এক বছরের জন্য উমাকে বিদায় জানাবেন। হাতে বরণডালা নিয়ে দুর্গাপ্রতিমাকে সিঁদুরে রাঙিয়ে, মুখ মিষ্টি করিয়ে, পানপাতা-প্রদীপে বরণ করে কানেকানে বলতে হবে, আসছে বছর আবার আসার কথা। বিজয়ার এই যে দেবীবরণ, তা তো শুধু দেবীকে বরণ নয়, উমাকে বিদায় জানানোর ক্ষণে যে সিঁদুরখেলা, তার সাজও হতে হবে সেই রকম। ভিড়ের মধ্যে আলাদা করে চোখে পড়ার মতো। যে সাজ গালে সিঁদুরের ছোঁয়ায় আরও উজ্জ্বল হবে।
বাঙালি মহিলারা সিঁদুরের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে এই দিনটিতে যে কোনও ধরনের লালের ছোঁয়া রাখেন তাঁদের সাজে। লাল পাড় সাদা শাড়ি পেলে তো কথাই নেই। বিবাহিতা নারী হাতে শাঁখা-পলাও পরেন। কিন্তু সেই চিরাচরিত সাজে আরও একটু বদল আনতে চাইলে আর সিঁদুরখেলার ভিড়ে নায়িকাদের মতো উজ্জ্বল হতে চাইলে, বলিউডের কিছু নায়িকার সাজ থেকে পাঠ নিতে পারেন।
বিভিন্ন সময়ে লাল রঙ নিয়ে নানা ভাবে ঐতিহ্যবাহী সাজে নিজেদের সাজিয়েছেন সেই নায়িকারা। তেমনই সাতটি সাজ দেবীবরণের জন্য বেছে নিল আনন্দবাজার ডট কম।
ঘিয়ে রঙ আর পোড়া লাল
কাজলের এই শাড়িটি উজ্জ্বল ঘিয়ে রঙের সিল্ক। তাতে জরির নকশা পাড়। শাড়ি জুড়েও ছোট ছোট জরির মোটিফ। পাড়ে যে পোড়া লাল রং রয়েছে, তা আসলে শাড়ির উল্টো পিঠে। কিন্তু আঁচল উড়লেই মাঝেমধ্যে প্রকট হবে সেই লাল। ঘিয়ে রঙের শাড়ির সঙ্গে পোড়া লালের এই বৈপরীত্য যে কোনও গায়ের রঙের সঙ্গেই মানানসই। কাজল এর সঙ্গে বড় লাল টিপ আর গাঢ় লাল রঙের কাচের চুড়ি পরেছেন হাতে। চুলে দিয়েছেন জুঁইয়ের মালা। বিজয়ার দেবীবরণে এমন সাজে সেজে মণ্ডপে গেলে আপনাকে ছাড়া আর কারও দিকে নজর পড়বে কি?
গাঢ় লালের সঙ্গে সবুজ
লাল হল শক্তির রং। আর সবুজ প্রকৃতি। দুর্গাপুজোয় এই দুয়েরই পুজো করা হয়। জাহ্নবীর সাজটি তাই দেবীবরণের উপযুক্ত। গাঢ় লাল রঙের অরগ্যাঞ্জায় কালচে তামাটে জরির হালকা নকশা। এর সঙ্গে সবুজ নেটের ফুল স্লিভ ব্লাউজ় আর অক্সিডাইজ়ড গয়না পরেছেন অভিনেত্রী। কানে পরেছেন চেন দেওয়া টানা দুল। সিঁদুরখেলার জন্য এমন একটি সাজ হতে পারে আদর্শ।
রুপোলি আর লাল
সিঁদুরখেলায় শাড়ি পরতেই হবে, এমন নয়। যাঁরা অবিবাহিতা তাঁরা বরণে যোগ না দিলেও সিঁদুরখেলায় যোগ দেন। তাঁদের জন্য সোনাক্ষীর অংরাখা স্যুটটি হতে পারে আদর্শ। রুপোলি জরির নকশা করা ওই স্যুটের সঙ্গে লাল পালাজ়ো আর লাল ওড়না নিয়েছেন নায়িকা। সঙ্গে পাড়ের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে পরেছেন রুপোলি নাগরা আর চাঁদবালি দুল।
লাল-সাদা তবে অন্য রকম
কৃতি সেননের শাড়িতে লাল-সাদা রয়েছে। তবে একটু অন্য ভাবে। ঢালা লাল পাড় আর সাদা জমির রেশম শাড়িতে সুতো আর জরি দিয়ে বোনা হয়েছে ফুল। সেই ফুল ছড়িয়ে রয়েছে শাড়ি জুড়ে। এর সঙ্গে নকশাহীন লাল ভি-নেক ব্লাউজ় আর সোনালি টেম্পল জুয়েলারিতে সজ্জিত খোলা চুলের কৃতির দিক থেকে চোখ ফেরানো যাচ্ছে না।
সাদা-সোনালি আর আলতা
