বার্ষিক ২ কোটি টাকা, বিনামূল্যে ভিসা এবং চাকরির প্রস্তাব! পাকিস্তানের তরফে ভারতীয় শিক্ষার্থীর জন্য আসা এমন এক প্রস্তাব নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপে মাতলেন নেটাগরিকেরা। কিন্তু কেন? ২১ বছর বয়সি ওই ভারতীয় ছাত্রের পোস্ট সমাজমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। পড়ুয়া দাবি করেছেন, তিনি পাকিস্তানের করাচির একটি সংস্থা থেকে মোটা বেতনের চাকরির প্রস্তাব পেয়েছেন। এই বেতনের অঙ্ক মোটেও সামান্য নয়। বছরে ১.৫ কোটি থেকে ২ কোটি টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে তাঁকে। সঙ্গে বিনামূল্যে ভিসাও দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:
পুরো বিষয়টি ঘটেছে আদিত্য নামের এক ভারতীয় ছাত্রকে কেন্দ্র করে। সমাজমাধ্যমে তিনি অস্বাভাবিক এবং চমকপ্রদ চাকরির প্রস্তাবের স্ক্রিনশট শেয়ার করার সঙ্গে সঙ্গে অবাক হয়ে যান নেটাগরিকেরা। পোস্টটি ঘিরে এখন হাস্যরস, মিম এবং সতর্কতামূলক পরামর্শের জোয়ার উঠেছে। আদিত্য এক্সে চাকরির প্রস্তাব সংক্রান্ত কিছু স্ক্রিনশটও শেয়ার করেন। তাতে দেখা গিয়েছে, পাকিস্তানের এক নিয়োগকারী হোয়াট্সঅ্যাপের মাধ্যমে আদিত্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাঁকে জানানো হয়, সংস্থাটির সদর দফতর পাকিস্তানের করাচিতে হলেও দলের অধিকাংশ সদস্য ব্রিটেনের সময়সূচি অনুযায়ী কাজ করেন। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হল, চাকরির জন্য তাঁকে করাচিতে যেতে বলা হয়েছিল এবং ভিসা স্পনসরশিপের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। বার্ষিক ২ কোটি টাকা বেতন এবং ভিসার প্রলোভনের বিষয়টি দেখে নেটাগরিকদের অনেকেই বিষয়টিকে বড় ধরনের প্রতারণা বা স্ক্যাম বলে সন্দেহ করছেন।
লোভনীয় প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে আদিত্য তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘‘আমি এই মাত্র করাচির একটি সংস্থা থেকে ‘অন-সাইট’ (সশরীরে উপস্থিত হয়ে কাজ করার) চাকরির প্রস্তাব পেলাম। এর মূল বেতন ১,৮০,০০০ থেকে ২,২০,০০০ ডলারের মধ্যে। সঙ্গে ভিসার সুবিধা। আমার কি সেখানে যাওয়া উচিত?’’ পোস্টটি দ্রুত ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যায়।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল পোস্টটি ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। পোস্টটি দেখে নেটাগরিকদের অনেকে যেমন মজার মজার মন্তব্য করেছেন, তেমনই আবার বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকে। তবে নেটাগরিকদের একাংশ চাকরির প্রস্তাবের সত্যতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করছেন। বিশেষজ্ঞ এবং সচেতন ব্যবহারকারীদের মতে, এটি কোনও বড় ধরনের প্রতারণাচক্র হতে পারে। প্রতারকেরা প্রায়ই মোটা বেতন এবং বিদেশে কাজের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেকার তরুণদের প্রলুব্ধ করে থাকে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, আদিত্য হয়তো কেবল সমাজমাধ্যমে লাইক এবং কমেন্ট পাওয়ার জন্যই ওই পোস্ট করেছেন।
আরও পড়ুন:
পোস্টটির কমেন্ট সেকশনে মানুষ নানা রকম মজার মিমও শেয়ার করছেন এবং আদিত্যকে নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করছেন। এক নেটাগরিক মজা করে লিখেছেন, ‘‘ভাই, আপনি সেখানে যেতে তো পারেন, কিন্তু ফিরে আসার জন্য আপনার আলাদা কোনও ভিসার নয়, বরং প্রার্থনার প্রয়োজন হবে।’’ অন্য এক জন করেছেন, ‘‘পাকিস্তানের নিজেদেরই ভাঁড়ে মা ভবানী। আপনাকে কী ভাবে এত টাকা দেবে? এটি নিশ্চিত ভাবেই একটি প্রতারণাচক্রের কাজ।’’ তৃতীয় এক নেটাগরিক আবার মন্তব্য করেছেন, ‘‘ভাই, করাচি যাওয়ার কথা চিন্তাও করবেন না। এটিকে কোনও চাকরির প্রস্তাব বলে মনে হচ্ছে না। বরং এটি অপহরণের একটি আগাম পরিকল্পনা।’’