১৬ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার রথযাত্রা। পবিত্র এই তিথিতে জগন্নাথ মাসির বাড়ি ঘুরতে যান। সঙ্গে যান দাদা বলভদ্র এবং বোন সুভদ্রা। পুরীর জগন্নাথধামে আড়ম্বরের সঙ্গে রথযাত্রার উৎসব পালন করা হয়। এ ছাড়া বাংলা-সহ পৃথিবীর আরও নানা প্রান্তে উদ্যাপিত হয় রথযাত্রা। পুরীতে জগন্নাথের প্রসাদকে মহাপ্রসাদ বলে গণ্য করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস মতে, সেই প্রসাদ গ্রহণে জীবনের নানা দুঃখ-দুর্দশা থেকে রেহাই মেলে। তবে কেবল পুরীর মহাপ্রসাদ নয়, জগন্নাথের যে কোনও প্রসাদ গ্রহণের মাহাত্ম্য বিশেষ। তেমনটাই দাবি করছে শাস্ত্র। রথযাত্রার দিনে নানা ক্ষেত্র থেকে জগন্নাথের প্রসাদ পাওয়া যায়। তবে সেই প্রসাদ যেনতেন প্রকারে গ্রহণ করলে হবে না। এতে প্রভু জগন্নাথ রুষ্ট হতে পারেন। তাঁর প্রসাদ গ্রহণের সঠিক পন্থা জেনে নিন।
আরও পড়ুন:
জগন্নাথের প্রসাদ গ্রহণের নিয়মগুলি কী?
- জগন্নাথদেবের প্রসাদ সর্বদা সকলকে দিয়ে খেতে হয়। একা খেতে নেই। এতে প্রভুর কৃপা লাভ করা যায় না। সকলের সঙ্গে ভাগ করে খেলে খুশি হন জগন্নাথদেব।
- প্রভুর প্রসাদ যা-ই হোক না কেন, তা সর্বদা ভক্তিভরে গ্রহণ করতে হবে। মনে কোনও সংশয় বা প্রসাদের প্রতি বিতৃষ্ণা নিয়ে সেটি গ্রহণ করা যাবে না। এতে মারাত্মক পাপের ভাগীদার হবেন বলে মনে করা হয়।
আরও পড়ুন:
- জগন্নাথদেবের প্রসাদ কখনও নষ্ট করতে নেই। অনেকেই এই ভুল করে থাকেন। প্রভুর প্রসাদ বাড়িতে এনে রেখে দেন পরে খাবেন ভেবে। কিন্তু খেতে ভুলে যান। ফলত তা নষ্ট হয়ে যায়। এমনটা করলেও প্রভুর রোষের আওতায় পড়তে হয় বলে জানাচ্ছে শাস্ত্র।
- কোনও অশুদ্ধ বা নোংরা স্থানে জগন্নাথদেবের প্রসাদ রাখা যাবে না। তা পাওয়ার পর সকলের সঙ্গে ভাগ করে খেয়ে নেওয়াই শ্রেয়।
আরও পড়ুন:
- জগন্নাথদেবের প্রসাদ যদি বেশি হয়ে যায়, তা হলে সেটি দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করে দেওয়া যেতে পারে। এতে ভক্তের উপর তুষ্ট হন জগন্নাথ। দু’হাত ভরে আশীর্বাদ করেন। তবে প্রসাদ দানের সময় নিজের মধ্যে কোনও অহং বা ঔদ্ধত্য রাখা যাবে না। সব কিছু বর্জন করে খোলা মনে প্রসাদ বিতরণ করতে হবে।
- পরিষ্কার হাতে জগন্নাথদেবের প্রসাদ গ্রহণ করতে হবে। নোংরা হাতে প্রভুর প্রসাদ ছোঁয়া যাবে না।