Advertisement
E-Paper

ঘোরাও হবে, ঠাকুর দেখাও হবে, পুজোয় চলুন কলকাতার বাইরের তিন স্থানে, ছুটি কাটুক অন্য ভাবে

একটা দিন ঠাকুর দেখতে চলুন কলকাতার বাইরে। সফর, খাওয়াদাওয়া, বাড়ির পুজো দেখা— সবই হবে। পুজো কাটবে অন্যরকম।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ১১:০৪
কলকাতার বাইরে চলুন একটি দিন, পুরনো বাড়ির দুর্গা প্রতিমা দেখাও হবে, ঘোরাও হবে। তালিকায় থাকবে কোন জায়গা?

কলকাতার বাইরে চলুন একটি দিন, পুরনো বাড়ির দুর্গা প্রতিমা দেখাও হবে, ঘোরাও হবে। তালিকায় থাকবে কোন জায়গা? ছবি:সংগৃহীত।

শহরতলি থেকে মফস্সল — পুজো মানেই ভিড় কলকাতামুখী। হবে না-ই বা কেন? এক-একটি মণ্ডপ যেন শিল্পের আঁতুড়ঘর। মণ্ডপ, প্রতিমা, আলো — সব মিলিয়েই সে এক দেখার মতো ব্যাপার বটে, যার টানে দেশের নানা প্রান্ত থেকে, এমনকি বিদেশ থেকেও অতিথিরা ভিড় জমান।

তবে এই আলো, রোশনাই, ভিড়ভাট্টার আড়ালে রয়ে যায় গ্রামবাংলার বাড়ির পুজো। যার কিছু ইতিহাস জানা যায়, কিছুটা অজানা। কলকাতার জনসমুদ্র থেকে দূরে ঘুরে আসতে পারেন এমনই জায়গায়। যেখানে এখনও তিথি-নক্ষত্র, পারিবারিক রীতি মেনে পুজো হয়। আরও একটি বিষয় হল, গ্রামাঞ্চলে বহু বাড়িতে বছরভর প্রবেশের ছাড়পত্র না মিললেও পুজোর সময় দ্বার থাকে অবারিত।

ধান্যকুড়িয়া যেন প্রাসাদের জনপদ!

গায়েন বাড়ির দুর্গা প্রতিমা।

গায়েন বাড়ির দুর্গা প্রতিমা। ছবি: সংগৃহীত।

টাকি কিংবা বসিরহাটের পথে চলুন ধান্যকুড়িয়ায়। এ এক এমন জনপদ যেখানে দুই পা অন্তর মিলবে প্রাসাদোপম অট্টালিকা। কোনওটির জৌলুস রয়েছে, কোনওটি আবার নিঃশব্দেই অতীতের ঐতিহ্য বহন করছে। মূল রাস্তার পাশেই দেখতে পাবেন সিংহদরজা। তারই মাথায় অপূর্ব ভাস্কর্য। সিংহের সঙ্গে যু্দ্ধরত পুরুষ। সেই কারুকাজ অবশ্য অযত্নে নষ্ট হতে বসেছে। ধান্যকুড়িয়ার এই স্থানটি পরিচিত গায়েন গার্ডেন নামে। প্রায় দেড়শো বছর আগে ধান্যকুড়িয়ার পাট ব্যবসায়ী মহেন্দ্রনাথ গায়েন দুর্গের আদলে ৩৩ বিঘা জমি জুড়ে ভবনটি নির্মাণ করেন। ইন্দো-ইউরোপীয় মিশ্র আঙ্গিকের সুদৃশ্য অট্টালিকাটি এখনও মানুষকে অবাক করে।

ধান্যকুড়িয়ার গায়েন বাড়ি।  শুধু পুজোর সময় এই চত্বরে প্রবেশের ছাড়পত্র মেলে।

ধান্যকুড়িয়ার গায়েন বাড়ি। শুধু পুজোর সময় এই চত্বরে প্রবেশের ছাড়পত্র মেলে। — নিজস্ব চিত্র।

এখানেই গায়েন বাড়ি ও বল্লভ বাড়িতে নিয়ম মেনে দুর্গাপুজো হয়। আগের ঠাটবাট না থাকলেও, বর্তমান প্রজন্ম পরিবারের ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছেন। ঝাঁ চকচকে গায়েন বাড়ি দেখে লোকজন অবাক হতেই পারেন। সাজানো বাগান, তার মধ্যে দিয়ে রাস্তা। আসলে এই বাড়ি এখন জনপ্রিয় শুটিং স্পট। বাড়ি নয়, ঠিক যেন ইংরেজি এল অক্ষরের মতো বিশাল প্রাসাদ। গায়েন বাড়ির পুজো ১৮০ বছরের বেশি পুরনো। একচালার প্রতিমা। জানা যায়, পুজো শুরু করেছিলেন গোবিন্দচন্দ্র গায়েন। গায়েন বাড়ি থেকে কিছুটা গেলেই চোখে পড়বে সাদা রঙের বিশাল বল্লভ বাড়ি। বাড়ির ছাদে পুতুলমূর্তি। বল্লভ বাড়ি স্থানীয়দের কাছে ‘পুতুলবাড়ি’ নামেও পরিচিত। বিশাল বাড়িতে সাদা স্তম্ভগুলির মাথায় সবুজ রঙের কারুকাজ। ঠাকুরদালানে পুজোর আয়োজন হয়। একমাত্র দুর্গাপুজোতেই এই বাড়িতে বাইরের লোকজনের প্রবেশাধিকার থাকে।

কী ভাবে যাবেন?

কলকাতা থেকে নিউ টাউন বা বাগুইআটি হয়ে খড়িবাড়ির রাস্তায় গিয়ে টাকি রোড ধরুন। তার পর দেগঙ্গা, বেড়াচাঁপা, স্বরূপনগর বাজার পার হয়ে ধান্যকুড়িয়া। এই পথে ধান্যকুড়িয়ার দূরত্ব পড়ে ৫১ কিলোমিটারের মতো। আর ভিআইপি রোড, মধ্যমগ্রাম, বারাসত হয়ে টাকি রোড ধরলে গেলে দূরত্ব পড়ে ৫৬ কিলোমিটারের মতো। তবে যে পথেই যান, ধান্যকুড়িয়া পৌঁছোতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগবে। ট্রেনে যেতে হলে শিয়ালদহ থেকে হাসনাবাদ লোকাল ধরে নামুন কাঁকড়া মিরজানগর হল্ট স্টেশনে। এখান থেকে ধান্যকুড়িয়া যাওয়ার জন্য টোটো পেয়ে যাবেন।

জনাইয়ে মনোহরা খান, দেখুন বাড়ির পুজো

জনাইয়ে মিত্রবাড়ির দুর্গা প্রতিমা।

জনাইয়ে মিত্রবাড়ির দুর্গা প্রতিমা। —নিজস্ব চিত্র।

হুগলির চণ্ডীতলার জনাইয়ের নাম মনোহরার জন্য। এখানে এলে অবশ্যই সেই মিষ্টি চেখে দেখতে হবে। তবে এখানে ঠাকুর দেখতে আসার বড় সুবিধা এই যে জায়গাটির বিস্তৃতি খুব বেশি নয়। জনাই- বাকসায় অনেকগুলি পুজো একসঙ্গে হয়, তার মধ্যে কালীবাবুর বাড়ি, চৌধুরী বাড়ি, মিত্র বাড়ির পুজো বেশ পুরনো।

২৫০ বছরের পুরনো পুজোর সূচনা করেছিলেন কালীপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। এলাকায় তা ‘কালীবাবুর পুজো’ নামেই পরিচিত।মূল ফটক দিয়ে ঢুকলে সামনে উঠোন। উঠোনের চারপাশে বিশাল বাড়ি। সামনেই ঠাকুরদালানে একচালার দুর্গাপ্রতিমা। এই বাড়ির দ্বিতলে যাওয়ার অনুমতি নেই। মাঝেমধ্যে শুটিং হলেও, যত্নের অভাব স্পষ্ট।

জনাই এবং বাকসা জুড়ে যে সব পুজো হয়, তারই মধ্যে একটি চৌধুরী বাড়ির পুজো। দূর থেকে বাড়িটির উজ্জ্বল লাল রং চোখে পড়ে। ভিতরে ঠাকুরদালানে পুজোর আয়োজন। এই পরিবারের সদস্য অসিতবরণ চৌধুরী জানালেন, দিনক্ষণ সঠিক ভাবে না জানা থাকলেও এই পুজো অন্তত ৩০০ বছরের পুরনো। তাঁদের পূর্বপুরুষ রাজারাম চৌধুরী ছিলেন বর্ধমানের রাজার কর্মচারী। রাজপরিবার সূত্রেই বাকসায় ১৬ বিঘা নিষ্কর জমি পেয়েছিলেন তাঁরা। তার পরেই এখানে ধীরে ধীরে কলেবরে বেড়ে ওঠে চৌধুরী বাড়ি। পুজো শুরু হয়। পরিবারের কুলদেবতা রাধাগোবিন্দ। চৌধুরী পরিবারে দেবী দুর্গা দশভুজা নন, তিনি চতুর্ভুজা। সিংহের রং এখানে সাদা। এই পরিবারের দোল উৎসব খুব বড় করে হয়। জন্মাষ্টমীর পরের দিনই দুর্গাপুজোর খুঁটিপুজো হয়। সপ্তমীর দিন থেকে মা দুর্গার পাশে পরিবারের লক্ষ্মীপ্রতিমা এনে রাখা হয়। তিনিও পুজো পান। দুর্গাপুজোর সময় দুর্গার দু’পাশে রাখা হয় রাধা-কৃষ্ণের পারিবারিক বিগ্রহ।

জনাইয়ের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি মনোহরা।

জনাইয়ের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি মনোহরা। ছবি:সংগৃহীত।

ঘুরে নিন মিত্র বাড়ির পুজো। তেমন জৌলুস নেই। তবে ঠাকুরদালানে এখানে নিয়ম-নিষ্ঠায় পুজো হয় দুর্গার। পরিবারের অষ্টম প্রজন্মের প্রতিনিধি শক্তি মিত্রের কথায় জানা যায়, পুজো আনুমানিক ৪০০ বছরের পুরনো। পুজো শুরু করেছিলেন তাঁদেরই পূর্বপুরুষ পরশুরাম মিত্র। একচালায় দশভুজার পূজা হয়। আড়ম্বর না থাকলেও ঠাকুরদালানে পুরনো রীতি মেনেই পুজো হয়। সপ্তমী থেকে নবমী বলি হয়।

যেতে কত ক্ষণ সময় লাগবে?

কলকাতা থেকে জনাইয়ের দূরত্ব মোটামুটি ৩০ কিলোমিটার। কলকাতা থেকে হাওড়া ব্রিজ পার করে সালকিয়া, কোনা হয়ে ডানকুনি, চণ্ডীতলা হয়ে জনাই। চণ্ডীতলা থেকে জনাইয়ের রাস্তা কিছুটা সঙ্কীর্ণ। তার উপর পুজো। ফলে ওই সময় গাড়িতে যেতে ২ ঘণ্টার মতো সময় লাগবে। তবে জনাই-বাকসার বাড়ির পুজোগুলি দেখতে খুব বেশি সময় লাগবে না। হাওড়া থেকে কর্ড লাইনের ট্রেন ধরে জনাই স্টেশনে নেমে, টোটো ভাড়া করে পুজো ঘুরে নিতে পারেন।

আঁটপুরেও দুর্গাপুজো হয়, রয়েছে অজস্র মন্দির

আঁটপুরে প্রেমানন্দ ভবনে রামকৃষ্ণ মঠের পরিচালনায় দুর্গাপুজো হয়।

আঁটপুরে প্রেমানন্দ ভবনে রামকৃষ্ণ মঠের পরিচালনায় দুর্গাপুজো হয়। ছবি:সংগৃহীত।

হুগলির আঁটপুরের সঙ্গে জড়িয়ে স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতি। এখানে ছড়িয়ে রয়েছে অজস্র মন্দির। পুজোও হয় এখানে। তাই দিনভর ঘোরাঘুরির পরিকল্পনা থাকলে চলুন আঁটপুর। বিঘার পর বিঘা খেত, সবুজ প্রকৃতি মন ভরিয়ে দেবে।

আঁটপুরে একসময় ধুনি জ্বেলে শ্রীরামকৃষ্ণের নয় শিষ্য নরেন্দ্র, বাবুরাম, শরৎ, শশী, তারক, কালী, নিরঞ্জন, গঙ্গাধর এবং সারদা সঙ্কল্প করেছিলেন সংসারত্যাগের। সেই স্মৃতিচিহ্নবাহী ধুনি মণ্ডপের গায়ে স্বামী বিবেকানন্দ-সহ ন’জন সন্ন্যাসীর মূর্তি খোদাই করা রয়েছে।

এখানে এলে অবশ্যই ঘুরে নেবেন ‘প্রেমানন্দ ভবন’। বাবুরাম ঘোষের বসতবাড়ি এলাকা। ১৮৮৬ সালে যে ন’জন সংসারত্যাগের সঙ্কল্প করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন বাবুরাম ঘোষ, সন্ন্যাসগ্রহণের পরে যাঁর নাম হয় প্রেমানন্দ। বাড়িটি জীর্ণ হয়ে যাওয়ার পরে রামকৃষ্ণ মঠের উদ্যোগে সেটি সংস্কার করানো হয়। প্রেমানন্দ ভবনে রামকৃষ্ণ মঠের পরিচালনায় প্রতি বছর নিয়ম মেনে দুর্গাপুজো হয়। পুজোর সময় আঁটপুর বেড়াতে এলে গ্রামের এই দুর্গাপুজোও উপভোগ করতে পারবেন।

রাধাগোবিন্দ মন্দির-সহ আঁটপুরে টেরাকোটার কাজে একাধিক সুদৃশ্য মন্দির রয়েছে।

রাধাগোবিন্দ মন্দির-সহ আঁটপুরে টেরাকোটার কাজে একাধিক সুদৃশ্য মন্দির রয়েছে। ছবি:সংগৃহীত।

জনপদে ছড়িয়ে রয়েছে একাধিক পুরনো মন্দির। রাধাগোবিন্দ মন্দিরটি চমৎকার। ১৭৮৬-৮৭ সালে বর্ধমান রাজার দেওয়ান কৃষ্ণরাম মিত্র গঙ্গাজল, গঙ্গামাটি আর পোড়ামাটির ১০০ ফুট উচ্চতার রাধাগোবিন্দ মন্দির নির্মাণ করেন। চার খিলানের স্তম্ভ, টেরাকোটার কাজের দেওয়ালজোড়া অসংখ্য প্যানেলে পৌরাণিক ও সামাজিক চিত্রকথার অপরূপ আখ্যান দেখার মতো। মন্দিরের সামনে অষ্টকোণাকৃতি রাসমঞ্চ, গম্বুজ আকৃতির দোলমঞ্চ। রাস্তার অন্য পারে দিঘি। জলেশ্বর, রামেশ্বর, বানেশ্বর ও ফুলেশ্বর মন্দিরও ঘুরে নিতে পারেন। আঁটপুর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে রাজবলহাটের মৃন্ময়ীদেবী রাজবল্লভীর সুন্দর মন্দিরটি দেখে নিতে পারেন। এখানে চাষাবাদ হয় যথেষ্ট। গ্রামের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করে খেতেও ঘুরে আসতে পারেন। মাইলের পর মাইল আলপথ বেয়ে হাঁটা যায়। আঁটপুরে এখনও হাতে টানা তাঁত চলে। ঢুঁ মেরে নিন তাঁতাপাড়াতেও।

কী ভাবে যাবেন?

কলকাতা থেকে আঁটপুরের দূরত্ব ৫৫ কিলোমিটারের কাছাকাছি। যেতে আড়াই ঘণ্টা থেকে ৩ ঘণ্টার মতো সময় লাগবে। ডানকুনি, চণ্ডীতলা হয়ে শিয়াখালা, গজার মোড় পার করে যেতে হবে আঁটপুর। হাওড়া, ডোমজুড়, জগৎবল্লভপুর, জাঙ্গিপাড়া হয়েও আঁটপুর যাওয়া যায়। যাওয়ার পথেই রাস্তার দু’ধারে মাঝেমধ্যে দেখা দেবে সাদা কাশফুল। ট্রেনে আসতে গেলে তারকেশ্বর লোকাল ধরে হরিপাল স্টেশনে নামতে হবে। সেখান থেকে বাস বা অটো ভাড়া করে পৌঁছোতে হবে।

সংক্ষেপে
  • লক্ষ্মীপুজো যে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই হয় তা নয়, দেশের নানা প্রান্তে হয়, তবে পুজোর আচার ভিন্ন। মহারাষ্ট্রে তা লক্ষ্মী পূজন, গুজরাতে আবার চোপড়া পূজন। ওড়িশায় তা-ই গজলক্ষ্মীর আরাধনা। কোন রাজ্যে কেমন ভাবে লক্ষ্মী পুজো হয়?
  • উত্তমকুমার নিষ্ঠাভরে বাড়ির লক্ষ্মীপুজো করতেন। তাই এই পুজোর নামই হয়ে গিয়েছিল ‘উত্তমকুমারের বাড়ির পুজো’। এখনও এই পুজো এ ভাবেই পরিচিত। পুজোর ঐতিহ্য এবং রীতি নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে আড্ডা দিলেন উত্তম কুমারের ভাইঝি ও নাতনি।
  • সময় করে বসে পুজোর জন্য আলপনা দেওয়া এক প্রকার বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। শহরে তো বটেই, মফস্‌সলেও। ইদানীং সমাজমাধ্যমের রিলে হাতপাখা থেকে শুরু করে পুরনো শাড়ি, চায়ের টেবিল থেকে ডায়েরির মলাট কিংবা বসার ঘরের মেঝে, সর্বত্র আলপনা দিচ্ছেন হুজুগে মানুষজন।
Durga Puja travel

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy