জ্যোতিষশাস্ত্রে প্রতিকার বিভিন্ন প্রকারের। গ্রহরত্ন বা উপরত্ন ধারণ এক প্রকার প্রতিকার। এটিকে বহুল ব্যবহৃত ব্যয়সাপেক্ষ প্রতিকার বললেও ভুল বলা হবে না। গ্রহের শুভ ফল দান বৃদ্ধি বা অশুভ ফল হ্রাসের উদ্দেশে গ্রহরত্ন বা উপরত্ন ধারণ বহুলব্যবহৃত প্রতিকার হলেও একমাত্র প্রতিকার নয়। যে কোনও গ্রহের শুভ ফলপ্রাপ্তির জন্য গ্রহরত্ন ধারণেই যে পূর্ণ সুফল প্রাপ্তি হয় তাও কিন্তু না। এমন কিছু ক্ষেত্র আছে যখন রত্ন ধারণের পরিবর্তে বিকল্প প্রতিকারে সফলতা বেশি প্রাপ্তি হয়। সে ক্ষেত্রে গ্রহরত্ন ধারণ করা উচিত নয়। কিছু ক্ষেত্রে ইচ্ছা থাকলেও আর্থিক সঙ্গতি না থাকার কারণে গ্রহরত্ন বা উপরত্ন ধারণ সম্ভব হয় না। সে ক্ষেত্রেও উপায় আছে। পুজো-আরাধনা এবং জীবনধারার পরিবর্তনে গ্রহের সুফলপ্রাপ্তি বা প্রতিকার করা সম্ভব। গ্রহের সুফলপ্রাপ্তির জন্য বিভিন্ন পুজো-আরাধনার বিধান আছে। কেবলমাত্র দেব-দেবীর পুজো-আরাধনা করেও গ্রহের প্রতিকার সম্ভব।
আরও পড়ুন:
জ্যোতিষশাস্ত্রের নয়টি গ্রহের সঙ্গে দশমহাবিদ্যার বিশেষ সম্পর্ক আছে। দশমহাবিদ্যার দেবীগণ এক এক গ্রহের সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ, কোনও নির্দিষ্ট গ্রহের সুফল প্রাপ্তি বা গ্রহের প্রতিকারের জন্য নির্দিষ্ট দেবীর আরাধনা করতে হয়। দশমহাবিদ্যার নয় দেবী নয়টি গ্রহের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এক দেবী লগ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত।
রবি বা সূর্যের সঙ্গে সম্পর্ক দশমহাবিদ্যার অন্যতম দেবী মাতঙ্গীর। রবি গ্রহের প্রতিকারের জন্য দেবী মাতঙ্গীর আরাধনা করতে হবে।
চন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্কিত দশমহাবিদ্যার অন্যতম দেবী ভুবনেশ্বরী। চন্দ্রের প্রতিকারে দেবী ভুবনেশ্বরীর আরাধনা করতে হবে।
আরও পড়ুন:
দশমহাবিদ্যার অন্যতম দেবী বগলামুখী মঙ্গল গ্রহের সঙ্গে সম্পর্কিত। মঙ্গলের প্রতিকারে দেবী বগলার আরাধনা করতে হবে।
বুধ গ্রহের প্রতিকারে দেবী ষোড়শীর আরাধনা করতে হবে।
বৃহস্পতি গ্রহের প্রতিকারে দেবী তারার আরাধনা করতে হবে।
শুক্র গ্রহের প্রতিকারে দেবী কমলার আরাধনা করতে হবে।
আরও পড়ুন:
শনি গ্রহের প্রতিকারে দেবী কালীর (দক্ষিণা কালী) আরাধনা করতে হবে।
রাহু গ্রহের প্রতিকারে দেবী ছিন্নমস্তার আরাধনা করতে হবে।
কেতু গ্রহের প্রতিকারে দেবী ধূমাবতীর আরাধনা করতে হবে।
তবে দেবী ছিন্নমস্তা এবং দেবী ধূমাবতীর আরাধনার পূর্বে অভিজ্ঞ পণ্ডিতের সঙ্গে পরামর্শ করে তবেই পুজোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত।