Advertisement
E-Paper

গলব্লাডার বাদ, পর পর অস্ত্রোপচার! ওজন বেড়েই চলেছিল ঋতাভরীর, ১৮ কেজি কমালেন বিশেষ কৌশলে

শরীরের উপর দিয়ে বহু ধকল গিয়েছে। চার বার অস্ত্রোপচার, নানা ধরনের ওষুধ, কখনও স্টেরয়েড, কখনও অ্যান্টিবায়োটিক। ফলস্বরূপ, ওজন বেড়েছে অনেকটাই। কিন্তু স্বাস্থ্যের কারণেই নিজের উপর চাপ দেননি ঋতাভরী চক্রবর্তী। তবে সম্প্রতি ওজন কমিয়ে ফেলেছেন প্রায় ১৮ কেজি। কেন এই সিদ্ধান্ত, কী খেয়ে কমালেন ওজন?

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৫৮
ঋতাভরীর ওজন হ্রাসের যাত্রা।

ঋতাভরীর ওজন হ্রাসের যাত্রা। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ শুরু করার পর থেকেই ‘ফিট’ তকমা নিয়ে চলতেন ঋতাভরী চক্রবর্তী। ফোটোশুট হোক বা ছবির শুট, কাজ শুরুর দু’সপ্তাহ আগে থেকে কার্বোহাইড্রেট, চিনি, তেল, নুন খাওয়া বন্ধ করে দিতেন অভিনেত্রী। ফলে একধাক্কায় আরও খানিকটা ওজন কমে যেত। কিন্তু সেই নির্মেদ চেহারাই বিপদ ডেকে এনেছিল অপারেশন টেবিলে। প্রথম বার অস্ত্রোপচারের সময়ে থরথর করে কাঁপছিল গোটা শরীর। কোনওক্রমে অস্ত্রোপচার শেষ করা হয়। চিকিৎসকের নির্দেশ ছিল, দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের আগে ওজন না বাড়ালে চিকিৎসা করা যাবে না। এখান থেকেই শুরু হয় ওজন বৃদ্ধির যাত্রা। তার পর থেকে আরও দু’বার অস্ত্রোপচার, স্টেরয়েড ওষুধ, এই সমস্ত কিছুর ফলে বাড়তেই থাকে ওজন। কিন্তু সম্প্রতি ওজন কমিয়ে সকলকে চমকে দিয়েছেন অভিনেত্রী। কেমন ছিল সেই যাত্রা? পুজোর আগেই বা কী ভাবে ফিট থাকছেন ঋতাভরী? জানালেন আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে আড্ডায়।

দেড় বছর ধরে কী ভাবে শারীরচর্চা করেছেন ঋতাভরী?

দেড় বছর ধরে কী ভাবে শারীরচর্চা করেছেন ঋতাভরী? ছবি: ফেসবুক

ঋতাভরী বলছেন, ‘‘একসময় শুষ্কং কাষ্ঠং চেহারা ছিল আমার। লোকে যাকে তথাকথিত ফিট বলে। কিন্তু সেই চেহারার কারণে শরীর ভেঙে পড়ে ভয়ঙ্কর দুর্বল হয়ে পড়েছিলাম। বরং বলা ভাল, ফিট হওয়ার জন্যই আমায় ওজন বাড়াতে হয়। সেই ওজন নিয়েও একাধিক ছবিতে অভিনয় করেছি। মানুষ আমায় গ্রহণও করেছেন।’’

কিন্তু তা হলে ওজন কমানোর সিদ্ধান্ত কেন নিলেন? অত্যন্ত কম ওজন, অত্যন্ত বেশি ওজন— দুই পর্যায়কেই কাছ থেকে দেখেছেন ঋতাভরী। দুই ক্ষেত্রেই ফিটনেসের অভাব টের পেয়েছেন নায়িকা। তাই দেড় বছর আগে, প্রকৃত অর্থে নিজেকে ফিট দেখার ইচ্ছে জেগেছিল তাঁর। যেখানে খাওয়াদাওয়া বন্ধ হবে না, আবার সিঁড়ি ভাঙতে গিয়ে হাঁপ ধরে যাবে না। আর সেই থেকে শুরু হল তাঁর ওজন হ্রাসের যাত্রা। রাতারাতি নয়, বরং দেড় বছর ধৈর্য ধরে ধীরে ধীরে ১৮ কেজি ওজন কমিয়েছেন ঋতাভরী। তার জন্য প্রয়োজন হয়নি কোনও ওষুধের। লক্ষ্যভেদ করেছেন কেবল নিয়ম মেনে। অবশ্য তার আগে নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হয়েছিল তাঁকে। তাই ওজন ঝরানোর যাত্রায় তাঁর সঙ্গে ছিল পুষ্টিবিদ থেকে শুরু করে এন্ডোক্রিনোলজিস্ট, একাধিক চিকিৎসকের পরামর্শ।

ওজন কমানোর সিদ্ধান্ত কেন নিলেন?

ওজন কমানোর সিদ্ধান্ত কেন নিলেন? ছবি: ফেসবুক

টানা দেড় বছর ধরে কোন নিয়ম মেনে চলেছেন ঋতাভরী?

সকালে উঠে প্রথমেই ডাবের জল পান করেন তিনি। তার পর খাওয়ার পালা। একটি গোটা ডিম, তিনটি ডিমের সাদা অংশ, মাখন মাখানো একখানি পাউরুটি এবং একটি কলা দিয়ে প্রাতরাশ সারেন নায়িকা। পেট খানিকটা ভরিয়ে নিয়ে তার পর চা-কফি খান। গলব্লাডার বাদ যাওয়ার পর থেকে খালি পেটে চা-কফি খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি। আর সন্ধে ৬টার পর থেকে চা-কফির পালা চুকিয়ে দিতে হয়।

এর পর শারীরচর্চার সময়। ওজন হ্রাসের যাত্রার শুরুর দিকে শুধু হাঁটতেন তিনি। শুরুর দিকে দিনে ৬ হাজার পা হাঁটতেন। এখন সেই সংখ্যাটি এসে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজারে। ধীরে ধীরে নিজের শরীর বুঝে শারীরচর্চার তীব্রতা বাড়াতে শুরু করেন। নিজের বাড়িতেই জিমের বন্দোবস্ত আছে বলে বাইরে বেরোতে হয় না আর। যে দিন কাজ থাকে, সে দিন ৩৫ মিনিট ব্যায়াম করেন, যে দিন ফাঁকা, সে দিন আরও বাড়তি ১০ মিনিট শারীরচর্চা করেন ঋতাভরী। রোজ এক ঘণ্টার কঠোর কায়িক শ্রমের ট্রেন্ডে পা দিতে চান না তিনি।

মধ্যাহ্নভোজে কখনও থাকে মটন স্টু এবং ব্রাউন রাইস, কখনও বা রোস্টেড চিকেন, কাবলিছোলার ডাল আর ২টি রুটি। যা-ই থাকুক না কেন, সঙ্গে এক বাটি স্যালাড খেতেই হয় তাঁকে। গাজর, শসা, টম্যাটো, পেঁয়াজের সাদামাঠা স্যালাডই থাকে পাতে। ফাইবার ও প্রোটিনের পরিমাণ ধীরে ধীরে বেড়েছে।

বিকেলের খাবারের অপেক্ষায় থাকেন ঋতাভরী। সেই সময়ে খিদেও পায় তীব্র। তাই শুধু সুপারফুড বা ডায়েটফুড নয়, থাকে আলুসেদ্ধ, ছোলাসেদ্ধ দিয়ে বানানো চাট, কখনও চুরমুর, কোনও দিন মুড়িমাখা, কখনও আবার ভুট্টার চাট।

সারাদিনে কী কী খান ঋতাভরী?

সারাদিনে কী কী খান ঋতাভরী? ছবি: ফেসবুক

নৈশভোজের মেনুর সঙ্গে মিল থাকে মধ্যাহ্নভোজের। অবশ্য কার্বোহাইড্রেটটা বাদ চলে যায় রাতের পাত থেকে। মাঝেমধ্যে কম ক্যালোরির গ্লাস নুডল্‌স খান নৈশভোজে। সঙ্গে মুরগির মাংসের মতো প্রোটিনের উৎস থাকেই। এক-এক দিন এক-এক রকমের সস বা মশলা দিয়ে বানানো হয় চিকেনের পদ।

রবিবার করে ডায়েটে চিকেন বিরিয়ানি থাকে। কিন্তু বিরিয়ানিতে মুরগির মাংস পছন্দ নয় বলে আধ প্লেট মটন বিরিয়ানি খান ঋতাভরী।

তবে ক্যালোরির পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছেন অভিনেত্রী। শুরুর দিকে ১৫০০ ক্যালোরির খাবার খেতেন। ক্যালোরি গুনে গুনে খাওয়াটা তাঁর অভ্যাসের মধ্যে চলে এসেছে। এখন তিনি তরতরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে পারেন। এখন আর হাঁপ ধরে না। শরীরকে ধকল না দিয়ে ওজন ঝরানোর ফলে চেহারার জৌলুসও কমেনি। এখন নিজেকে ফিট হিসেবেই দেখেন ঋতাভরী। এ ভাবেই ‘জ়িরো ফিগার’-এর চাহিদার যুগে তিনি ফিট থেকে নির্মেদ চেহারা ধরে রাখার প্রতিশ্রুতি নিয়েছেন।

এখন পুজোর আগে প্রায় রোজ শারীরচর্চা করছেন। ১৫০০ ক্যালোরি মেপে মেপে খাচ্ছেন। ঋতাভরীর কথায়, ‘‘এত নিয়ম মানছি, যাতে পুজোয় ভাল করে খেতে পারি।’’

সংক্ষেপে
  • লক্ষ্মীপুজো যে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই হয় তা নয়, দেশের নানা প্রান্তে হয়, তবে পুজোর আচার ভিন্ন। মহারাষ্ট্রে তা লক্ষ্মী পূজন, গুজরাতে আবার চোপড়া পূজন। ওড়িশায় তা-ই গজলক্ষ্মীর আরাধনা। কোন রাজ্যে কেমন ভাবে লক্ষ্মী পুজো হয়?
  • উত্তমকুমার নিষ্ঠাভরে বাড়ির লক্ষ্মীপুজো করতেন। তাই এই পুজোর নামই হয়ে গিয়েছিল ‘উত্তমকুমারের বাড়ির পুজো’। এখনও এই পুজো এ ভাবেই পরিচিত। পুজোর ঐতিহ্য এবং রীতি নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে আড্ডা দিলেন উত্তম কুমারের ভাইঝি ও নাতনি।
  • সময় করে বসে পুজোর জন্য আলপনা দেওয়া এক প্রকার বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। শহরে তো বটেই, মফস্‌সলেও। ইদানীং সমাজমাধ্যমের রিলে হাতপাখা থেকে শুরু করে পুরনো শাড়ি, চায়ের টেবিল থেকে ডায়েরির মলাট কিংবা বসার ঘরের মেঝে, সর্বত্র আলপনা দিচ্ছেন হুজুগে মানুষজন।
Ritabhari Chakraborty Weight Loss Tips

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy