Advertisement
E-Paper

চেনা পথের অচেনা গন্তব্য, পাহাড়, ঝর্না হাত ধরাধরি করে রয়েছে তিলাইটাঁড়ে, পুজোয় চলুন সেখানেই

পুজোর ছুটিতে সফরের জন্য ট্রেন, বাস, বিমানের টিকিট কাটা হয়নি? বেড়ানোর সঙ্গী হতে পারে চারচাকাই। আনন্দবাজার ডট কম-এ থাকছে সড়কপথে ভ্রমণের চেনা-অচেনা গন্তব্যের হদিস।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ অক্টোবর ২০২৬ ১১:০২
গাড়ি নিয়ে চলুন তিলাইটাঁড়। কোথায় সেই জায়গা, কী ভাবেই বা পুজোর সফর সাজাবেন?

গাড়ি নিয়ে চলুন তিলাইটাঁড়। কোথায় সেই জায়গা, কী ভাবেই বা পুজোর সফর সাজাবেন? ছবি:সংগৃহীত।

পুজোয় ছুটি লম্বা হোক বা ছোট, চারচাকায় সওয়ার হয়ে বেরিয়ে পড়ুন চেনা পথের অচেনা ঠিকানায়। গন্তব্য হোক তিলাইটাঁড়। যেখানে ঝর্না আর পাহাড় আছে হাত ধরাধরি করে। আছে পাহাড়ঘেরা জলাধার। কাছেপিঠে মিলবে ইতিহাসেরও খোঁজ।

এই জায়গা কলকাতা থেকে মোটেই খুব দূরে নয়। পুরুলিয়ার বুকে এ এক স্বল্পচেনা ঠিকানা।

শেষ কবে ভোর দেখেছেন, মনে পড়ে না? তবে কোনও একদিন কলকাতা থেকে বেরিয়ে পড়ুন কাকভোরে। আরামবাগ-বিষ্ণুপুর সড়ক বা দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে, যে কোনও পথই পৌঁছে দিতে পারে গন্তব্যে। দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে গেলে দূরত্ব কিছু বেশি পড়বে বটে, তবে সময় লাগবে কম। প্রথম বার থামতে পারেন শক্তিগড়ে। ল্যাংচা, মিহিদানার দোকানের সারি। তারই কোনওটিতে পেটপুজো সেরে নিতে পারেন।

কোমর, পায়ের আড় ভেঙে আবার পথচলা। জানলার কাচে চোখ রাখলেই কখনও হাতছানি দেবে খেত, কখনও কাশের বন। এই পথেই পড়বে পানাগড়। পানাগড় থেকে তিলাইটাঁড় সরাসরি না গিয়ে, মোটমুটি ১৮ কিলোমিটার দূরের রণডিহা জলাধারেও ঢুঁ মারতে পারেন। দামোদরের উপরে তৈরি ব্যারেজটি জনপ্রিয় পিকনিক স্পট। ঘণ্টাখানেকের বিরতি নিলে মন্দ লাগবে না।

সেখান থেকে আবার ধরুন তিলাইটাঁড়ের পথ। অযোধ্যা পাহাড়ের তলদেশের তিলাইটাঁড় গত কয়েক বছরে একটু একটু করে পরিচিতি পাচ্ছে। তাই প্রকৃতি এখানে এখনও নিষ্কলুষ। পাহাড়, জঙ্গল, ঝর্না, জলাধার মিলিয়ে তার সৌন্দর্য।

রণডিহা থেকে দুর্গাপুর এসে দুর্গাপুর ব্যারেজগামী রাস্তায় উঠে বড়জোড়া-শালতোড়া-রঘুনাথপুর হয়ে চলুন পুরুলিয়া। পুরুলিয়া থেকে চলুন তিলাইটাঁড়। ছোট ছোট পাহাড়, তার গা বেয়ে রাস্তা। এই পথের রূপ দেখে নিজস্বী তোলার জন্য বিরতি নিতে ইচ্ছা করবে না, তা হতেই পারে না।

তিলাইটাঁড়ে ঠিক পাহাড়ের কোলটিতে রয়েছে একটি ইকো রিসর্ট। তিলাইটাঁড়ে জঙ্গলের মধ্যে হাঁটাপথে পৌঁছোনো যায় ঝর্নায়। বৃষ্টি এ বার যেহেতু বেশ ভালই হয়েছে, ঝর্নাতেও জল পাবেন যথেষ্ট। ঝর্না দেখে গাড়ি করে চলুন জলাধারে। তিলাইটাঁড় জলাধারটি পাহাড়ঘেরা। স্থানীয় গ্রামবাসী ছাড়া কেউ এই পথে বিশেষ যাতায়াত করেন না। কখনও কখনও উৎসাহী কয়েক জন পর্যটক চলে আসেন।

পুরুলিয়ার পাহাড় ঘেরা তিলাইটাঁড় জলাধার।

পুরুলিয়ার পাহাড় ঘেরা তিলাইটাঁড় জলাধার। ছবি:সংগৃহীত।

তিলাইটাঁড়ের ইকো রিসর্টে থাকতে পারলে, দুপুরে পৌঁছে জিরিয়ে নিন। যদি পৌঁছোতে বিকাল হয়ে যায়, ঝর্না এবং জলাধার ঘোরার জন্য বরাদ্দ করুন পরের দিনটি। যদি ইকো রিসর্টে থাকতে না চান বা জায়গা না মেলে, চলে যেতে পারেন অযোধ্যা পাহাড়ের কোনও হোটেলে। পুজোর সময় থাকার জায়গা নিয়ে অসুবিধা হলে পুরুলিয়া শহরেও থেকে যেতে পারেন।

পুরুলিয়া বললেই অযোধ্যা পাহাড়ের রূপ ভেসে ওঠে। চাইলে অযোধ্যা পাহাড়, ছৌ মুখোশের জন্য খ্যাত চড়িদা গ্রাম, বামনি ঝর্না, মার্বেল লেক দেখে নিতে পারেন। দ্বিতীয় দিনটি রাখতে হবে অযোধ্যা পাহাড় সংলগ্ন স্থানগুলি ঘুরে দেখার জন্য।

ঘুরে নিতে পারেন মার্বেল লেক।

ঘুরে নিতে পারেন মার্বেল লেক। ছবি:সংগৃহীত।

আবার সফরসূচি সাজাতে পারেন অন্য ভাবেও। দ্বিতীয় দিনে তিলাইটাঁড় থেকে যেতে পারেন তেলকুপি। দূরত্ব ৭০ কিলোমিটারের মতো। পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর ২ নম্বর ব্লকের গ্রাম চেলিয়ামা থেকে কমবেশি সাত-আট কিলোমিটার দূরে তার অবস্থান।

তেলকুপির দেউলগুলির অনেকটা অংশই জলে ডুবে থাকে।

তেলকুপির দেউলগুলির অনেকটা অংশই জলে ডুবে থাকে। ছবি:সংগৃহীত।

তেলকুপিতে রয়েছে জৈন মন্দির বা প্রাচীন দেউল। ভাবছেন, দেউল দেখার কী এমন আছে? তেলকুপির বিষয়টি আলাদা। দেউল দেখতে যেতে হবে জলপথে। মাত্র তিনটি দেউলই অবশিষ্ট রয়েছে। তবে সেগুলিও থাকে জলের তলায়। দু’টিকে বছরের প্রায় সব সময়ে দেখা গেলেও একটি শুধুমাত্র গরমকালে দামোদরের জল কমলে দেখা যায়। বাংলায় যে একসময় জৈন ধর্ম প্রচলিত হয়েছিল, এই দেউলগুলি সেই সাক্ষ্যই বহন করে। বহু পুরনো এই দেউলগুলি অযত্নে, সময়ের গ্রাসে নষ্ট হতে বসেছে।

তেলকুপি থেকে প্রায় ৩০ মিনিটে পৌঁছে যান জয়চণ্ডী পাহাড়ে। সত্যজিৎ রায়ের ‘হীরক রাজার দেশে’ ছবির শুটিং হয়েছিল এখানে। পাহাড় চড়ার জন্য সিঁড়ি রয়েছে। দ্বিতীয় দিনটি থেকে যেতে পারেন জয়চণ্ডী পাহাড় সংলগ্ন কোনও হোটেল বা রিসর্টে।

