পুজোর ছুটিতে সফরের জন্য ট্রেন, বাস, বিমানের টিকিট কাটা হয়নি? বেড়ানোর সঙ্গী হতে পারে চারচাকাই। আনন্দবাজার ডট কম-এ থাকছে সড়কপথে ভ্রমণের চেনা-অচেনা গন্তব্যের হদিস।
শরতের আকাশ, কাশের দোলা জানান দেয় ‘দুগ্গা এল বলে।’ পুজো মানে কারও কাছে যেমন মণ্ডপ ঘুরে ঠাকুর দেখা, কারও কাছে তেমনই চেনা শহর ছেড়ে বেরিয়ে পড়া। অক্টোবরের মরসুমে না থাকে বর্ষা, না থাকে প্রবল গরম। শরৎকাল তাই বেড়ানোর জন্য আদর্শ। তার উপর দুর্গাপুজোর টানা ছুটি অন্য সময় কোথায় মিলবে?
এ দিকে পুজো মানেই ঠাঁই নাই। চেনা থেকে অচেনা গন্তব্যে থাকার জায়গা থেকে ট্রেনের টিকিট বুকিং হয়ে যায় আগেভাগেই। শেষ মুহূর্তে কী ভাবে সফর সাজাবেন, কোথায় যাবেন ভেবে পাচ্ছেন না? ঘুরে নিন পশ্চিম ওড়িশার জনপ্রিয় স্থান সম্বলপুর।
টিলা, জলাধার, মন্দির, অভয়ারণ্য— সবই মিলবে স্বল্পদূরত্বে। চারচাকা নিয়ে কলকাতা থেকে বেরিয়ে পড়লে দিন চার-পাঁচেকে সুন্দর সফর হতে পারে। কোন পথে ধরে কী ভাবে যাবেন, কোথায় থামতে পারেন, দেখবেনই বা কী রইল তারই হদিস।
কলকাতা থেকে সম্বলপুরের দূরত্ব সড়কপথে ৫৬০ কিলোমিটারের মতো। ৪৯ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে সফর করলে এই দূরত্ব পড়বে। অন্য রাস্তা ধরে গেলে দূরত্ব বেশ কিছুটা বেশি পড়বে। সম্বলপুর টানা গেলে ১২-১৩ ঘণ্টা সময় লেগে যাওয়ার কথা। তাই রাত্রিবাসের জন্য বেছে নিতে পারেন ওড়িশার আর একটি সুন্দর স্থান কেন্দুঝর (বাঙালির কাছে যার পরিচিতি কেনওঝর নামে)।
যদি কলকাতা থেকে রাতেই সফর শুরু করতে পারেন, তা হলে কেন্দুঝরে বিশ্রাম এবং ঘোরার জন্য বাড়তি সময় মিলবে। না হলে ভোর থাকতেই বেরিয়ে পড়ুন। রাস্তায় লম্বা সময় বিরতির জন্য না থামলে মোটামুটি বিকেলের আগেই পৌঁছে যাওয়ার কথা কেন্দুঝরে। ইচ্ছা হলে সে দিনই ঘুরে নিন সানঘাগরা জলপ্রপাত। কেন্দুঝর শহর থেকে মোটামুটি ৬ কিলোমিটার দূর রয়েছে সেটি। সন্ধ্যায় দর্শন করে নিন জগন্নাথ মন্দির। মন্দিরের স্থাপত্য ও নিরালা পরিবেশ মন ভরিয়ে দেবে।
সমলেশ্বরী মন্দির ঘুরে নিন সন্ধ্যায়। ছবি:সংগৃহীত।
পরের দিন সক্কালেই বেরিয়ে পড়ুন। চলুন ৪৯ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে। ২০ কিলোমিটার মতো গিয়ে বাঁ দিকের রাস্তা ধরে পৌঁছে যান গোনাসিকা, বৈতরণী নদীর উৎসস্থলে। কেন্দুঝর থেকে মোটামুটি ৩১ কিলোমিটার দূরে এই জায়গা। এখানে বৈতরণী নদী পাহাড়ের যেখান থেকে বেরিয়ে আসছে, দেখে মনে হবে গরুর নাক। তাই জায়গার নাম গোনাসিকা। দেখে নিন ব্রহ্মেশ্বর মহেশ মন্দির। তথাকথিত ট্যুরিস্টদের খুব একটা পা পড়ে না এই গোনাসিকায়। জায়গাটির নিরিবিলি পাহাড়ি পরিবেশ মন মজাবে। ফিরে আসুন জাতীয় সড়কে, গাড়ি ছুটুক সম্বলপুরের উদ্দেশে। খানিকটা এগোলেই পড়বে কাঞ্জিপানি ঘাটি। পাহাড়ি পথের সৌন্দর্য মনোরম। আরও খানিক এগোলে পড়বে দেওগড়। জাতীয় সড়ক থেকে ৩-৪ কিলোমিটার ভিতরে গেলেই প্রধানপত ঝর্না। জঙ্গলঘেরা পাহাড়ের উপর থেকে নেমে আসছে জলধারা। নির্জন এবং সুন্দর এই স্থান। এখানে কিছুক্ষণ জিরিয়ে নিন, ছবি তুলুন, প্রকৃতি উপভোগ করুন।
প্রধানপত জলপ্রপাত। ছবি:সংগৃহীত।
দেওগড় থেকে সম্বলপুরের দূরত্ব প্রায় ৯১ কিলোমিটার। পশ্চিম ওড়িশার বাণিজ্যিক শহর সম্বলপুর। অনেকে বলেন, সমলেশ্বরী দেবীর নাম থেকেই জনপদের নামকরণ। বিকালের মধ্যে সম্বলপুরে পৌঁছে গেলে বিশ্রাম নিয়ে সন্ধ্যায় ঘুরে নিতে পারেন সমলেশ্বরী মন্দির। ১৬ শতকে চৌহান বংশের রাজা বলরাম দেও সমলেশ্বরী দেবীর মন্দির তৈরি করেন। ত্রিনয়নী দেবী আসলে দুর্গার রূপ। সন্ধ্যায় এখানে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো শুরু হয়েছে। শহর এবং মন্দিরের প্রাচীন ইতিহাসের কথা এখানে তুলে ধরা হয়।
সম্বলপুরের অন্যতম আকর্ষণই হল হীরাকুদ জলাধার, শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে। মহানদীর উপর তৈরি বিশ্বের দীর্ঘতম মাটির বাঁধ রয়েছে এখানে। তৃতীয় দিন ভোরের দিকে বেরিয়ে পড়ুন হীরাকুদ জলাধার দেখতে। চড়া রোদ ওঠার আগেই পৌঁছে যেতে পারলে ভাল লাগবে। এই জলাধার সুবিশাল, সম্বলপুর শহরের অনেকটা অংশ ঘিরে রেখেছে। মহানদীর উপর সুদীর্ঘ বাঁধের দুই প্রান্তে গান্ধী এবং জওহর মিনার। পাশেই রয়েছে জওহর পার্ক। রয়েছে রোপওয়ে। গাড়ি নিয়ে গান্ধী মিনারের গেট পর্যন্ত পৌঁছোনো যায়। জওহর মিনারের উপর থেকে হীরাকুদ জলাধারটি খুব সুন্দর দেখায়। এখানে বোটিংয়ের ব্যবস্থাও আছে।
হীরাকুদ জলাধার সম্বলপুরের অন্যতম আকর্ষণ। ছবি:সংগৃহীত।
হীরাকুদ ঘুরে চলুন ডেবরিগড় অভয়ারণ্য, দূরত্ব ৪০ কিলোমিটার। এখানে ইকো ক্যাম্পে থাকার ব্যবস্থা আছে। বাইসন, সম্বর, হরিণ-সহ অসংখ্য বন্যপ্রাণীর বাস এখানে। সকাল সোয়া ৬টা, ৯টা, পৌনে ১২টা এবং পৌনে ৩টে থেকে জঙ্গল সাফারি হয়। জঙ্গল সাফারির বুকিং আগাম করে রাখলে ভাল হয়। কারণ ‘অন দ্য স্পট’ ব্যবস্থা থাকলেও সাফারি-গাড়ি পাওয়ার কোনও নিশ্চয়তা নেই। জিরো পয়েন্ট থেকে সাফারি হয়। ওড়িশা পর্যটন দফতরের ইকো ক্যাম্পটি একেবারে হীরাকুদ জলাধারের ধারেই। অপূর্ব পরিবেশ। একটি রাত এখানে থেকে ভোরের সাফারি করে পরের দিন ফিরুন সম্বলপুরে।
ডেবরিগড় অভয়ারণ্য। ছবি:সংগৃহীত।
চতুর্থ দিনে ডেবরিগড় থেকে বেরিয়ে চলুন বরগড়ের কাছে বেহেরা গ্রামে। সম্বলপুরি শাড়ি তৈরি দেখে নিন তাঁতিপাড়ায়। কেনাকাটাও করতে পারেন। ওই দিন সম্বলপুরে ফিরে ঘুরে নিন ঘণ্টেশ্বরী মন্দির, চিপলিমা জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র, হুমার হেলানো মন্দির। ঘণ্টেশ্বরী মন্দিরে মনস্কামনা পূরণে ঘণ্টা বাঁধেন ভক্তরা। হুমা শৈবতীর্থ। মূল মন্দিরটি বিমলেশ্বরের। চৌহান বংশের রাজা বলীয়র সিংহ মন্দির তৈরি করিয়েছিলেন। প্রাঙ্গণের একাধিক মন্দিরই এখানে হেলানো।
পঞ্চম দিনে সম্বলপুর থেকে কলকাতার উদ্দেশে যাত্রা করুন।
কোথায় থাকবেন?
সম্বলপুরের নানা স্থানে সরকারি, বেসরকারি অতিথি নিবাস, হোটেল রয়েছে। ডেবরিগড়ে রয়েছে ওড়িশা ইকো ট্যুরিজ়মের নেচার ক্যাম্প। সম্বলপুরে ওড়িশা সরকারের পান্থনিবাসও রয়েছে।
কী ভাবে যাবেন?
কলকাতা থেকে সম্বলপুর যাওয়ার একাধিক রাস্তা থাকলেও সবচেয়ে পরিচিত রাস্তা ১৬ নম্বর এবং ৪৯ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে, খড়গপুর-বহরাগোড়া-কেন্দুঝর-দেওগড় হয়ে। দূরত্ব ৫৬০ কিলোমিটার মতো।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- লক্ষ্মীপুজো যে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই হয় তা নয়, দেশের নানা প্রান্তে হয়, তবে পুজোর আচার ভিন্ন। মহারাষ্ট্রে তা লক্ষ্মী পূজন, গুজরাতে আবার চোপড়া পূজন। ওড়িশায় তা-ই গজলক্ষ্মীর আরাধনা। কোন রাজ্যে কেমন ভাবে লক্ষ্মী পুজো হয়?
- উত্তমকুমার নিষ্ঠাভরে বাড়ির লক্ষ্মীপুজো করতেন। তাই এই পুজোর নামই হয়ে গিয়েছিল ‘উত্তমকুমারের বাড়ির পুজো’। এখনও এই পুজো এ ভাবেই পরিচিত। পুজোর ঐতিহ্য এবং রীতি নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে আড্ডা দিলেন উত্তম কুমারের ভাইঝি ও নাতনি।
- সময় করে বসে পুজোর জন্য আলপনা দেওয়া এক প্রকার বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। শহরে তো বটেই, মফস্সলেও। ইদানীং সমাজমাধ্যমের রিলে হাতপাখা থেকে শুরু করে পুরনো শাড়ি, চায়ের টেবিল থেকে ডায়েরির মলাট কিংবা বসার ঘরের মেঝে, সর্বত্র আলপনা দিচ্ছেন হুজুগে মানুষজন।
-
শতবর্ষপ্রাচীন প্রতিমার পুজোর ভোগে ১০ রকমের খাবার! দেবাদৃতার ঘরোয়া লক্ষ্মীপুজো ঠিক কেমন হল
-
ঘরোয়া ভাবে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে এ বার লক্ষ্মীপুজো শ্রীলেখার! দেবীর কাছে কোন বিশেষ প্রার্থনা করবেন তিনি?
-
‘মায়ের পছন্দ না হলে আমার হাত দিয়ে অন্য কিছু করান,’ অপরাজিতার বাড়ির লক্ষ্মীপুজোয় এ বার কী কী আয়োজন?
-
কেন জোড়া ইলিশ দেওয়া হয় লক্ষ্মীপুজোয়? তেল-মশলা ছাড়াই বানানো হয় ভোগপ্রসাদ, রন্ধনের নিয়মও আলাদা
-
লক্ষ্মীলাভে কেন পিছিয়ে বাংলা ছবি, কোন পথে আসবে সমৃদ্ধি? কী বলছেন প্রযোজক-পরিচালক-অভিনেতারা