মোবাইল ফোন রিচার্জের নিয়মে বড় বদল। মুঠোবন্দি ডিভাইস ব্যবহারের খরচে হ্রাস টানতে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। সেটা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ‘টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’ বা ট্রাই। এতে পুজোর মুখে আমজনতা যে অনেকটাই স্বস্তি পেতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
গত কয়েক বছর ধরেই মোবাইল ফোন রিচার্জের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করে আসছে রিলায়্যান্স জ়িয়ো, ভারতী এয়ারটেল এবং ভোডাফোন-আইডিয়ার (ভিআই) মতো এ দেশের তাবড় টেলিকম সংস্থা। সাধারণ টকটাইমের সঙ্গে ইন্টারনেটের খরচ জুড়ে বিল তৈরি করছিল তারা। এ বার সেটা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে ট্রাই। শুধু তা-ই নয়, তাদের বিজ্ঞপ্তিতে ইন্টারনেট বাদ দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা রাখার কথাও বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
এ ছাড়া, নতুন নিয়মে সমস্ত টেলিকম সংস্থাগুলিকে কমাতে হবে শুল্ক। পাশাপাশি, জিয়ো, এয়ারটেল এবং ভিআই ব্যবহারকারীরা এখন থেকে শুধুমাত্র কথা বলা (পড়ুন, ভয়েস) এবং এসএমএসের জন্য বেশ কিছু রিচার্জ প্ল্যান বেছে নিতে পারবেন। ট্রাইয়ের যুক্তি, অনেকেই ইন্টারনেটের জন্য পুরোপুরি ওয়াই-ফাইয়ের উপর নির্ভরশীল। আর তাই তাঁদের ঘাড়ে বাড়তি খরচ চাপিয়ে দেওয়া অনুচিত।
নতুন সংশোধনীতে রিলায়্যান্স জিয়ো, ভারতী এয়ারটেল এবং ভোডাফোন-আইডিয়াকে ৩০ দিন বা তার কম মেয়াদের রিচার্জ প্ল্যানে শুধুমাত্র কথা বলা এবং এসএমএসের সুবিধাযুক্ত বিকল্প চালু করার নির্দেশ দিয়েছে ট্রাই। পাশাপাশি, ইন্টারনেট যুক্ত বিকল্পের তুলনায় এর খরচ কম রাখতে বলা হয়েছে। তা ছাড়া, শুল্কতেও যথাযথ ছাড় দিতে হবে।
আরও পড়ুন:
টেলিকম সংস্থাগুলিকে শুধুমাত্র কথা বলা এবং এসএমএম প্ল্যান নবীকরণের তারিখে প্রতি মাসের একই তারিখে রাখতে বলছে ট্রাই। কোনও মাসে ওই তারিখ না থাকলে, প্ল্যানটি সেই মাসের শেষ দিনে নবায়নযোগ্য হতে হবে। উদাহরণ হিসাবে ২৯ ফেব্রুয়ারির কথা বলা যেতে পারে, যেটা প্রতি চার বছরে একবার আসে।
এ প্রসঙ্গে সংবাদসংস্থা পিটিআইকে ট্রাইয়ের এক শীর্ষকর্তা বলেন, ‘‘এত দিন পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলি শুধুমাত্র সীমিত সংখ্যক কথা বলা এবং এসএমএস ভিত্তিক ‘স্পেশাল ট্যারিফ ভাউচার’ গ্রাহকদের মধ্যে বিলি করছিল। এই প্ল্যানগুলির বেশির ভাগই ছিল দীর্ঘমেয়াদি। ফলে সমস্যার মুখে পড়ছিলেন স্বল্প আয়ের ব্যবহারকারীরা। এ বার সেটা পুরোপুরি বদলাতে বলা হয়েছে।’’
আরও পড়ুন:
টেলি পরিষেবা সংস্থাগুলির রিচার্জ প্ল্যান নিয়ে অতীতে সংসদে সরব হন রাঘব চাড্ডা। ওই সময় আম আদমি পার্টির (আপ) প্রতিনিধি ছিলেন তিনি। পরে অবশ্য বিজেপিতে যোগ দেন এই তরুণ রাজনীতিবিদ। ট্রাইয়ের নতুন নির্দেশকে স্বাগত জানিয়ে তাঁর করা এক্স হ্যান্ডলের (সাবেক টুইটার) পোস্ট ঘিরেও রীতিমতো হইচই পড়ে গিয়েছে।
সমাজমাধ্যমে রাঘব লিখেছেন, ‘‘৩০ দিনের প্ল্যান চালু হলে বছরে ১৩ নয়, ১২টি মাসিক রিচার্জ করলেই চলবে। যাঁদের ইন্টারনেট দরকার নেই, তাঁরা শুধুমাত্র ভয়েস এবং এসএমএসের জন্য টাকা দেবেন। এতে অনেকটাই সাশ্রয়ী হবে মোবাইল ফোনে কথা বলার খরচ।’’