বয়সের ছাপ মুছে ফেলে সুন্দরী হয়ে ওঠার নানা কৌশল রয়েছে হাতের কাছেই। ক্রিম, সিরাম, থেরাপির তো আছেই। ত্বক টানটান রাখতে, বলিরেখা আটকাতে, মুখ আরও তীক্ষ্ম দেখাতে প্রসাধনীর জগতে এখন আসতে শুরু করেছে নানা রকম যন্ত্রপাতিও।
ছোট্ট যন্ত্রের কোনওটির মুখ গোল, কোনওটি চ্যাপ্টা গোছের। কোনওটিতে কম্পন হয়, কোনওটি দিয়ে এলইডি লাইট থেরাপি হয়। তা দিয়ে আলতো করে শুধু নির্দিষ্ট কৌশলে মুখে ম্যাসাজ় করতে হবে। তা হলেই ঘুরবে বয়সের চাকা!
এই ধরনের রকম বৈদ্যুতিক যন্ত্রের কাজই হল মৃদু বিদ্যুৎ তরঙ্গের সাহায্যে ত্বকের পেশি, স্নায়ুকে উদ্দীপিত করা। সহজে বললে, এই ধরনের যন্ত্র মুখের ম্যাসাজে সাহায্য করে।
ত্বক সতেজ রাখে: বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ত্বক শিথিল হয়ে যায়, কুঁচকে যায়। রক্ত সঞ্চালন ঠিক থাকলে ত্বক যেমন সতেজ থাকে, পেশিও সবল হয়। ফলে, চট করে মুখে বয়সের ছাপ পড়ে না।
মুখ ধারালো দেখায়: বয়সের সঙ্গে মেদ জমে মুখের আকার বদলে যায়। কারও মুখ ভীষণ ফোলা দেখায়। মেদ গলাতে, ফোলা ভাব কমিয়ে মুখের গড়ন, থুতনি, চোয়ালের অংশ ধারালো দেখাতে সাহায্য করে যন্ত্রগুলি।
বলিরেখা ঠেকাতেও সহায়ক: বয়সের সঙ্গে সঙ্গে কোলাজেন নামক প্রোটিনের মাত্রা কমে যায়, ফলে ত্বকে বলিরেখা পড়তে শুরু করে। কপালে, ঠোঁটের দু’পাশে, চোখের তলার ভাঁজে রেখাগুলি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই ধরনের যন্ত্র কোলাজেনের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে ত্বক টানটান রাখে।
কোন কোন ধরনের যন্ত্র পাওয়া যায়?
মৃদু বিদ্যুৎ তরঙ্গ যন্ত্র (মাইক্রোকারেন্ট): এই ধরনের যন্ত্র একদম হালকা মাত্রার বিদ্যুৎ প্রবাহের মাধ্যমে পেশিগুলিকে সতেজ করে তোলে। বিদ্যুৎতরঙ্গ দ্রুত কোষ মেরামতিতে সাহায্য করে। কোলাজেন উৎপাদনেও কার্যকরী ভূমিকা নেয়। পেশিগুলিকে উদ্দীপিত করে ত্বক টানটান রাখতে সাহায্য করে। দাম সাধারণত ৩,৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
ইলেকট্রিক্যাল মাসল স্টিমুলেশন অ্যান্ড এলইডি ডিভাইস: বৈদ্যুতিক স্পন্দন বা ভাইব্রেশনেরর সাহায্যে যন্ত্রটি পেশিগুলিকে এক বার সংকুচিত, এক বার প্রসারিত করে। ঝুলে পড়া মাংসপেশি, চামড়া টানটান হয় এতে। লাল, নীল বিভিন্ন রকম এলইডি দিয়ে থেরাপিও করা যায়। লাল আলো ত্বক টানটান রাখতে সাহায্য করে, নীল আলো ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যাক্টেরিয়া নষ্ট করে। এটি ত্বকের গভীরে মৃদু তাপ তৈরি করে কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায় এবং চামড়ার কুঁচকানো ভাব দূর করে। দাম সাধারণত দু’ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে।
পেশি উদ্দীপক এবং কম্পন যন্ত্র: ছোট আকারের ‘গোয়া সা’ বা রোলার জাতীয় যন্ত্র, যা বৈদ্যুতিক স্পন্দন ও কম্পনের সাহায্যে মুখের রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে তোলে। চিনা ভাষায় ‘গোয়া সা’ শব্দবন্ধের অর্থ হল চেঁছে তোলা। আকারে হাতের তালুর চেয়েও ছোট, পাতলা, বিশেষ ধরনের একটি পাথর হল এই গোয়া সা। যা নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকে রক্ত সঞ্চালন ভাল হয়। ত্বকের টানটান ভাব বজায় থাকে। চোখের তলায় বা মুখের অন্যান্য অংশের ফোলা ভাব দূর করতে সাহায্য করে এই পাথরটি। তবে এখন বৈদ্যুতিক গোয়া সা পাওয়া যাচ্ছে, যা ব্যবহার তুলনামূলক সহজ। এই ধরনের যন্ত্রের দাম এক হাজার থেকে পাঁচ হাজারের মধ্যে।
ব্যবহারের সঠিক নিয়ম ও ধাপ
মুখ পরিষ্কার করা: প্রথমে মৃদু ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ভাল করে ধুয়ে মুছে নিন। ত্বকের ময়লা বা মেকআপ তুলে ফেলা জরুরি।
সিরাম বা অ্যালো ভেরা জেল লাগান: ত্বকের উপর কোনও সিরাম বা অ্যালো ভেরা জেল লাগিয়ে নিন।
কম মাত্রায় শুরু করা: যন্ত্রটি চালু করে প্রথম কয়েক দিন মৃদু কম্পনের মোডে রাখুন, যাতে ত্বক অভ্যস্ত হতে পারে।
যন্ত্র চালানোর সঠিক দিক: থুতনি থেকে শুরু করে কানের লতির দিকে উপরের মুখে টানুন। নাকের পাশ থেকে শুরু করে গালের হাড়ের উপর দিয়ে কানের উপরের অংশের দিকে তুলুন। ভ্রুর উপর থেকে কপালের উপরের অংশে নিয়ে যান। সব সময় যন্ত্র নীচ থেকে উপরের দিকে ব্যবহার করতে হবে। উল্টোটা হলে ত্বক ঝুলে যাবে।
সময়
দিনে ৫ থেকে ১০ মিনিট ব্যবহার করাই যথেষ্ট। প্রথম দুই মাস সপ্তাহে ৩ থেকে ৫ দিন এবং পরবর্তী সময়ে ফল ধরে রাখতে সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন ব্যবহার করুন।
মুখ ধোয়া ও যন্ত্র পরিষ্কার
কাজ শেষ হলে মুখ ধুয়ে সাধারণ ময়েশ্চারাইজ়ার লাগিয়ে নিন। যন্ত্রের ধাতব অংশটি নরম ও শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে রাখুন, সরাসরি জলে ভেজাবেন না।
বিশেষ কিছু সতর্কতা
• যাঁদের হৃদযন্ত্রে পেসমেকার বসানো আছে, শরীরে ধাতব পাত লাগানো রয়েছে, মৃগীরোগ বা অন্য কোনো স্নায়ুর সমস্যা রয়েছে, তাঁদের এই যন্ত্র ব্যবহার করা অনুচিত।
• অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় এই ধরনের যন্ত্র ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
• মুখে ব্রণ, কাটাছেঁড়া বা ঘা থাকলে সেই জায়গায় যন্ত্রটি ছোঁয়াবেন না। এছাড়া গলার মাঝখানে থাইরয়েড গ্রন্থির ওপরেও সরাসরি এটি চালানো উচিত নয়।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- লক্ষ্মীপুজো যে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই হয় তা নয়, দেশের নানা প্রান্তে হয়, তবে পুজোর আচার ভিন্ন। মহারাষ্ট্রে তা লক্ষ্মী পূজন, গুজরাতে আবার চোপড়া পূজন। ওড়িশায় তা-ই গজলক্ষ্মীর আরাধনা। কোন রাজ্যে কেমন ভাবে লক্ষ্মী পুজো হয়?
- উত্তমকুমার নিষ্ঠাভরে বাড়ির লক্ষ্মীপুজো করতেন। তাই এই পুজোর নামই হয়ে গিয়েছিল ‘উত্তমকুমারের বাড়ির পুজো’। এখনও এই পুজো এ ভাবেই পরিচিত। পুজোর ঐতিহ্য এবং রীতি নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে আড্ডা দিলেন উত্তম কুমারের ভাইঝি ও নাতনি।
- সময় করে বসে পুজোর জন্য আলপনা দেওয়া এক প্রকার বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। শহরে তো বটেই, মফস্সলেও। ইদানীং সমাজমাধ্যমের রিলে হাতপাখা থেকে শুরু করে পুরনো শাড়ি, চায়ের টেবিল থেকে ডায়েরির মলাট কিংবা বসার ঘরের মেঝে, সর্বত্র আলপনা দিচ্ছেন হুজুগে মানুষজন।
-
শতবর্ষপ্রাচীন প্রতিমার পুজোর ভোগে ১০ রকমের খাবার! দেবাদৃতার ঘরোয়া লক্ষ্মীপুজো ঠিক কেমন হল
-
ঘরোয়া ভাবে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে এ বার লক্ষ্মীপুজো শ্রীলেখার! দেবীর কাছে কোন বিশেষ প্রার্থনা করবেন তিনি?
-
‘মায়ের পছন্দ না হলে আমার হাত দিয়ে অন্য কিছু করান,’ অপরাজিতার বাড়ির লক্ষ্মীপুজোয় এ বার কী কী আয়োজন?
-
কেন জোড়া ইলিশ দেওয়া হয় লক্ষ্মীপুজোয়? তেল-মশলা ছাড়াই বানানো হয় ভোগপ্রসাদ, রন্ধনের নিয়মও আলাদা
-
লক্ষ্মীলাভে কেন পিছিয়ে বাংলা ছবি, কোন পথে আসবে সমৃদ্ধি? কী বলছেন প্রযোজক-পরিচালক-অভিনেতারা