ঘুরে নিতে পারেন জয়চণ্ডী পাহাড়।

ঘুরে নিতে পারেন জয়চণ্ডী পাহাড়। ছবি:সংগৃহীত।

তৃতীয় দিন চলুন গড়পঞ্চকোট। জয়চণ্ডী পাহাড় থেকে গড়পঞ্চকোটের দূরত্ব মাত্র ২০ কিলোমিটার। পর্যটন মানচিত্রে এখন বেশ জনপ্রিয় নিতুড়িয়ার গড়পঞ্চকোট পঞ্চকোট রাজত্বের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। গড় বলতে এখন শুধুই ভেঙে পড়া দেওয়াল। গজিয়ে উঠেছে বট, অশ্বত্থ গাছ। পর্যটকদের কাছে ইতিহাস ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মেলবন্ধন হিসাবে এই এলাকার পরিচিতি। এখানে রয়েছে মন্দির, ভাঙা গড়। কাছেই পাঞ্চেত জলাধার। চাইলে তৃতীয় রাত গড়পঞ্চকোটে থেকে যেতে পারেন। তবে যদি পুজোয় থাকার জায়গার অভাব হয়, চলে আসতে পারেন মাইথন বা আসানসোল। এখানে একাধিক হোটেল বা রিসর্ট রয়েছে।

সবুজ পাহাড়ের কোলে পঞ্চরত্ন মন্দির।

সবুজ পাহাড়ের কোলে পঞ্চরত্ন মন্দির।

চতুর্থ দিন মাইথন জলাধার এবং কল্যাণেশ্বরী মন্দির ঘুরে কলকাতায় ফেরার পথ ধরুন। আসানসোল থেকে কলকাতার থেকে দূরত্ব ২১০-২২০ কিলোমিটারের মতো।

কোথায় থাকবেন?

তিলাইটাঁড়ে থাকার একটি জায়গা রয়েছে। তবে পুরুলিয়া শহরে, অযোধ্যা পাহাড়ে একাধিক হোটেল, রিসর্ট মিলবে। জয়চণ্ডী পাহাড়েও রিসর্ট রয়েছে। পুজোর সময় আগাম বুকিং না থাকলে, থাকার জায়গা নিয়ে খানিক অসুবিধা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে একটু খোঁজ করলে আশপাশে থাকার মতো হোটেল মিলতে পারে। পাঞ্চেত, মাইথন, আসানসোল— সব জায়গাতেই হোটেল পাওয়া যাবে।

কী ভাবে যাবেন?

দুর্গাপর এক্সপ্রেসওয়ে, দুর্গাপুর ব্যারেজ দিয়ে গেলে কলকাতা থেকে তিলাইটাঁড়ের দূরত্ব ৩৩০ কিলোমিটারের মতো। তবে আরামবাগ-বিষ্ণুপুর-বাঁকুড়া হয়ে গেলে দূরত্ব ৫০ কিলোমিটার মতো কম পড়ে। তবে এই রাস্তায় গেলে সময় বেশি লাগতে পারে। যা-ই হোক, টানা গেলে তিলাইটাঁড় যেতে সাড়ে ৭ ঘণ্টার মতো সময় লাগবে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিরতি নিয়ে, একটু-আধটু ঘুরে গেলে, সময় আরও বেশি লাগে

সংক্ষেপে
  • লক্ষ্মীপুজো যে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই হয় তা নয়, দেশের নানা প্রান্তে হয়, তবে পুজোর আচার ভিন্ন। মহারাষ্ট্রে তা লক্ষ্মী পূজন, গুজরাতে আবার চোপড়া পূজন। ওড়িশায় তা-ই গজলক্ষ্মীর আরাধনা। কোন রাজ্যে কেমন ভাবে লক্ষ্মী পুজো হয়?
  • উত্তমকুমার নিষ্ঠাভরে বাড়ির লক্ষ্মীপুজো করতেন। তাই এই পুজোর নামই হয়ে গিয়েছিল ‘উত্তমকুমারের বাড়ির পুজো’। এখনও এই পুজো এ ভাবেই পরিচিত। পুজোর ঐতিহ্য এবং রীতি নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে আড্ডা দিলেন উত্তম কুমারের ভাইঝি ও নাতনি।
  • সময় করে বসে পুজোর জন্য আলপনা দেওয়া এক প্রকার বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। শহরে তো বটেই, মফস্‌সলেও। ইদানীং সমাজমাধ্যমের রিলে হাতপাখা থেকে শুরু করে পুরনো শাড়ি, চায়ের টেবিল থেকে ডায়েরির মলাট কিংবা বসার ঘরের মেঝে, সর্বত্র আলপনা দিচ্ছেন হুজুগে মানুষজন।
Road Trip Offbeat Purulia

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy