শাড়ি থেকে মিনি ড্রেস, সবেতেই আছি
শোলাঙ্কি রায় মানেই সুতির শা়ড়ি আর হাতকাটা ব্লাউজ় নয়। সচরাচর এই পোশাকে তাঁকে দেখা গেলেও স্কার্ট, শর্ট্স, মিনি ড্রেস, জিন্স, শাড়ি— সব রকমের পোশাকেই সাজতে পছন্দ করেন তিনি। তবে কাপড়ের কথা বললে মূলত হালকাই পছন্দ। সাজে বাহুল্য না-পসন্দ। তাই যে কোনও পোশাকের সঙ্গে একখানি স্টেটমেন্ট পিস, মার্জিত গয়না, হালকা মেকআপ আর নানা ফুলের গন্ধে ভরা সুগন্ধি। ব্যস, সাজপর্বে দ্রুত ইতি টানতেই ভালবাসেন শোলাঙ্কি। পুজোয় এ বার কেমন সাজবেন অভিনেত্রী? জানালেন আনন্দবাজার ডট কম-কে।
শাড়ির সাজে বৈচিত্র
বাড়িভর্তি শাড়ির সম্ভার নায়িকার। কিন্তু শাড়ি এবং উপলক্ষের উপর নির্ভর করে সাজ কেমন হবে। বাড়ির কোনও অনুষ্ঠান হোক বা কাজের কোনও ইভেন্ট, সে ক্ষেত্রে ভারী সাজ দরকার পড়ে। তখন ঠেকায় পড়লে সোনাও পরতে হয়। কিন্তু সোনার চেয়ে রুপোর গয়না তাঁর বেশি পছন্দ। আর যখন নিজের মতো সাজতে পারেন, তখন হালকা সুতি বা লিনেন শাড়ির সঙ্গে হাতকাটা, হল্টারনেক বা গ্লাসহাতা ব্লাউজ় পরেন। গায়ে রুপোর হালকা গয়না। চুলের হাল ভাল থাকলে খোলা থাকে, আর নয়তো বাঁধা। তাঁর সাজে তখন বিশেষ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় মোটা কাজল। তবে শাড়ি পরলে সাধারণত গয়না পরতে ভালবাসেন না তিনি। একটা ঘড়ি পরে নিলেই সাজে পূর্ণচ্ছেদ। শোলাঙ্কি চেষ্টা করেন, সাজার সময়ে কোনও একটি বিষয়কে গুরুত্ব দিতে। বেশি কাজল পরলে দুল পরেন না। আবার বড় দুল পরলে গলা ফাঁকা রাখেন। কিংবা হাতে শুধু কয়েকটি চুড়ি। যদি কখনও সোনা পরতেই হয়, তা হলে সিল্ক, বেনারসি, কাঞ্জিভরমের সঙ্গে সোনার সাজে সাজেন শোলাঙ্কি।
চোখের সাজে পরীক্ষানিরীক্ষা
নানা ভাবে কাজল পরতে ভালবাসেন শোলাঙ্কি। কখনও মোটা কাজল চোখের নীচে, কখনও কেবল ভিতরের ওয়াটারলাইনে একটি সূক্ষ্ম রেখা আর মাস্কারা, কখনও শুধু আইলাইনার, কখনও আবার মোটা করে কাজল পরে ঘষে নেন চোখের তলার অংশ।
পুজোয় অবশ্য শাড়িই চাই
পুজোয় সাবেকি সাজই পছন্দ শোলাঙ্কির। তবে অধিকাংশ দিন কোনও না কোনও কাজ পড়ে। রূপটানশিল্পীর কাছে মেকআপ, কেশসজ্জাশিল্পীর কাছে চুলের সাজ, আর ভারী শাড়ি ও গয়না দিয়ে সাজ সেরে নেন সকাল সকাল। সেই কাজ শেষ হওয়ার পর বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার পরিকল্পনা থাকে। তখন ওই সাজ দিয়েই কাজ চলে যায়। তবে যে দিন নিজের মতো সাজতে পারেন, সে দিন হালকা মেকআপ করে সুতির শাড়ির সাজে দেখা দেন। এ বারও কয়েকটি শাড়ি কিনবেন আর আগে কেনা নতুন শাড়িতে ফল্স-পিকো করিয়ে নেবেন। কেনাকাটার তালিকায় অবশ্য ড্রেস আর জিন্সও আছে।
সাজতে ইচ্ছে না করলে...
শুট উপলক্ষে সাজগোজে ক্লান্ত হয়ে গেলে আর নিজের জন্য সাজতে ইচ্ছে করে না। কিন্তু যদি সাজতেই হয়, তা হলে কী পরেন? শাড়ি পরতে সময় লাগে বলে আগেই শাড়ি বাদ দেন শোলাঙ্কি। কুর্তি, কুর্তির মতো কোঅর্ড সেট, মিনি ড্রেস, স্কার্ট-টপের মধ্যে একটি বেছে নেন। একটাই লিপস্টিক দিয়ে তখন ঠোঁটের সাজ, ব্লাশ-অন, আইশ্যাডোর কাজ সেরে নেন। কানে একটা হালকা দুল। আর সেই মোটা কাজল। শোলাঙ্কির কথায়, ‘‘মোটা করে কাজল পরে নিলে দেখেছি, কাজ হয়ে যায়।’’ শুট ছাড়া মেকআপের ধার ধারেন না নায়িকা। খুব প্রয়োজন হলে একটু কনসিলর ব্যবহার করেন।
ফ্যাশনে অপছন্দের তালিকাও ছোট নয়
সমাজমাধ্যমে নানা ধরনের সাজগোজের ধারার সূচনা ও অন্ত দেখে দেখে ক্লান্ত শোলাঙ্কি। তাঁর কথায়, ‘‘আমি একেবারে মিলেনিয়াল, তাই ট্রেন্ডে পা মেলাতে ভাল লাগে না। এই যেমন, অ্যানিম্যাল প্রিন্ট মাঝেমধ্যেই ফ্যাশনে ফিরে ফিরে আসে। নৈতিক ভাবে তা বাদ দিই। পশুর চামড়াকে কেন গায়ে চড়াব? যাঁরা খুব ধনী, তাঁদের অনেকেই সত্যিকারের পশুচর্মের পোশাক কিনে পরেন! আমি এ সবের বিরুদ্ধে। আমি এমন ফ্যাশন প্রচার করতে চাই না। তার উপর এখন যে নাইট-স্যুটের মতো দেখতে কোঅর্ড সেট পরা শুরু হয়েছে, সেটাও একেবারে সহ্য করতে পারি না। তার চেয়ে কুর্তির কায়দার কোঅর্ড সেট আমার ভাল লাগে।’’ তা ছাড়া খুব ভাল মানের অর্গ্যান্জ়া না হলে সেই শাড়ি গায়ে তোলেন না শোলাঙ্কি। শাড়িতে চওড়া ডিজ়াইনার পাড় দেওয়া থাকলে সেগুলি বাদ দেন তিনি। আর অতিরিক্ত সাজ দেখলেই চোখ ফিরিয়ে নেন অভিনেত্রী।
খোঁপার নতুন গয়না পছন্দ হয়েছে
ট্রেন্ডে পা মেলান না শোলাঙ্কি। নিত্যনতুন চোখধাঁধানো জিনিসপত্র থেকে দূরে থাকতেই ভালবাসেন। কিন্তু নতুন একটি গয়না পছন্দ হয়েছে তাঁর। খোঁপার উপর গোল করে বসানো একটি গয়না। খোঁপার দু’পাশ থেকে বেরিয়ে থাকবে কাঁটাটা। বাহুল্যবর্জিত, মার্জিত বলে এই গয়না রয়েছে শোলাঙ্কির পুজো শপিংয়ের তালিকায়।
কোনও এক কালীপুজোয় ‘গথিক’ সাজের ইচ্ছে
দুর্গাপুজোয় সাবেকি সাজ ছাড়া চলে না। কিন্তু কালীপুজোয় একটু অন্য রকম ভাবে সাজতে চান অভিনেত্রী। ভারতীয় সংস্কৃতি থেকে অবশ্য অনেকটাই দূরে, কিন্তু কোনও এক বার গথিক সাজে সাজতে চান শোলাঙ্কি। গথিক সাজের মূল ভিত্তি হল কালো রঙের আধিপত্য। এই সাজ এমন এক ধরনের পোশাক ও মেকআপ শৈলীর কথা বলে, যা মূলত অন্ধকারাচ্ছন্ন, রহস্যময় ও নাটকীয়তায় ভরপুর। সাজ নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করতে হলে ‘গথিক’ই নায়িকার প্রথম পছন্দ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- লক্ষ্মীপুজো যে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই হয় তা নয়, দেশের নানা প্রান্তে হয়, তবে পুজোর আচার ভিন্ন। মহারাষ্ট্রে তা লক্ষ্মী পূজন, গুজরাতে আবার চোপড়া পূজন। ওড়িশায় তা-ই গজলক্ষ্মীর আরাধনা। কোন রাজ্যে কেমন ভাবে লক্ষ্মী পুজো হয়?
- উত্তমকুমার নিষ্ঠাভরে বাড়ির লক্ষ্মীপুজো করতেন। তাই এই পুজোর নামই হয়ে গিয়েছিল ‘উত্তমকুমারের বাড়ির পুজো’। এখনও এই পুজো এ ভাবেই পরিচিত। পুজোর ঐতিহ্য এবং রীতি নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে আড্ডা দিলেন উত্তম কুমারের ভাইঝি ও নাতনি।
- সময় করে বসে পুজোর জন্য আলপনা দেওয়া এক প্রকার বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। শহরে তো বটেই, মফস্সলেও। ইদানীং সমাজমাধ্যমের রিলে হাতপাখা থেকে শুরু করে পুরনো শাড়ি, চায়ের টেবিল থেকে ডায়েরির মলাট কিংবা বসার ঘরের মেঝে, সর্বত্র আলপনা দিচ্ছেন হুজুগে মানুষজন।
-
শতবর্ষপ্রাচীন প্রতিমার পুজোর ভোগে ১০ রকমের খাবার! দেবাদৃতার ঘরোয়া লক্ষ্মীপুজো ঠিক কেমন হল
-
ঘরোয়া ভাবে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে এ বার লক্ষ্মীপুজো শ্রীলেখার! দেবীর কাছে কোন বিশেষ প্রার্থনা করবেন তিনি?
-
‘মায়ের পছন্দ না হলে আমার হাত দিয়ে অন্য কিছু করান,’ অপরাজিতার বাড়ির লক্ষ্মীপুজোয় এ বার কী কী আয়োজন?
-
কেন জোড়া ইলিশ দেওয়া হয় লক্ষ্মীপুজোয়? তেল-মশলা ছাড়াই বানানো হয় ভোগপ্রসাদ, রন্ধনের নিয়মও আলাদা
-
লক্ষ্মীলাভে কেন পিছিয়ে বাংলা ছবি, কোন পথে আসবে সমৃদ্ধি? কী বলছেন প্রযোজক-পরিচালক-অভিনেতারা