Advertisement
E-Paper

আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে পোস্ট, কমেন্ট? চিহ্নিত করছে দিল্লি পুলিশ, একাধিক প্ল্যাটফর্মকে নোটিস

শিক্ষায় দুর্নীতির প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা চেয়ে সিজেপি আন্দোলন শুরু করেছিল। তাদের সমর্থনে সারা দেশ থেকে তরুণ প্রজন্ম সমাজমাধ্যমে সাড়া দেয়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২৬ ০৮:১০
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করে সমাজমাধ্যমে কুরুচিকর পোস্টের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করছে পুলিশ।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করে সমাজমাধ্যমে কুরুচিকর পোস্টের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করছে পুলিশ। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

দিল্লিতে নিটের প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলন চলাকালীন সমাজমাধ্যমে যাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করে পোস্ট করেছিলেন, তাঁদের চিহ্নিত করা শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। ইতিমধ্যে একাধিক সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্মকে নোটিসও দিয়ে দেওয়া হয়েছে। যে কোনও ভিডিয়ো, ছবি বা কমেন্ট চিহ্নিত করে তা সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। দিল্লি পুলিশের একটি বিশেষ দল সর্বক্ষণ এই কাজে নিয়োজিত।

শিক্ষায় দুর্নীতির প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চেয়ে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) যন্তর মন্তরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেছিল। তাদের সমর্থন জানিয়ে সারা দেশের তরুণ প্রজন্ম সমাজমাধ্যমে সাড়া দেয়। কিন্তু প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে কুরুচিকর আক্রমণ করেছেন যাঁরা, পোস্ট যেখানে শালীনতার মাত্রা ছাড়িয়েছে, সেখানে পদক্ষেপ করছে পুলিশ। আন্দোলন থেমে যাওয়ার পরেও এই ধরনের পোস্টের বিরুদ্ধে সমাজমাধ্যমে নজর রাখা হয়েছে। কোথাও এমন কোনও পোস্ট চোখে পড়লে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নোটিস দেওয়া হচ্ছে এবং সেগুলির বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ করতে বলা হচ্ছে।

গত ২০ জুলাই তাদের ডাকে সংসদ ভবন অভিযানকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। মূলত ছাত্রছাত্রীদের দ্বারা পরিচালিত ওই মিছিলে লাঠিচার্জ করতে দেখা যায় পুলিশকে। তা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়েছে। পুলিশের ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’ নিয়ে মামলাও হয়েছে দিল্লি হাই কোর্টে। অবশেষে শনিবার আন্দোলনের চাপে পিছু হটে কেন্দ্র। ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্র। সিজেপি-ও আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়। কিন্তু দিল্লি পুলিশ এখনও সক্রিয়।

সিজেপি-র আন্দোলন প্রত্যাহারের অন্যতম শর্ত ছিল আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও রকম আইনি পদক্ষেপ না করার নিশ্চয়তা। প্রাথমিক ভাবে কেন্দ্রের তরফে মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহ সিজেপি-র প্রতিনিধিদের সেই আশ্বাস দিয়েছিলেন। আন্দোলনকারীদের নামে যেখানে যত এফআইআর হয়েছে, তা তুলে নিতে বলা হয়েছিল পুলিশকে। কিন্তু সূত্রের খবর, এখনও তার আনুষ্ঠানিক নির্দেশ পায়নি পুলিশ। ফলে এফআইআর আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রত্যাহারও করা হয়নি। তার মধ্যেই সমাজমাধ্যমের পোস্ট ধরে ধরে পদক্ষেপ করা শুরু করে দিয়েছে প্রশাসন। সংসদ ভবন অভিযানে বলপ্রয়োগের জন্য পুলিশ এবং র‌্যাফকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে, জানিয়েছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। নিটের কারণে আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণের দাবিও জানিয়েছিলেন তাঁরা। মৌখিক আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্র। তবে লিখিত কিছু এখনও পাওয়া যায়নি।

সংক্ষেপে
  • দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠক করার পর সিজেপি জানায়, তাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তার পরেই আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তাদের আবেদন, এত দিন যে শান্তিপূর্ণ অবস্থান চলছিল, তা তুলে নিন।
  • ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের চাপে ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। নিটের প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে প্রথম থেকেই তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিল সিজেপি।
  • ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফাকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে দেখছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এই ‘জয়ের’ কৃতিত্ব পুরোটাই দেশের পড়ুয়া এবং যুব সমাজকে দিচ্ছে সিজেপি। কয়েক দিনের এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ দীপকে। শত ‘চাপে’ অনড় ছিলেন দাবিতে। সেই দাবি পূরণ হতেই বাঁধভাঙা আনন্দে ফেটে পড়েন তিনি।
Delhi Police Jantar Mantar Social Media Post NEET Case

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy