Advertisement
E-Paper

পুজোয় মিষ্টি খেয়েও সুগার কী ভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন? অনিয়ম করার আগে মেনে চলুন চিকিৎসকের ৫ পরামর্শ

পুজোর আনন্দ মানেই মিষ্টি, কিন্তু সুগারের রোগীদের জন্য এই আনন্দই হতে পারে বিপদ। চিন্তা নেই, সামান্য সতর্কতায় মিষ্টিমুখ করেও ব্লাড সুগার রাখা যায় নিয়ন্ত্রণে। জেনে নিন চিকিৎসকের দেওয়া ৫টি জরুরি টিপস, যা মানলেই উৎসব হবে নিরাপদ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৩৮
পুজোয় মিষ্টিমুখ করুন, তবে নিয়ম মেনে।

পুজোয় মিষ্টিমুখ করুন, তবে নিয়ম মেনে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

উৎসবের মরসুম শুরু মানেই দেদার খাওয়াদাওয়ার পর্ব শুরু। বিরিয়ানি, চাইনিজ়, ভাজাভুজি, মিষ্টি। তবে ডায়াবেটিকদের এই সময়ে রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখা ভীষণ জরুরি। একটু অনিয়ম হলেই বিপদ! দুর্গাপুজোয় মিষ্টিমুখ না করলে কি আর পুজো পুজো ভাব আসে? তাই ওই ক’দিন ডায়েটে একটু অনিয়ম হয়েই থাকে। চেষ্টা করেও মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাসে লাগাম টানতে পারছেন না? কী ভাবে উৎসবের মেজাজেও সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখবেন, জানালেন চিকিৎসক।

ডায়াবেটিক রোগীদের পুজোর প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করে দিতে হবে। আগে থেকেই যদি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, তা হলে পুজোর ক’দিন একটু অনিয়ম করা যেতেই পারে। মেডিসিনের চিকিৎসক অদ্রিজা রহমান আনন্দবাজার ডট কম-কে বলেন, ‘‘এখন থেকেই সুগারটা নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। তার জন্য এখনই একটা সুগার টেস্ট করান। যদি দেখেন রক্তে শর্করার মাত্রা মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে আছে, তা হলেও পুজোর ক’দিন যেন সুগার খুব বেড়ে না যায়, সে ভাবেই খেতে হবে।’’

চিকিৎসকের সংযোজন, ‘‘ডায়াবেটিকদের জন্য কিন্তু মিষ্টি খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে পুজোর ক’দিনও লোভ সংবরণ করাই শ্রেয়। একান্তই যদি খেতে হয়, তা হলে সুগার ফ্রি মিষ্টি বা অল্প মিষ্টির কিছু খেতে পারেন। ভাজা মিষ্টি একেবারেই খাওয়া চলবে না। শুধু মিষ্টির মাধ্যমেই নয়, সারাদিনের বাকি খাবারগুলির মাধ্যমেও যেন শরীরে শর্করার মাত্রা বেড়ে না যায়, সে দিকেও খেয়াল রাখা উচিত।’’

তবে ডায়াবেটিকদের যে শুধু মিষ্টি খেলেই সুগার বাড়ে, এ ধারণা ভুল। বেশি ক্যালোরির খাবার খেলেও রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, তাই সে দিকটাও মাথায় রাখতে হবে। চিকিৎসক বলেন, ‘‘পুজোয় দেদার অনিয়ম করলে চলবে না। ক্যালোরি মেপে খেতে হবে ডায়াবেটিকদের। যদি দুপুরে পুজোবাড়িতে ভোগ খাওয়ার পরিকল্পনা থাকে, তা হলে রাতে হালকা খাবার খান। আর রাতে বাড়িতে ভূরিভোজের আয়োজন থাকলে, বাকি সময়টা হালকা খাবার খান। পুজোয় হেঁটে ঠাকুর দেখতে বেরোলে টুকটাক স্ন্যাকস খেতে পারেন, তবে সে দিন বাকি খাওয়াদাওয়া নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।’’

ডায়াবেটিক রোগীদের পুজোর প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করে দিতে হবে।

ডায়াবেটিক রোগীদের পুজোর প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করে দিতে হবে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আর কী কী নিয়ম মানতে হবে ডায়াবেটিকদের?

১) পুজোর দিনে মিষ্টি খাওয়া হবেই। তাই চা ও কফিতে চিনি এবং ক্রিম-সহ দুধ মেশানো পুরোপুরি বন্ধ করে দিন। ভেষজ চা খাওয়া অভ্যাস করুন। এতে নিয়ন্ত্রণে থাকবে ওজন আর শর্করার মাত্রা।

২) রোজের রান্নায় চিনি দেওয়া বন্ধ করুন। অনেকে রান্নায় চিনির বদলে গুড় ব্যবহার করেন। ডায়াবেটিকদের রান্নায় গুড় দিলেও সমান ক্ষতি হয়। তাই চিনির পরিবর্তে গুড় দেওয়াও বন্ধ করুন। ব্রাউন সুগার, চিনির বিকল্প কৃত্রিম মিষ্টি, কর্ন সিরাপ, ম্যাপেল সিরাপ, মধু, গুঁড়ো দুধ— সবেতেই চিনি থাকে। তাই এই সব খাওয়া একেবারে বন্ধ করতে হবে। প্যাকেটজাত ফলের রস নয়, পরিবর্তে বাড়িতে ফলের রস বানিয়ে খান। খুব ভাল হয় যদি গোটা ফল খেতে পারেন। খিদে পেলে ভাজাভুজির বদলে ফল, ড্রাইফ্রুটস খান।

৩) পুজোর সময়ে অনেকেই উপোস করেন। তবে ডায়াবেটিকদের জন্য খুব বেশিক্ষণ খালি পেটে থাকলে বিপদ হতে পারে। তাই উপোস করুন বুঝেশুনে।

৪) ডায়েটে বেশি করে প্রোটিনজাতীয় খাবার রাখুন। প্রোটিন খেলে ভুলভাল খাওয়ার ইচ্ছা কম হয়। বাড়ি থেকে ঠাকুর দেখতে যাওয়ার সময়ে খেয়ে বেরোন। তা হলে বাইরে খাওয়ার প্রবণতা কমবে।

৫) খুব বেশি মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করলে রসের মিষ্টি বা ভাজা মিষ্টি এড়িয়ে চলুন। মিষ্টির পরিমাণ সম্পর্কে সচেতন হোন। পুজোয় ঠাকুর দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে গেলে ঠান্ডা নরম পানীয় নয়, খেতে হবে ডাবের জল, দইয়ের ঘোল।

সংক্ষেপে
  • লক্ষ্মীপুজো যে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই হয় তা নয়, দেশের নানা প্রান্তে হয়, তবে পুজোর আচার ভিন্ন। মহারাষ্ট্রে তা লক্ষ্মী পূজন, গুজরাতে আবার চোপড়া পূজন। ওড়িশায় তা-ই গজলক্ষ্মীর আরাধনা। কোন রাজ্যে কেমন ভাবে লক্ষ্মী পুজো হয়?
  • উত্তমকুমার নিষ্ঠাভরে বাড়ির লক্ষ্মীপুজো করতেন। তাই এই পুজোর নামই হয়ে গিয়েছিল ‘উত্তমকুমারের বাড়ির পুজো’। এখনও এই পুজো এ ভাবেই পরিচিত। পুজোর ঐতিহ্য এবং রীতি নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে আড্ডা দিলেন উত্তম কুমারের ভাইঝি ও নাতনি।
  • সময় করে বসে পুজোর জন্য আলপনা দেওয়া এক প্রকার বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। শহরে তো বটেই, মফস্‌সলেও। ইদানীং সমাজমাধ্যমের রিলে হাতপাখা থেকে শুরু করে পুরনো শাড়ি, চায়ের টেবিল থেকে ডায়েরির মলাট কিংবা বসার ঘরের মেঝে, সর্বত্র আলপনা দিচ্ছেন হুজুগে মানুষজন।
Diabetes Risk

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy