মহালয়া হয়ে যাওয়া মানেই পুজো শুরু। ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে। ছেলেবেলায় ঠিক এই সময় স্কুলে ছুটি পড়ত। এক মাস বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হবে না ভেবে কষ্টও হত, আবার খানিক আনন্দও ছিল পুজোর। আমার পুজোয় সবচেয়ে পছন্দের বিষয় হল, আলোয় আলোয় ভরে ওঠা চারিদিক। চেনা শহরটাই তখন নতুন মনে হয়। আর মনটাও কেমন আনন্দে ভরে ওঠে।
এখন তো ষষ্ঠী পর্যন্ত উদ্বোধনেই কেটে যায়। এ বারেও কিছু কাজ রয়েছে। আর বাকি সময় আমার আবাসনেই পুজো হয়। সেখানেই পরিবার, প্রতিবেশীদের নিয়ে কেটে যায়। খুব বেশি বাইরে যাওয়ারও দরকার হয় না। কারণ, আমি নিজে খুব একটা প্যান্ডেলে গিয়ে ঠাকুর দেখা পছন্দ করি না। এত ভিড় থাকে। বাড়িতে পরিবারের সকলের সঙ্গে হই হই করে আনন্দ করে কাটে। আমার কিছু বন্ধুও আসে, তাদের সঙ্গেও আড্ডা জমে।
পুজোর চার দিন শাড়িতেই সাজতে পছন্দ করি: পায়েল। ছবি: সংগৃহীত।
আমার আবাসনে প্রতিবছর বাবা-মায়ের সঙ্গেই অঞ্জলি দিতে যাই। এ বারও সেই ইচ্ছাই রয়েছে। সিল্ক শাড়ি, মায়ের গয়না পরেই সাজব অষ্টমীতে। আর যা শাড়ি রাখা সেইখান থেকেই প্ল্যান করে নেব। শাড়ি ছাড়া পুজোয় তো আর কিছুই ভাবা যায় না। ছেলেবেলায় পুজোর কেনাকাটার যে উত্তেজনা ছিল, এখন আর নেই। ধর্মতলা বা গড়িয়াহাটে ভিড় ঠেলে কেনাকাটা করতাম, সেই দিনগুলো ভেবে আজও নস্টালজিক হই। এখন তো সারাবছরই অনলাইন কেনাকাটা চলতেই থাকে।
পুজোয় মায়ের শাড়ি আর সোনার গয়নায় সাজি: পায়েল। ছবি: সংগৃহীত।
আমার ছেলেবেলায় কেমন যেন মনে হত, পুজোর আগে সূর্যের আলোর রং একেবারে বদলে যায়। আর সেটাই আমায় জানান দিত পুজো আসছে। প্যান্ডেল প্রস্তুতি, গড়িয়াহাটের কেনাকাটা আর ধর্মতলা ভিড় ছাড়া কলকাতার পুজো ভাবাই যায় না। আমার কাছে পুজো মানে আমার মা, দিদার সঙ্গে কেনাকাটায় যাওয়াও। বাবা আমাদের সঙ্গে যেতেন না, আমার রাগও হত মাঝেমধ্যে। আবার বাড়িতেও মহিলারা আসতেন শাড়ি বিক্রি করতে। বিছানার জন্য নতুন চাদর আসত। বাড়ি পরিষ্কার করা, কখনও কখনও রং করাও হত।
ধর্মতলায় ভিড় ছাড়া কলকাতার পুজো ভাবাই যায় না: পায়েল। ছবি: সংগৃহীত।
আমার হ্যান্ডলুম শাড়ি ভাল লাগে, শিফন শাড়িও খুব পছন্দ, এ বছর ট্রেন্ডিংও। তাই সেটা পরব। যদিও কবে কোন রঙের শাড়ি পরব, তা আমার মুডের ওপর নির্ভর করছে। তবে বেশির ভাগই সিল্ক শাড়ি। মসলিনও রয়েছে তালিকায়। আমি আবার মায়ের গয়নাই বেশি পরি। আর সোনা বা হিরের গয়না আমার পছন্দ, রুপো পছন্দ করি না।
আমার বাড়িতে অষ্টমীতে নিরামিষ খাওয়া হত। খিচুড়ি, লুচি। আর সপ্তমী বা নবমীর দিন রেস্তোরাঁয় খেতে যেতাম। ওটাও একটা আনন্দের বিষয় ছিল। তবে পুজোর প্রেমটা আমার হয়নি কখনও। কেন জানি না। কিন্তু ওই পাঁচ দিনের জন্য প্রেম আমি করে উঠতে পারিনি। পরিবারের সকলের সঙ্গেই অঞ্জলি দিয়েছি বরাবর, এ বছরও তাই করব।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- লক্ষ্মীপুজো যে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই হয় তা নয়, দেশের নানা প্রান্তে হয়, তবে পুজোর আচার ভিন্ন। মহারাষ্ট্রে তা লক্ষ্মী পূজন, গুজরাতে আবার চোপড়া পূজন। ওড়িশায় তা-ই গজলক্ষ্মীর আরাধনা। কোন রাজ্যে কেমন ভাবে লক্ষ্মী পুজো হয়?
- উত্তমকুমার নিষ্ঠাভরে বাড়ির লক্ষ্মীপুজো করতেন। তাই এই পুজোর নামই হয়ে গিয়েছিল ‘উত্তমকুমারের বাড়ির পুজো’। এখনও এই পুজো এ ভাবেই পরিচিত। পুজোর ঐতিহ্য এবং রীতি নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে আড্ডা দিলেন উত্তম কুমারের ভাইঝি ও নাতনি।
- সময় করে বসে পুজোর জন্য আলপনা দেওয়া এক প্রকার বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। শহরে তো বটেই, মফস্সলেও। ইদানীং সমাজমাধ্যমের রিলে হাতপাখা থেকে শুরু করে পুরনো শাড়ি, চায়ের টেবিল থেকে ডায়েরির মলাট কিংবা বসার ঘরের মেঝে, সর্বত্র আলপনা দিচ্ছেন হুজুগে মানুষজন।
-
শতবর্ষপ্রাচীন প্রতিমার পুজোর ভোগে ১০ রকমের খাবার! দেবাদৃতার ঘরোয়া লক্ষ্মীপুজো ঠিক কেমন হল
-
ঘরোয়া ভাবে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে এ বার লক্ষ্মীপুজো শ্রীলেখার! দেবীর কাছে কোন বিশেষ প্রার্থনা করবেন তিনি?
-
‘মায়ের পছন্দ না হলে আমার হাত দিয়ে অন্য কিছু করান,’ অপরাজিতার বাড়ির লক্ষ্মীপুজোয় এ বার কী কী আয়োজন?
-
কেন জোড়া ইলিশ দেওয়া হয় লক্ষ্মীপুজোয়? তেল-মশলা ছাড়াই বানানো হয় ভোগপ্রসাদ, রন্ধনের নিয়মও আলাদা
-
লক্ষ্মীলাভে কেন পিছিয়ে বাংলা ছবি, কোন পথে আসবে সমৃদ্ধি? কী বলছেন প্রযোজক-পরিচালক-অভিনেতারা