বাঙালি হিন্দুর প্রাণের উৎসব দুর্গাপুজোর শেষ মুহূর্তে চলে এসেছি আমরা। দশমী মানেই ভারাক্রান্ত মন। আবারও এক বছরের অপেক্ষা। বিশেষ এই তিথিতে মাকে বরণ করে স্বামীর ঘরে ফেরত পাঠান বাঙালি হিন্দুরা। এ দিনেই হয় সিঁদুরখেলা। তবে, বিশেষ কিছু নিয়ম মেনে দেবীকে বরণ করতে হয়। বিবাহিত মহিলারা বরণের ডালায় নানা সামগ্রী সাজিয়ে নিয়ে দেবীকে বরণ করতে যান। কোন কোন নিয়ম মেনে বরণ করতে হয় এবং বরণডালায় কী রাখতে হয়, জেনে নিন।
আরও পড়ুন:
বরণডালায় কোন জিনিসগুলি রাখতেই হয়?
সিঁদুর, পান, সুপুরি, পানের খিলি, মিষ্টি, একটি ১ টাকার মুদ্রা আর জল রাখা আবশ্যিক। চাইলে ধূপকাঠি এবং মোমবাতিও রাখতে পারেন। তবে, সেখান থেকে আগুন যেন আপনার বা অন্য কারও গায়ে না লেগে যায়, সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। সিঁদুরটি যেন নতুন সিঁদুর হয়। ব্যবহৃত সিঁদুর বরণডালায় না রাখাই ভাল।
আরও পড়ুন:
কী ভাবে বরণ করতে হয়?
স্নান সেরে শুদ্ধবসনে, আলতা-সিঁদুর পরে শুরু হয় বরণ পর্ব। আগে থেকে গুছিয়ে নিতে হয় বরণডালা। বরণের শুরুতে প্রথমেই দশভুজার সিঁথি আর বাঁ হাতের শাঁখায় সিঁদুর দেওয়া হয়। এর পর পরিষ্কার দু’টি পানপাতা দিয়ে মা দুর্গার মুখ আলতো করে মুছিয়ে দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। এর পর মাতৃজ্ঞানে দেবীর পায়ে ধান-দূর্বা দিয়ে প্রণাম করতে হয়। কন্যাজ্ঞানে চাইলে তাঁর মাথায়ও ধান-দূর্বা দিতে পারেন। এ বার শুরু হয় মিষ্টিমুখ ও জল পান করানোর পালা। আগে থেকে বানানো পানের খিলি যেন মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয় অবশ্যই। শুধু মা দুর্গাই নন, এর পর একই নিয়মে একে একে বরণ করতে হয় বাকি দেবদেবী এবং তাঁদের বাহনদেরও। এই পর্ব মিটলেই শুরু হয় সেই বহু প্রতীক্ষিত সিঁদুরখেলা।