দুর্গাবরণে আর একটু ‘হটকে’ সাজতে চাইলে বরং মৌনীর সাজ এই সাজ অনুকরণ করুন। স্বচ্ছ সাদা অরগ্যাঞ্জা শাড়ির সঙ্গে সোনালি ব্রোকেডের সরু ফিতের ব্লাউজ় পরেছেন বঙ্গললনা মৌনী। তার সঙ্গে পায়ে এবং হাতে করেছেন লাল আলতার নকশা। বিনুনি করা চুলে রাঙা গোলাপ। লাল ঠোঁট, হাতে কয়েক গাছা লাল চুড়ি। তাতেই মৌনীর পুজোর সাজ হয়ে উঠেছে ‘সেনসুয়াল’।
সোনালি টিস্যু
সাদা বা লাল ছাড়াও নজরকাড়া হতে পারে বরণের সাজ। সোনম কপূরের মতো একটি গোল্ডেন টিস্যু শাড়ি বেছে নিন। বা যে কোনও সোনালি সুতোয় বোনা একরঙা শাড়ি। সে তসরও হতে পারে। একরঙা সিল্কও হতে পারে। হতে পারে শিফন বা অরগ্যাঞ্জা বা তাঁত। শর্ত একটাই। তাতে লাল বা মেরুন বা কোনও বিপরীত রঙের নকশা থাকবে না। কেবল বিভিন্ন রকমের সোনালি রং থাকতে পারে। যেমন সোনম পরেছেন। কপালে টিপ থাকতেই হবে তার কোনও মানে নেই। তবে দেবীকে বরণের পরে গালে সিঁদুরের লাল রং পরলে এই শাড়ির রূপ আরও খুলবে।
চিরাচরিত লাল পাড় সাদা শাড়ি
জরি দিয়ে বোনা লাল পাড় সাদা সিল্কের শাড়ি। ছবিতে নোরা ফতেহী সম্ভবত কাঞ্জিভরম বা দক্ষিণী কোনও সিল্ক পরেছেন। তবে তার সঙ্গের সাজটি হয়েছে এক্কেবারে অন্য রকম। প্লিট দেওয়া সিল্কের একটি হল্টারনেক বিকিনি ব্লাউজ় পরেছেন নোরা। তার সঙ্গে ঢেউ খেলানো খোলা চুলে পরেছেন নকশাদার মাথাপট্টি। গলায় চওড়া হার। কানে সরু লম্বা দুল। হাতে বালা। চেনা লাল ব্লাউজ়ের বদলে নোরার মতো একটি ব্লাউজ়ের সঙ্গে এ বারের লাল সাদা শাড়িটি পরে দেখবেন নাকি?
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- লক্ষ্মীপুজো যে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই হয় তা নয়, দেশের নানা প্রান্তে হয়, তবে পুজোর আচার ভিন্ন। মহারাষ্ট্রে তা লক্ষ্মী পূজন, গুজরাতে আবার চোপড়া পূজন। ওড়িশায় তা-ই গজলক্ষ্মীর আরাধনা। কোন রাজ্যে কেমন ভাবে লক্ষ্মী পুজো হয়?
- উত্তমকুমার নিষ্ঠাভরে বাড়ির লক্ষ্মীপুজো করতেন। তাই এই পুজোর নামই হয়ে গিয়েছিল ‘উত্তমকুমারের বাড়ির পুজো’। এখনও এই পুজো এ ভাবেই পরিচিত। পুজোর ঐতিহ্য এবং রীতি নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে আড্ডা দিলেন উত্তম কুমারের ভাইঝি ও নাতনি।
- সময় করে বসে পুজোর জন্য আলপনা দেওয়া এক প্রকার বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। শহরে তো বটেই, মফস্সলেও। ইদানীং সমাজমাধ্যমের রিলে হাতপাখা থেকে শুরু করে পুরনো শাড়ি, চায়ের টেবিল থেকে ডায়েরির মলাট কিংবা বসার ঘরের মেঝে, সর্বত্র আলপনা দিচ্ছেন হুজুগে মানুষজন।
-
শতবর্ষপ্রাচীন প্রতিমার পুজোর ভোগে ১০ রকমের খাবার! দেবাদৃতার ঘরোয়া লক্ষ্মীপুজো ঠিক কেমন হল
-
ঘরোয়া ভাবে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে এ বার লক্ষ্মীপুজো শ্রীলেখার! দেবীর কাছে কোন বিশেষ প্রার্থনা করবেন তিনি?
-
‘মায়ের পছন্দ না হলে আমার হাত দিয়ে অন্য কিছু করান,’ অপরাজিতার বাড়ির লক্ষ্মীপুজোয় এ বার কী কী আয়োজন?
-
কেন জোড়া ইলিশ দেওয়া হয় লক্ষ্মীপুজোয়? তেল-মশলা ছাড়াই বানানো হয় ভোগপ্রসাদ, রন্ধনের নিয়মও আলাদা
-
লক্ষ্মীলাভে কেন পিছিয়ে বাংলা ছবি, কোন পথে আসবে সমৃদ্ধি? কী বলছেন প্রযোজক-পরিচালক-অভিনেতারা