দুর্গাপুজো মানে তো শুধু রাতে ঠাকুর দেখা নয়, বরং কলকাতার মণ্ডপগুলির ভিড় এড়াতে সকাল থেকেই ঘোরাঘুরি শুরু করেন অনেকে। শরতের মরসুমে তাপমাত্রা যেমনই থাক, চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়া রোদে ঠাকুর দেখা মানেই তাপে খানিক কালচে ছাপ পড়বেই।
রোদে ঘুরে আসার পর ত্বকে যে কালচে ভাব দেখা যায়, তাকে বলে ‘ট্যানিং’ বা রোদে পোড়া দাগ। ত্বকের এই রংবদলের নেপথ্যে থাকে সূর্যালোকের ইউভিএ এবং ইউভিবি রশ্মি। ইউভিএ রশ্মি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে কোষের ক্ষতি করে এবং মেলানোসাইটকে (মেলানিন উৎপাদনকারী বিশেষ ধরনের কোষ) সক্রিয় করে তোলে। অন্য দিকে, ইউভিবি রশ্মি ত্বকের উপরিভাগকে পুড়িয়ে দেয়। ত্বকে অতিবেগনি রশ্মি প্রবেশ করলে, শরীর নিজেকে রক্ষা করার জন্য অতিরিক্ত ‘মেলানিন’ নামক রঞ্জক তৈরি করতে শুরু করে। এই অতিরিক্ত মেলানিনই ত্বকের উপরিভাগে কালচে ছোপের সৃষ্টি করে। অতিরিক্ত রোদের সংস্পর্শ ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা কেড়ে নিয়ে অকালবার্ধক্য ডেকে আনে এবং দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
ত্বকের রোগের চিকিৎসক, রূপচর্চাশিল্পীরা মনে করাচ্ছেন, সে কারণে বাইরে বেরোনোর আগে ভাল মানের সানস্ক্রিন মাখা অত্যন্ত জরুরি। তবে দিনভর ঘোরাঘুরিতে সানস্ক্রিনের বর্মও সম্পূর্ণ সুরক্ষা দিতে পারে না। মুখে, হাত-পায়ে কালচে ছোপ হয়েই যায়।
কালচে ছোপ বা ট্যান দূর করার কার্যকর প্রাকৃতিক উপায়
রোদে পোড়া ভাব বা কালচে দাগ দূর করতে রাসায়নিক প্রসাধনীর পরিবর্তে প্রাকৃতিক উপাদানের উপরেও নির্ভর করতে পারেন। ঘরোয়া উপায়ে তৈরি কয়েকটি সহজ প্যাক ত্বকের হারানো জেল্লা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। পরখ করে দেখুন তেমন কিছু।
টম্যাটো ও টক দইয়ের মিশ্রণ: টম্যাটোর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ত্বক উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে এবং টক দইয়ের ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বক নরম ও আর্দ্র রাখে। টম্যাটোর রস ও দই একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে ও গলায় ২০ মিনিট লাগিয়ে ধুয়ে ফেললে দ্রুত সুফল মেলে। টম্যাটোর রসের সঙ্গে দইয়ের বদলে আধ চা-চামচ মধু মিশিয়েও মাখতে পারেন।
আলুর রস: আলুর রসকে প্রাকৃতিক ব্লিচ বলা হয়। রোদে পোড়া অংশে ১৫ মিনিট থেঁতো করা আলু লাগিয়ে ঠান্ডা জলে ধুয়ে নিলে কালচে ছোপ ও চোখের নীচের দাগ অনেকটাই হালকা হয়ে যাবে।
অ্যালোভেরা এবং শসা: রোদের তাপে ত্বকে জ্বালা শুরু হলে বা লালচে হয়ে গেলে শসার রস বা অ্যালোভেরা জেল দ্রুত প্রদাহ কমিয়ে স্বস্তি দিতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি কালচে, ক্লান্ত ভাবও দূর করবে।
পেঁপে ও মধু: পাকা পেঁপের প্রাকৃতিক উৎসেচক ত্বকের মৃত কোষ ঝরিয়ে ত্বককে উজ্জ্বল করে, আর মধুর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ত্বকের ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখতে সাহায্য করবে। কালচে ছাপ তুলবে পাকা পেঁপের ক্বাথ দারুণ উপকারী।
ওট্স: ওট্স গুঁড়োর সঙ্গে টক দই মিশিয়ে ত্বকে লাগালে তা মৃদু স্ক্রাবের কাজ করবে এবং ত্বকের কালচে ভাব দূর করবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- লক্ষ্মীপুজো যে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই হয় তা নয়, দেশের নানা প্রান্তে হয়, তবে পুজোর আচার ভিন্ন। মহারাষ্ট্রে তা লক্ষ্মী পূজন, গুজরাতে আবার চোপড়া পূজন। ওড়িশায় তা-ই গজলক্ষ্মীর আরাধনা। কোন রাজ্যে কেমন ভাবে লক্ষ্মী পুজো হয়?
- উত্তমকুমার নিষ্ঠাভরে বাড়ির লক্ষ্মীপুজো করতেন। তাই এই পুজোর নামই হয়ে গিয়েছিল ‘উত্তমকুমারের বাড়ির পুজো’। এখনও এই পুজো এ ভাবেই পরিচিত। পুজোর ঐতিহ্য এবং রীতি নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে আড্ডা দিলেন উত্তম কুমারের ভাইঝি ও নাতনি।
- সময় করে বসে পুজোর জন্য আলপনা দেওয়া এক প্রকার বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। শহরে তো বটেই, মফস্সলেও। ইদানীং সমাজমাধ্যমের রিলে হাতপাখা থেকে শুরু করে পুরনো শাড়ি, চায়ের টেবিল থেকে ডায়েরির মলাট কিংবা বসার ঘরের মেঝে, সর্বত্র আলপনা দিচ্ছেন হুজুগে মানুষজন।
-
শতবর্ষপ্রাচীন প্রতিমার পুজোর ভোগে ১০ রকমের খাবার! দেবাদৃতার ঘরোয়া লক্ষ্মীপুজো ঠিক কেমন হল
-
ঘরোয়া ভাবে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে এ বার লক্ষ্মীপুজো শ্রীলেখার! দেবীর কাছে কোন বিশেষ প্রার্থনা করবেন তিনি?
-
‘মায়ের পছন্দ না হলে আমার হাত দিয়ে অন্য কিছু করান,’ অপরাজিতার বাড়ির লক্ষ্মীপুজোয় এ বার কী কী আয়োজন?
-
কেন জোড়া ইলিশ দেওয়া হয় লক্ষ্মীপুজোয়? তেল-মশলা ছাড়াই বানানো হয় ভোগপ্রসাদ, রন্ধনের নিয়মও আলাদা
-
লক্ষ্মীলাভে কেন পিছিয়ে বাংলা ছবি, কোন পথে আসবে সমৃদ্ধি? কী বলছেন প্রযোজক-পরিচালক-অভিনেতারা