র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের জওয়ানদের উদ্দেশে অপমানজনক মন্তব্য করে ভিডিয়ো করেছিলেন এক নেটপ্রভাবী। ভিডিয়োটি ভাইরাল হতেই বিপুল সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তরুণীকে। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হতেই ভুল বুঝতে পেরে সমাজমাধ্যমে ক্ষমা চেয়ে ভিডিয়ো প্রকাশ করেন ইনস্টাগ্রামের ওই নেটপ্রভাবী। তার ক্ষমা চাওয়ার ভিডিয়োটিও ভাইরাল হয়েছে সমাজমাধ্যমে। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
বিতর্কের সূত্রপাত তরুণীর সেই ভিডিয়ো ঘিরে, যেখানে তিনি নীল ইউনিফর্ম পরা ভারতীয় জওয়ানকে লক্ষ্য করে কৌতুকমিশ্রিত বাক্য ব্যবহার করেছিলেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে ওই নেটপ্রভাবীর নাম শ্রদ্ধা সিংহ। ভিডিয়ো ক্লিপটিতে দেখা গিয়েছে লাল রঙের একটি টপ ও ডেনিম পরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন শ্রদ্ধা। পাশে বসে রয়েছেন র্যাফের উর্দিদারী এক জওয়ান। শ্রদ্ধা সেই নীল উর্দিপরিহিত জওয়ানকে নীল রঙের বাথরুম ক্লিনারের সঙ্গে তুলনা করেন। চোগা_ডন নামের একটি এক্স হ্যান্ডল থেকে ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আসার পর মুহূর্তেই বিভিন্ন সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হয়ে যায়। শ্রদ্ধার এই মন্তব্যকে উর্দিধারী কর্মীদের প্রতি অবমাননাকর ও অসম্মানজনক বলে মনে করেন অনেকেই। বহু নেটমাধ্যম ব্যবহারকারী এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। অনেকেই এই মন্তব্যকে অনভিপ্রেত বলে উল্লেখ করে শ্রদ্ধার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
শ্রদ্ধা দ্বিতীয় ভিডিয়োয় দাবি করেছেন, ক্লিপটি পোস্ট করার পর পরই তিনি ভুলটি বুঝতে পারেন এবং এক ঘণ্টার মধ্যে তা সরিয়ে ফেলেন। কিন্তু তত ক্ষণে বেশ কয়েক জন নেটমাধ্যম ব্যবহারকারী ও মিম পেজ ভিডিয়োটি ডাউনলোড করে পুনরায় পোস্ট করে ফেলেছিলেন। Sর ফলে এটি ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সমালোচনা বাড়তে থাকায়, শ্রদ্ধা তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে ক্ষমা চেয়ে দু’টি ভিডিয়ো আপলোড করেন। ক্লিপগুলোর একটিতে তিনি দাবি করেন, টাকার জন্য মিম পেজগুলো তাঁর ভিডিয়ো শেয়ার করছে। নেটমাধ্যম ব্যবহারকারীদের তিনি গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া বন্ধ করার জন্য আবেদন করে বলেন, “আমি এত বড় ভুল করিনি যে আপনারা আমাকে ও আমার পরিবারকে গালিগালাজ করবেন।”
আরও পড়ুন:
তাঁর ক্ষমা চাওয়ার ভিডিয়োটি নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়েছে। শ্রদ্ধার সাফাই ও যুক্তি মানতে চাননি অনেকেই। কোনও কোনও নেটাগরিকের মতে ভুল করে সবাই একই অজুহাত দেয়। এঁরা সব সময় দাবি করেন, অন্যেরা বিষয়টি বাড়িয়ে বলছেন, এবং এটা তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল না ইত্যাদি। নেটাগরিকদের দাবি, যাঁরা এই ধরনের ভিডিয়ো পোস্ট করেন তাদের উদ্দেশ্যই হল ভাইরাল হওয়া। তা হলে ভাইরাল হলে কান্নাকাটি করছেন কেন বলে প্রশ্ন তুলেছেন নেটাগরিকদের একাংশ। এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘এঁদের লজ্জিত ও শাস্তি দেওয়া উচিত। কোনও ক্ষমা নয়।’’ আবার এক নেটাগরিক নেটপ্রভাবী শ্রদ্ধার পাশে দাঁড়িয়ে লিখেছেন, “তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে ভিডিয়োটি মুছে ফেলেছেন, তা হলে এত হইচই কিসের?”