Advertisement
E-Paper

চন্দ্রকলা থেকে মুগ ডালের মোহনভোগ, লক্ষ্মীপুজোর ভোগের থালায় সাজিয়ে দিন বাড়িতে বানানো হরেক মিষ্টি

দোকান থেকে কেনা মিষ্টির চেয়ে হাতে গড়া মিষ্টি ভোগের থালায় সাজিয়ে দিন। লক্ষ্মীপুজোয় নারকেল ও গুড়ের মিষ্টিই সাধারণত প্রসাদে দেওয়া হয়। তা ছাড়াও আরও নানা রকম মিষ্টি বাড়িতে বানিয়ে নিতে পারেন। প্রণালীও কঠিন নয়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৪৩
Delightful Homemade Sweets for Lakshmi Puja

ভাপা সন্দেশ থেকে চন্দ্রকলা, লক্ষ্মীপুজো স্পেশাল কিছু মিষ্টির রেসিপি রইল। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

লক্ষ্মীপুজোর সঙ্গে বাঙালির খাওয়াদাওয়ার ইতিহাসও ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। পূর্ববঙ্গে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিনে আমিষ, বিশেষত জোড়া ইলিশ খাওয়ার চল বহুচর্চিত। ভিন্ন মত রয়েছে এ পার বাংলার বাঙালিদের মধ্যে। এখানে লক্ষ্মীপুজো মানেই খিচুড়ি ও লাবড়া! সঙ্গে নানা রকম মিষ্টি। লক্ষ্মীপুজোয় গুড় ও নারকেলের মিষ্টিই সাধারণত প্রসাদ হিসেবে দেওয়া হয়। দুধ, ছানা, নারকেল দিয়ে যে যেমন পারেন মিষ্টি গড়ে নিবেদন করেন। কেনা মিষ্টির যতই রমরমা হোক না কেন, এখনও নিজের হাতে মিষ্টি গড়ে ভোগে নিবেদনের আচার পালন করা হয় অনেক বাড়িতেই। নারকেল নাড়ু, তিলের নাড়ু থেকে শুরু করে ক্ষীর, চালের পায়েস, নানা রকম সন্দেশ— সে তালিকাও লম্বা। ঘরে তৈরির প্রণালীও কঠিন নয়।

ভাপা সন্দেশ

ভাপা সন্দেশ

ভাপা সন্দেশ

বাঙালি বাড়ির পুজো মানে তাতে সন্দেশ থাকবেই। কেনা সন্দেশের বদলে ভাপা সন্দেশ বাড়িতেই বানিয়ে নেওয়া যায়। ৩০০ গ্রামের মতো ছানা ভাল করে বেটে নিতে হবে আগে। এ বার তাতে মেশাতে হবে ১০০ গ্রামের খোয়া ক্ষীর। ছানায় ক্ষীর মেশানোর আগে তা ভাল করে গ্রেট করে নেবেন। এ বার প্যানে ২ চামচ ঘি গরম করে ছানা, ক্ষীর, কনডেন্সড মিল্ক (পরিমাণ মতো) একসঙ্গে মিশিয়ে অল্প আঁচে নাড়তে থাকুন। ঘন হয়ে এলে তাতে আধ চা-চামচ এলাচগুঁড়ো ও ৩ চামচের মতো গুঁড়ো দুধ মিশিয়ে দিন। ভাল করে পাক দিয়ে গ্যাস বন্ধ করে দিন। ছোট ছোট মাটির ভাঁড়ে সমান ভাবে ঢেলে উপর থেকে পেস্তা ও বাদামকুচি ছড়িয়ে ভাঁড়ের মুখগুলি অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল দিয়ে মুড়ে দিন। এ বার ভাঁড়গুলি গরম জলে বসিয়ে রাখতে পারেন। তা হলেই ভাপা সন্দেশ তৈরি হয়ে যাবে।

ক্ষীর

ক্ষীর

ক্ষীর

পুজোর দিনে কেউ চালের পায়েস রাঁধেন, কেউ আবার ক্ষীর বা রাবড়ি বানান। প্রথমে দুধ ভাল করে জ্বাল দিতে হবে। অর্ধেক দুধ মরে এলে তাতে কয়েকটি গুড়ের বাতাসা ফেলে নাড়তে হবে। নিরন্তর নেড়ে যেতে হবে যাতে তলা ধরে না যায়। দুধের সবটা মরে গিয়ে ঘন হয়ে এলে নামিয়ে নিতে হবে। তাতে কাজু, কিশমিশ, পেস্তা ও সামান্য কেশর উপর থেকে ছড়িয়ে দিতে হবে।

বাদাম-পেস্তা কালাকাঁদ

বাদাম-পেস্তা কালাকাঁদ

বাদাম-পেস্তা কালাকাঁদ

ছানা ও ক্ষীরের মিষ্টির প্রতি বাঙালির সহজাত প্রেমের কারণে উত্তর ভারতের ‘কলাকন্দ’ বাঙালির মনেও দিব্যি ঠাঁই পেয়েছে ও উচ্চারণে হয়ে উঠেছে কালাকাঁদ। ছানা ভাল করে পাক দিয়ে তৈরি হয় এই মিষ্টি। ঘরে তৈরি করতে হলে একটি পাত্রে ২ লিটার দুধ নিয়ে জ্বাল দিয়ে ঘন করে নিতে হবে। এ বার ওর মধ্যে লেবুর রস ফেলে ছানা কাটিয়ে চিনি দিয়ে নেড়ে চেড়ে একটু শুকিয়ে নিতে হবে। শুকিয়ে এলে অল্প ঘি আর এলাচগুঁড়ো দিয়ে নেড়ে একটি পাত্রে ঘি মাখিয়ে মিশ্রণটি ঢালতে হবে। ঠান্ডা হলে সন্দেশের আকারে কেটে কেশর ও কাঠবাদামকুচি ছড়িয়ে দিতে হবে।

চন্দ্রকলা

চন্দ্রকলা

চন্দ্রকলা

আধখানা চাঁদের মতো দেখতে, ভিতরে ক্ষীরের পুরে ঠাসা। বাইরেটা মুচমুচে। চন্দ্রকলা বাড়িতেও দিব্যি বানানো যায়। ময়দায় ঘিয়ের ময়ান দিয়ে মেখে লুচির চেয়ে বড় লেচি বেলে নিতে হবে। পুরের জন্য খোয়া ক্ষীর, চিনি, ড্রাই ফ্রুট্‌স কুচি ও এলাচগুঁড়ো হালকা সাঁতলে নিন। এতে নারকেল কোরাও দিতে পারেন। এবার একটি ময়দার পুরের গোল রুটির মাঝখানে ক্ষীর-নারকেলের পুর দিয়ে উপর থেকে অন্য একটি রুটি দিয়ে ঢেকে চারপাশ মুড়ে দিন। দেখতে হবে অর্ধচন্দ্রের মতো। এর পর ডুবো তেলে হালকা আঁচে সোনালি করে ভেজে চিনির সিরায় ১০ মিনিট ডুবিয়ে রাখলেই তৈরি হয়ে যাবে চন্দ্রকলা।

মুগ ডালের মোহনভোগ

মুগ ডালের মোহনভোগ

মুগ ডালের মোহনভোগ

লক্ষ্মীপুজোয় সুজির পাশাপাশি মুগ ডালের মোহনভোগও প্রসাদের থালায় সাজিয়ে দিতে পারেন। রাজকীয় এই মিষ্টি তৈরির প্রণালী কঠিন নয়। ১ কাপ মুগ ডাল ধুয়ে শুকিয়ে শুকনো কড়ায় ভেজে গুঁড়ো করে নিন। এ বার কড়ায় আধ কাপের মতো ঘি দিয়ে গুঁড়ো করা ডাল কম আঁচে সোনালি করে ভাজুন। ডাল ভাজা হয়ে এলে কাপ গরম দুধ ও ১ কাপ জল দিয়ে ক্রমাগত নাড়তে থাকুন, যাতে দলা পাকিয়ে না যায়। ডাল সেদ্ধ হয়ে এলে ১ কাপ চিনি ও এলাচের গুঁড়ো মেশান। ঘি ভাসতে শুরু করলে উপর থেকে ভেজে রাখা কাজু ও কিশমিশ ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।

ছানার পান্তুয়া

ছানার পান্তুয়া

ছানার পান্তুয়া

বাড়িতে টাটকা ছানা দিয়ে তৈরি পান্তুয়া লক্ষ্মীপুজোর ভোগে অন্য মাত্রা যোগ করবে। ২০০ গ্রাম টাটকা ছানা ভাল করে হাতের তালু দিয়ে চটকে নরম করে নিন। এতে ১ টেবিল চামচ ময়দা, ১ টেবিল চামচ সুজি ও সামান্য বেকিং সোডা মিশিয়ে মেখে ছোট ছোট গোল বলের মতো বানিয়ে নিন। অন্য দিকে, চিনি ও জল সমপরিমাণে ফুটিয়ে তাতে এলাচগুঁড়ো দিয়ে চিনির সিরা বানিয়ে রাখুন। কড়ায় ঘি ও তেল গরম করে কম আঁচে পান্তুয়াগুলি লালচে করে ভেজে চিনির সিরায় ফেলে ২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন।

সংক্ষেপে
  • লক্ষ্মীপুজো যে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই হয় তা নয়, দেশের নানা প্রান্তে হয়, তবে পুজোর আচার ভিন্ন। মহারাষ্ট্রে তা লক্ষ্মী পূজন, গুজরাতে আবার চোপড়া পূজন। ওড়িশায় তা-ই গজলক্ষ্মীর আরাধনা। কোন রাজ্যে কেমন ভাবে লক্ষ্মী পুজো হয়?
  • উত্তমকুমার নিষ্ঠাভরে বাড়ির লক্ষ্মীপুজো করতেন। তাই এই পুজোর নামই হয়ে গিয়েছিল ‘উত্তমকুমারের বাড়ির পুজো’। এখনও এই পুজো এ ভাবেই পরিচিত। পুজোর ঐতিহ্য এবং রীতি নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে আড্ডা দিলেন উত্তম কুমারের ভাইঝি ও নাতনি।
  • সময় করে বসে পুজোর জন্য আলপনা দেওয়া এক প্রকার বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। শহরে তো বটেই, মফস্‌সলেও। ইদানীং সমাজমাধ্যমের রিলে হাতপাখা থেকে শুরু করে পুরনো শাড়ি, চায়ের টেবিল থেকে ডায়েরির মলাট কিংবা বসার ঘরের মেঝে, সর্বত্র আলপনা দিচ্ছেন হুজুগে মানুষজন।
Laxmi Puja Sweets Recipes

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy