Advertisement
E-Paper

প্লেটে পড়ে থাকা ভাত, মাংসের টুকরো রাতে পেট ভরাত রেস্তরাঁকর্মীর, উচ্ছিষ্টের চরম ‘দাম’ দিলেন তরুণী

কাজের চাপ আর অর্থের অভাবে জুটত না রাতের খাবার। তাই, এক অভিনব বিকল্প রপ্ত করেছিলেন তরুণী। ভাবেননি, এ ভাবে দিতে হবে তার মূল্য।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২৬ ১৯:৪১

ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।

বেঁচে যাওয়া খাবার বাড়িতে নিয়ে যেতেন রেস্তরাঁকর্মী। শুধু সেই ‘অপরাধে’ই ১৮ বছরের এক তরুণীকে হারাতে হল তাঁর আংশিক সময়ের চাকরি। তরুণী তাঁর নৈশভোজের ব্যবস্থা করতে রেস্তরাঁর গ্রাহকদের পাতে বেঁচে যাওয়া খাবার বাড়িতে নিয়ে যেতেন। অভিযোগ, এ কথা জানার পর রেস্তরাঁর ম্যানেজার তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন। রেডিট পোস্টে এমনটাই জানিয়েছেন ওই তরুণী।

পোস্টে তরুণী লিখেছেন, খাবারের খরচ চালাতে তাঁকে যথেষ্ট সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল। এমনকি, রেস্তরাঁর কর্মীদের জন্য বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থাও ছিল না। গ্রাহকদের জন্য রেস্তরাঁ বন্ধ হওয়ার পরেই তাঁর কাজ শুরু হত। পোস্টদাতা তরুণীর কাজ ছিল, রান্নার সরঞ্জাম ধোয়া এবং মেঝে পরিষ্কার করা। সেই কাজ করতে গিয়ে তিনি লক্ষ করেন, অনেক গ্রাহকেরই, যাঁদের অধিকাংশই ছাত্রছাত্রী, তাঁদের প্লেটে প্রচুর পরিমাণে খাবার পড়ে রয়েছে। তিনি জানান, কিছু প্লেটে পড়ে থাকা মাংসের টুকরোয় মাত্র একটি কামড় দেওয়া থাকত। আবার কিছু প্লেটে পুরো ভাতই পড়ে থাকত। অন্য দিকে, খাবারের খরচ জোগাতে তাঁকে যথেষ্ট সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল। তাই, ওই খাবার নষ্ট না করে, নিজের রাতের খাবার হিসেবে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এ ভাবেই প্লেটে পড়ে থাকা পরিষ্কার ও স্পর্শ না করা খাবার বাড়িতে নিয়ে যেতে শুরু করেন তরুণী। অন্য কর্মচারীরা এ ব্যাপারে তাঁকে সতর্কও করেননি বলে দাবি তাঁর।

ওই তরুণী জানান, এক রাতে কাজের শিফ্‌ট শেষ হওয়ার পর ম্যানেজার তাঁর হাতে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ দেখে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তখন তিনি স্পষ্ট জানান, বেঁচে যাওয়া খাবার বাড়িতে খাওয়ার জন্য নিয়ে যাচ্ছেন। পোস্টে তরুণীর দাবি, ম্যানেজার তাঁকে সতর্ক করে বলেন, ওই খাবার খেলে, তাঁর খাবার থেকে বিষক্রিয়া হতে পারে। জবাবে তরুণী জানান, বেশ কয়েক দিন ধরেই তিনি এ ভাবে খাবার বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন এবং এখনও পর্যন্ত অসুস্থ হননি। কিন্তু, তাঁর এই উত্তরে ম্যানেজার শান্ত হওয়ার পরিবর্তে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

ম্যানেজার কড়া ভাবে ভর্ৎসনা করে তাঁকে জানান, গ্রাহকদের ফেলে যাওয়া খাবার খাওয়া রেস্তরাঁর স্বাস্থ্যবিধি নীতির পরিপন্থী। এর ফলে, প্রতিষ্ঠানটি আইনি জটিলতাতেও পড়তে পারে। তরুণী তাঁর ভুলের জন্য ক্ষমা চান এবং ম্যানেজারকে তাঁর আর্থিক দুরবস্থার কথাও জানান। কিন্তু, তাতে ম্যানেজারের মন গলা তো দূরস্থান, বিষয়টিকে তিনি গুরুতর নিয়মভঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করেন। এর পর তরুণীর হাত থেকে খাবারের ব্যাগটি ছিনিয়ে নেন। পাশাপাশি, যাতে তিনি ঠিক মতো খাবার কিনে খেতে পারেন, তার জন্য কিছু টাকাও দেন। এর পর তাঁর পাওনা মজুরি মিটিয়ে দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁকে আর কাজে যোগ দিতে হবে না।

পোস্টটি ভাইরাল হতেই বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া জমা পড়েছে মন্তব্য বিভাগে। খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ম্যানেজারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন রেডিট ব্যবহারকারীদের একাংশ। আবার, কেউ কেউ বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন।

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy