কোজাগরী পূর্ণিমার রাত, ঘরে ঘরে শঙ্খ-উলুধ্বনি, ধূপ-ধুনোর গন্ধ আর আলপনায় সেজে উঠেছে উঠোন। লক্ষ্মীপুজো মানেই তো মা লক্ষ্মীকে ঘরে আনার আয়োজন, আর সেই আয়োজন নারকেল ছাড়া যেন অসম্পূর্ণ। পুজোর ঘটে নারকেল, ভোগের থালায় নারকেল নাড়ু— এটাই তো বাঙালির চিরন্তন রীতি। কিন্তু প্রতিবছর শুধু সাদা ধবধবে নারকেল নাড়ু আর নারকেলের ছাপা সন্দেশ? এ বার না হয় সেই তালিকায় আরও নতুন কিছু সংযোজন হোক! ঠাকুরের ভোগে আসুক নতুনত্ব, আর প্রসাদের থালাতেও থাকুক চমক। তাই এবারের লক্ষ্মীপুজোয় শুধু নাড়ুতে আটকে না থেকে, নারকেল দিয়েই বানিয়ে ফেলুন এই ৩টি লোভনীয় মিষ্টি, যা দেখে মা লক্ষ্মীও প্রসন্ন হবেন, আর বাড়ির ছোট থেকে বড় সবাই চেটেপুটে খাবে।
নারকেল-তিলের চাকতি
উপকরণ: কোরা নারকেল ১ কাপ, তিল ১/২ কাপ, গুড় ১ কাপ।
পদ্ধতি: শুকনো খোলায় তিল আর নারকেল আলাদা করে হালকা ভেজে নিন। এ বার কড়াইতে গুড় গলিয়ে আঠালো হলে তিল আর নারকেল মিশিয়ে দিন। একটি থালায় ঘি মাখিয়ে মিশ্রণটি ঢেলে বেলন দিয়ে পাতলা করে বেলে নিন। গরম থাকতেই ছুরি দিয়ে চৌকো বা বরফির মতো কেটে নিন। ঠান্ডা হলে মুচমুচে চাকতি তৈরি।
নারকেল-গুড়ের পায়েস
উপকরণ: কোরা নারকেল ১ কাপ, গোবিন্দভোগ চাল ১/২ কাপ, দুধ ১ লিটার, খেজুর গুড় ১ কাপ, কাজু-কিশমিশ।
পদ্ধতি: দুধ ফুটিয়ে তাতে আগে থেকে ভিজিয়ে রাখা গোবিন্দভোগ চাল দিন। চাল সেদ্ধ হয়ে এলে কোরা নারকেল দিন। ঘন হয়ে এলে আঁচ বন্ধ করে গুড় মেশান। মনে রাখবেন, গরম দুধে গুড় দিলে দুধ কেটে যেতে পারে, তাই আঁচ বন্ধ করেই গুড় মেশাবেন। উপরে কাজু-কিশমিশ ছড়িয়ে ভোগে নিবেদন করুন।
নারকেলের বরফি
উপকরণ: কোরা নারকেল ২ কাপ, কনডেন্সড মিল্ক ১ কাপ, গুঁড়ো দুধ ১/২ কাপ, এলাচগুঁড়ো সামান্য, ঘি ১ চামচ।
পদ্ধতি: কড়াইয়ে ঘি গরম করে কোরা নারকেল ২ মিনিট নেড়ে নিন। এ বার কনডেন্সড মিল্ক ও গুঁড়ো দুধ দিয়ে ক্রমাগত নাড়তে থাকুন। মিশ্রণটি কড়াই থেকে ছেড়ে এলে এলাচগুঁড়ো মেশান। একটি থালায় ঘি মাখিয়ে মিশ্রণটি ঢেলে সমান করে ছড়িয়ে দিন। ঠান্ডা হলে বরফির আকারে কেটে নিন। ১০ মিনিটেই তৈরি হয়ে যাবে বরফি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- লক্ষ্মীপুজো যে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই হয় তা নয়, দেশের নানা প্রান্তে হয়, তবে পুজোর আচার ভিন্ন। মহারাষ্ট্রে তা লক্ষ্মী পূজন, গুজরাতে আবার চোপড়া পূজন। ওড়িশায় তা-ই গজলক্ষ্মীর আরাধনা। কোন রাজ্যে কেমন ভাবে লক্ষ্মী পুজো হয়?
- উত্তমকুমার নিষ্ঠাভরে বাড়ির লক্ষ্মীপুজো করতেন। তাই এই পুজোর নামই হয়ে গিয়েছিল ‘উত্তমকুমারের বাড়ির পুজো’। এখনও এই পুজো এ ভাবেই পরিচিত। পুজোর ঐতিহ্য এবং রীতি নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে আড্ডা দিলেন উত্তম কুমারের ভাইঝি ও নাতনি।
- সময় করে বসে পুজোর জন্য আলপনা দেওয়া এক প্রকার বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। শহরে তো বটেই, মফস্সলেও। ইদানীং সমাজমাধ্যমের রিলে হাতপাখা থেকে শুরু করে পুরনো শাড়ি, চায়ের টেবিল থেকে ডায়েরির মলাট কিংবা বসার ঘরের মেঝে, সর্বত্র আলপনা দিচ্ছেন হুজুগে মানুষজন।
-
শতবর্ষপ্রাচীন প্রতিমার পুজোর ভোগে ১০ রকমের খাবার! দেবাদৃতার ঘরোয়া লক্ষ্মীপুজো ঠিক কেমন হল
-
ঘরোয়া ভাবে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে এ বার লক্ষ্মীপুজো শ্রীলেখার! দেবীর কাছে কোন বিশেষ প্রার্থনা করবেন তিনি?
-
‘মায়ের পছন্দ না হলে আমার হাত দিয়ে অন্য কিছু করান,’ অপরাজিতার বাড়ির লক্ষ্মীপুজোয় এ বার কী কী আয়োজন?
-
কেন জোড়া ইলিশ দেওয়া হয় লক্ষ্মীপুজোয়? তেল-মশলা ছাড়াই বানানো হয় ভোগপ্রসাদ, রন্ধনের নিয়মও আলাদা
-
লক্ষ্মীলাভে কেন পিছিয়ে বাংলা ছবি, কোন পথে আসবে সমৃদ্ধি? কী বলছেন প্রযোজক-পরিচালক-অভিনেতারা