবীর কাছে কোন বিশেষ প্রার্থনা করবেন তিনি?
-
‘মায়ের পছন্দ না হলে আমার হাত দিয়ে অন্য কিছু করান,’ অপরাজিতার বাড়ির লক্ষ্মীপুজোয় এ বার কী কী আয়োজন?
-
কেন জোড়া ইলিশ দেওয়া হয় লক্ষ্মীপুজোয়? তেল-মশলা ছাড়াই বানানো হয় ভোগপ্রসাদ, রন্ধনের নিয়মও আলাদা
-
লক্ষ্মীলাভে কেন পিছিয়ে বাংলা ছবি, কোন পথে আসবে সমৃদ্ধি? কী বলছেন প্রযোজক-পরিচালক-অভিনেতারা